Rabindranather Proti ৫টি Important প্রশ্নের উত্তর একত্রে | ICSE Class 9 Bengali
রবীন্দ্রনাথের প্রতি কবিতাটি ICSE Class 9 Bengali সিলেবাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবিতা। পরীক্ষায় এই কবিতা থেকে প্রায়ই ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, উদ্ধৃতিভিত্তিক প্রশ্ন এবং দীর্ঘ প্রশ্ন আসে। তাই শুধুমাত্র কবিতার সারাংশ পড়লেই যথেষ্ট নয়; গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর নিয়মিত অনুশীলন করাও জরুরি।
এই পর্বে আমরা রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রশ্নোত্তর (Part 1)-এ পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি প্রশ্ন ও বিস্তারিত উত্তর আলোচনা করেছি। প্রতিটি উত্তর সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে যাতে পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশন করা যায়।
Rabindranather Proti: রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: “তোমারে স্মরণ করি আজ এই দারুণ দুর্দিনে/হে বন্ধু, হে প্রিয়তম।”-
(ক) কবিতাটির মূল গ্রন্থের নাম কী?
(খ) ‘তোমারে’ বলতে কবি কার কথা বলেছেন?
(গ) বক্তা কে? তিনি কেন তাঁকে স্মরণ করেছেন?
(ঘ) অবস্থা ‘দারুণ দুর্দিন’ কেন? ২+২+৩+৩
উত্তর: (ক) কবিতাটির মূল গ্রন্থের নাম হল ‘২২শে শ্রাবণ’।
(খ) কবি বুদ্ধদেব বসু এখানে ‘তোমারে’ বলতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা বলেছেন।
(গ) বক্তা হলেন আলোচ্য কবিতার কবি স্বয়ং। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করেছেন। কারণ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়ঙ্কর পরিণতির ফল হল জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকির মতো দুটো শহরের ধ্বংস। চারদিকে শক্তিশালী রাষ্ট্রনায়কদের দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর লোলুপ দৃষ্টি। চারদিকে সামাজিক অসঙ্গতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সঙ্কট। এই বিভীষিকাময় অবস্থায় শান্তি পাওয়ার জন্য কবি বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করেছেন।
(ঘ) মানুষ বিজ্ঞানের অপব্যবহার করে মারণাস্ত্র বানিয়েছে। তাই দিয়ে তারা একে অপরকে হত্যা করার লীলায় মেতে উঠেছে। গোটা পৃথিবীতে এক দারুণ সংকটময় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শক্তিশালী রাষ্ট্রনায়করা অন্যের দেশ দখলের জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘটিয়েছে। মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে চারদিকে দারুণ অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে। মানবসভ্যতা ভয়ংকর, হিংস্র যুদ্ধের করাল গ্রাসে পতিত হয়েছে। এই অবস্থাকেই ‘দারুণ দুর্দিন’ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ২: “রক্তপায়ী উদ্ধত সঙিনে/সুন্দরেরে বিদ্ধ ক’রে, মৃত্যুবহ পুষ্পকে উড্ডীন/ বর্বর রাক্ষস হাঁকে, ‘আমি শ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে বড়ো’-
(ক) বক্তা কে?
(খ) ‘উদ্ধত সঙিন’ কী?
(গ) বর্বর রাক্ষস কে? সে কেন বর্বর?
