রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রশ্নোত্তর Part 2 | ICSE Class 9 Bengali Best Guide| PYQ-সহ উত্তর
রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রশ্নোত্তর Part 2-এ আমরা আরও ৪টি গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রশ্নোত্তর আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলি ICSE পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি Previous Year Question-ও সংযোজিত হয়েছে। যদি এখনও Part 1 না পড়ে থাকো, তাহলে সেটিও অবশ্যই দেখে নাও।
রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রশ্নোত্তর Part 2
প্রশ্ন ৬: “অন্তরে লভেছি তব বাণী/ তাই তো মানি না ভয়, জীবনেরই জয় হবে, জানি।”
(ক) ‘লভেছি’ শব্দের অর্থ কী?
(খ) কে, কার বাণী লাভ করেছে?
(গ) তিনি ভয় করেন না কেন?
(ঘ) জীবনের জয় সম্পর্কে কে, কেন নিশ্চিত হতে পারেন? (২+২+৩+৩)
উত্তর: (ক) ‘লভেছি‘ শব্দের অর্থ লাভ করেছি বা অর্জন করেছি।
(খ) কবি বুদ্ধদেব বসু কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অক্ষয় বাণী লাভ করেছেন।
(গ) কবি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ভীত হননি। কারণ রবীন্দ্রনাথের আদর্শ, মানবতাবাদ এবং অক্ষয় বাণী তাঁর রক্তে ও মর্মমূলে মিশে গেছে। রবীন্দ্রচিন্তা তাঁকে ভয় জয় করার সাহস ও মানসিক শক্তি দিয়েছে। তাই পৃথিবীতে যতই ধ্বংস নেমে আসুক, তিনি বিশ্বাস করেন সত্য ও মানবতার জয় হবেই।
(ঘ) জীবনের জয় সম্পর্কে কবি বুদ্ধদেব বসু নিশ্চিত হতে পেরেছেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস, সত্য, সুন্দর ও মানবতা কখনও সম্পূর্ণ ধ্বংস হতে পারে না। সাময়িকভাবে অসুরশক্তি প্রবল হলেও শেষ পর্যন্ত জীবন, সত্য ও সুন্দরেরই জয় হয়। রবীন্দ্রনাথের অক্ষয় বাণীই কবিকে এই অটল বিশ্বাস দিয়েছে।
📌 রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রশ্নোত্তর Part 2: পরীক্ষার টিপস
এই প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ, অক্ষয় মন্ত্র এবং জীবনের জয়—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে উল্লেখ করলে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
প্রশ্ন ৭: “সভ্যতার শ্মশান-শয্যায়/ সংক্রামিত মহামারি মানুষের মর্মে ও মজ্জায়;/ প্রাণলক্ষ্মী নির্বাসিতা।”
(ক) ‘সভ্যতার শ্মশান-শয্যা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(খ) মহামারি কীভাবে সংক্রামিত হয়েছে?
(গ) মানুষের মর্মে ও মজ্জায় কী হয়েছে?
(ঘ) ‘প্রাণলক্ষ্মী’ কাকে বলা হয়েছে? তিনি কেন নির্বাসিতা? (২+৩+২+৩)
উত্তর: (ক) এখানে ‘সভ্যতার শ্মশান-শয্যা‘ বলতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত মানবসভ্যতার অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। যুদ্ধ, মৃত্যু ও ধ্বংসে পৃথিবী যেন শ্মশানে পরিণত হয়েছিল।
(খ) ক্ষমতালোভী রাষ্ট্রনায়কদের যুদ্ধ, আগ্রাসন এবং বিজ্ঞানের অপব্যবহারের ফলে লোভ, হিংসা ও ধ্বংসপ্রবণতা পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এই অমানবিক মানসিকতাকেই কবি মহামারির সংক্রমণ হিসেবে কল্পনা করেছেন।
(গ) মানুষের মর্ম ও মজ্জায় লোভ, হিংসা ও ক্ষমতালিপ্সা প্রবেশ করেছে। ফলে মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ ক্রমশ ক্ষয় হতে শুরু করেছে।
(ঘ) ‘প্রাণলক্ষ্মী‘ বলতে মানুষের সুন্দর, মানবিক ও মহৎ গুণাবলিকে বোঝানো হয়েছে।
যুদ্ধ, লোভ ও হিংসার কারণে মানুষের হৃদয় থেকে সেই মানবিক গুণাবলি হারিয়ে যাচ্ছে। তাই কবি রূপকভাবে বলেছেন, প্রাণলক্ষ্মী নির্বাসিতা।
📌রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রশ্ন উত্তর: পরীক্ষার টিপস
‘সভ্যতার শ্মশান-শয্যা’, ‘মহামারি’ এবং ‘প্রাণলক্ষ্মী’—এই তিনটিই রূপকধর্মী প্রকাশ। উত্তরে এগুলির প্রতীকী অর্থ লিখলে উত্তর আরও সমৃদ্ধ হবে।

প্রশ্ন ৮: “যদি না/ লিপ্ত হ’তো রক্তে মোর, বিদ্ধ হ’তো গূঢ় মর্মমূলে/ তোমার অক্ষয় মন্ত্র।”
(ক) বক্তা কে?