(ঘ) বর্বর রাক্ষস কেন নিজেকে শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে বড়ো ভাবে? ২+২+৩+৩
উত্তর: (ক) কবি বুদ্ধদেব বসু রচিত ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতা থেকে গৃহীত আলোচ্য পংক্তিটির বক্তা কবি বুদ্ধদেব বসু।
(খ) ‘উদ্ধত’ কথাটির অর্থ হল সোজা বা খাড়া এবং ‘সঙিন’ কথাটির অর্থ হল বন্দুকের আগায় লাগানো ছোরা বা বেয়নেট। বন্দুকের ডগায় ছোটো তরবারির মতো যে অস্ত্রটি খাড়া অবস্থায় থাকে, তাকেই আলোচ্য কবিতায় ‘উদ্ধত সঙিন’ বলা হয়েছে।
(গ) বর্বর রাক্ষস হল চরম ক্ষমতাশালী, স্বার্থপর, স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়করা। তাদের সর্বগ্রাসী লোভ সভ্যজগতের নিয়মকানুন ও মানবিকতার পরিপন্থী। বিশ্বের যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রনায়করা সমরাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিশ্বসভ্যতাকে ধ্বংস করার নেশায় মেতে উঠেছে। তাই তারা বর্বর।
(ঘ) প্রতিটি মানুষ সবসময় ভাবে, সে-ই সবার সেরা, সে কোনও ভুল করতে পারে না। তা কিন্তু ঠিক নয়। তেমনই শক্তিশালী স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়করা বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে ক্ষমতা প্রদর্শন করে ভাবে, তাদের মতো শক্তিশালী আর কেউ নেই। পশুশক্তি ও সমরাস্ত্রের সাহায্যে তারা মৃত্যুবহ পুষ্পক রথে হানা দেয় মানবসভ্যতায়, সুন্দরের অপমৃত্যু ঘটাতে। ধ্বংসের নেশায় মেতে উঠে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে বড়ো ভাবে।
আরও পড়ুন: Rabindranather Proti: কবিতার সারাংশ, টীকা ও ব্যাখ্যা
প্রশ্ন ৩: “দেশে-দেশে সমুদ্রের তীরে তীরে কাঁপে থরোথরো/ উন্মত্ত জন্তুর মুখে জীবনের সোনার হরিণ।”-
(ক) সমুদ্রের দুটি প্রতিশব্দ লেখো।
(খ) ‘দেশে দেশে’, ‘তীরে তীরে’, ‘থরোথরো’-এই জাতীয় শব্দগুলিকে কী বলা হয়?
(গ) উন্মত্ত জন্তু কে? তার মুখে কেন জীবনের সোনার হরিণ?
(ঘ) ‘সোনার হরিণ’ সম্পর্কে টাকা লেখো। ২+২+৩+৩
উত্তর: (ক) সমুদ্রের দুটি প্রতিশব্দ হল রত্নাকর, পারাবার।
(খ) ‘দেশে দেশে’, ‘তীরে তীরে’ হল শব্দদ্বৈত। আর ‘থরোথরো’ হল ধ্বন্যাত্মক অব্যয়।
(গ) চরম ক্ষমতাশালী, স্বার্থপর, স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়কদের ‘উন্মত্ত জন্তু’ বলা হয়েছে। সোনার হরিণ দুর্লভ বস্তু। একে লাভ করার জন্য সকলে উদ্গ্রীব হয়ে থাকে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলির মধ্যে অনেকগুলিই অসম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদে পূর্ণ। তাই তাদের সোনার হরিণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সে-কারণেই স্বার্থপর চরম ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রনায়করা দুর্বল রাষ্ট্রগুলিকে গ্রাস করার জন্য সর্বদা শক্তিশালী জন্তুর মতো হাঁ করে থাকে।
(ঘ) সোনার হরিণ হল কাল্পনিক বা অলীক বস্তু। বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। এটি একটি সমজিক প্রবাদেও পরিণত হয়েছে। রামায়ণে আছে, সীতাকে হরণ করার জন্য মারীচ নামে রাক্ষসকে লঙ্কার রাজা রাবণ আদেশ দিলেন, সে যেন সোনার হরিণের রূপ ধরে রাম ও সীতার কাছে হাজির হয়। সেই কথা অনুসারে মারীচ সোনার হরিণ সেজে সীতার কাছে গেলে সীতা তাকে ধরে আনার জন্য রামচন্দ্রকে অনুরোধ করেন।

প্রশ্ন ৪: “ভারতের স্নিগ্ধ উপকূলে/লুব্ধতার লালা ঝরে।”-
(ক) কার লেখা, কোন কবিতার অংশ?
(খ) ‘ভারতবর্ষ’ সম্পর্কে টীকা লেখো।
(গ) ভারতের স্নিগ্ধতার উপকূলে লুব্ধতার লালা কার ঝরে?
(ঘ) এই লালা কেন ঝরে? ২+৩+২+৩
উত্তর: (ক) এই পংক্তি দুটি বুদ্ধদেব বসুর লেখা ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খ) ভারতবর্ষ এশিয়া মহাদেশের একটি দেশ। এর উত্তরে হিমালয়, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে চিন, জাপান ইত্যাদি, পশ্চিমে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ইত্যাদি। এই দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৪১ কোটি। নানা ধরনের শিল্পসম্পদ ও খনিজ সম্পদে ভারতবর্ষ পরিপূর্ণ। এর রাজধানীর নাম দিল্লি।
(গ) ভারতের স্নিগ্ধতার উপকূলে শক্তিশালী স্বার্থপর স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়কদের লুব্ধতার লালা ঝরে।
(ঘ) ভারতবর্ষ প্রাকৃতিক সম্পদ, শিল্পসম্পদ, অর্থসম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ। এই সম্পদ লুঠ করার জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন সমরনায়ক ও রাষ্ট্রনায়করা এই দেশের দিকে হাত বাড়িয়েছে। এভাবেই নাদির শাহ, তৈমুর লঙ প্রভৃতি শাসক এবং শাহ, হুন প্রভৃতি জাতি যুগে যুগে ভারতের সম্পদ লুঠ করে দেশে নিয়ে গেছে। সবশেষে ইংরেজরা দীর্ঘদিন ধরে এদেশের সম্পদ লুঠ করে দেশে নিয়ে গেছে। ভারতের সম্পদের কারণেই ভারতে উপকূল তথা ভারতের সীমান্তের দিকে তাকিয়ে অনেক রাষ্ট্রনায়কের ‘লুব্ধতার লালা ঝরে’।
প্রশ্ন ৫: “এত দুঃখ, এ দুঃসহ ঘৃণা-/ এ-নরক সহিতে কি পারিতাম, হে বন্ধু,”-
(ক) ‘বন্ধু’ বলে কে, কাকে সম্বোধন করেছে?
(খ) ‘এত দুঃখ’, ‘দুঃসহ ঘৃণা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) ‘এ নরক’ বলতে কবি কোন্ পরিস্থিতিকে বুঝিয়েছেন?
(ঘ) বক্তা কেনই-বা এগুলি সহ্য করতে পারলেন? ২+৩+২+৩
উত্তর: (ক) ‘বন্ধু’ বলে বুদ্ধদেব বসু কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্বোধন করেছেন।
(খ) শক্তিশালী, স্বার্থপর, স্বেচ্ছাচারী রাষ্ট্রনেতার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে দুর্বল রাষ্ট্রগুলির ওপর। সে সর্বদা দুর্বল রাষ্ট্রগুলিকে গ্রাস করার জন্য বিজ্ঞানশক্তির সাহায্য নেয়। বিজ্ঞানের অপব্যবহার করে পৃথিবীতে ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে আর তাতে অনেক নিরীহ লোক মারা যায় যা নৈতিকতার দিক থেকে কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু ওই ক্ষমতালোলুপ রাষ্ট্রনেতারা নিজেকে শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে বড়ো বলে মনে করে। এই অবস্থাকে কবি বুদ্ধদেব বসু দুঃখ, দুঃসহ ঘৃণা, নরক বলে অভিহিত করেছেন।
(গ) ‘নরক’ বলতে পাপীদের নিরন্তর দুঃখভোগের স্থানকে বোঝায়। আলোচ্য অংশে কবি পরাধীনতার দুঃখ-যন্ত্রণাকে বুঝিয়েছেন। বিদেশিদের শোষণ-শাসনে অত্যাচারিত মানুষরা নরকযন্ত্রণা ভোগ করছে বলে কবি মনে করেছেন।
(ঘ) রবীন্দ্রনাথের বাণীকে সম্বল করেই এই দুঃসময়ের যন্ত্রণাকে সহ্য করতে পেরেছেন কবি। সেই বাণীই কবিকে শক্তি জুগিয়েছে সত্য ও সুন্দরের প্রতি বিশ্বাস রাখতে। রবীন্দ্রনাথের অক্ষয়মন্ত্র কবি বুদ্ধদেব বসুর রক্তে মিশে গেছে এবং তাঁর মনের মধ্যেও গেঁথে গেছে। সেই শক্তিতেই কবি এত দুঃখ, এ দুঃসহ ঘৃণা এবং এই নরক যন্ত্রণা সহ্য করতে পেরেছেন।
আশা করি Rabindranather Proti: রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রশ্নোত্তর (Part 1) তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে। এই পর্বে আমরা প্রথম ৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও বিস্তারিত উত্তর আলোচনা করেছি।
📖 পরবর্তী পর্বে (Part 2) থাকছে—
- আরও ৪টি গুরুত্বপূর্ণ রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রশ্নোত্তর
- পরীক্ষায় বারবার আসা উদ্ধৃতিভিত্তিক প্রশ্ন
- গুরুত্বপূর্ণ টীকা ও অতিরিক্ত পরীক্ষার টিপস
রবীন্দ্রনাথের প্রতি কবিতার সম্পূর্ণ প্রস্তুতির জন্য আমাদের Summary, Question Answer Part 1, Part 2 এবং অন্যান্য ICSE Bengali Notes নিয়মিত পড়তে থাকো।

One Comment