(খ) কবির রক্তে কী লিপ্ত হয়েছে?
(গ) কবির মর্মমূলে অক্ষয়মন্ত্র বিদ্ধ হওয়ার পরিণাম কী?
(ঘ) মন্ত্রটি অক্ষয় কেন? (২+২+৩+৩)
উত্তর: (ক) আলোচ্য অংশের বক্তা কবি বুদ্ধদেব বসু।
(খ) কবির রক্তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অক্ষয় বাণী ও মানবতাবাদী আদর্শ লিপ্ত হয়েছে।
(গ) রবীন্দ্রনাথের আদর্শ কবির হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত হওয়ায় তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও ভেঙে পড়েননি। তিনি সত্য, সুন্দর ও মানবতার ওপর আস্থা বজায় রাখতে পেরেছেন এবং দুঃসময় অতিক্রম করার শক্তি লাভ করেছেন।
(ঘ) এই মন্ত্র অক্ষয়, কারণ এটি মানুষের প্রতি বিশ্বাস, সত্য, সৌন্দর্য ও মানবতার জয়কে ঘোষণা করে। সময়ের পরিবর্তন হলেও এই আদর্শ কখনও নষ্ট হয় না। তাই রবীন্দ্রনাথের বাণী কবির কাছে চিরন্তন।
📌 পরীক্ষার টিপস:
এই প্রশ্নে ‘অক্ষয় মন্ত্র‘ বলতে রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দর্শন বোঝানো হয়েছে—এটি অবশ্যই উল্লেখ করবে।
আরও পড়ুন: Ginni Golpo Previous Year Questions: গিন্নি গল্প PYQ (২০১৭–২০২৬) একত্রে| ICSE Class 9 Bengali
⭐ ICSE Previous Year Question 2018
“তোমারে স্মরণ করি আজ এই দারুণ দুর্দিনে/ হে বন্ধু, হে প্রিয়তম।”
(ক) বক্তা কে? তিনি কাকে ‘হে বন্ধু, হে প্রিয়তম’ বলে সম্বোধন করেছেন?
(খ) কবিতায় ‘দারুণ দুর্দিন’ বলতে কোন সময়কে বোঝানো হয়েছে?
(গ) কবি কেন প্রিয়তম বন্ধুকে স্মরণ করছেন?
(ঘ) এই দুঃসময় থেকে মুক্তির জন্য কবি কী উপায় ভেবেছেন? (২+২+৩+৩)
উত্তর: (ক) বক্তা কবি বুদ্ধদেব বসু। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘হে বন্ধু, হে প্রিয়তম’ বলে সম্বোধন করেছেন।
(খ) ‘দারুণ দুর্দিন‘ বলতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ সময়কে বোঝানো হয়েছে। যুদ্ধ, ধ্বংস, লোভ, হিংসা ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ে পৃথিবী তখন সংকটময় অবস্থায় পৌঁছেছিল।
(গ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যে মানসিক শক্তি ও আশার আলো খুঁজে পাওয়ার জন্য কবি রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী বাণীই মানুষকে এই অন্ধকার সময় থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে।
(ঘ) কবি মনে করেন, রবীন্দ্রনাথের অক্ষয় মন্ত্র ও মানবতার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করাই এই দুঃসময় থেকে মুক্তির একমাত্র পথ। তাঁর বিখ্যাত আশাবাদী বাণী—“নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়”—কবিকে সাহস ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
⭐ রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রশ্ন উত্তর ICSE পরীক্ষার টিপস (2027):
এই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্যই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ, অক্ষয় মন্ত্র, এবং জীবনের জয়—এই চারটি মূল পয়েন্ট উল্লেখ করবে। এগুলি লিখলে উত্তর আরও পূর্ণাঙ্গ ও পরীক্ষোপযোগী হবে।
রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রশ্নোত্তর (Part 2) এখানেই শেষ। এখন পুরো অধ্যায়ের পূর্ণ প্রস্তুতির জন্য নিচের নোটগুলিও অবশ্যই দেখে নাও—
- ✅ রবীন্দ্রনাথের প্রতি সারাংশ ও বিশ্লেষণ
- ✅ রবীন্দ্রনাথের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (Part 1)
- ✅ রবীন্দ্রনাথের প্রতি MCQ ও সাজেশন
- ✅ ICSE Class 9 Bengali অন্যান্য কবিতা ও গল্পের প্রশ্নোত্তর
BengaliNotes.in-এ আমরা ধারাবাহিকভাবে ICSE Class 9 Bengali-এর প্রতিটি অধ্যায়ের সারাংশ, ব্যাখ্যা, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, MCQ এবং Previous Year Questions প্রকাশ করছি। তাই নিয়মিত ভিজিট করতে ভুলবে না।

One Comment