Lalu Golpo Question Answer: ‘লালু’ গল্পের ৬টি Most Important প্রশ্নোত্তর | ICSE Class 9 Bengali (২০২৬)
Lalu Golpo Question Answer খুঁজছেন? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। এখানে ICSE Class 9 Bengali-এর ‘লালু’ গল্পের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পরীক্ষার নম্বর বিভাজন অনুযায়ী সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উত্তর বোর্ড পরীক্ষার উপযোগী করে সাজানো হয়েছে যাতে শেষ মুহূর্তের রিভিশনেও সুবিধা হয়। আপনি যদি লালু গল্প প্রশ্ন উত্তর, Lalu Golpo Important Questions, অথবা ICSE Class 9 Bengali Question Answer খুঁজে থাকেন, তাহলে এই নোটটি সম্পূর্ণ পড়ুন।
Lalu Golpo Question Answer: এই পোস্টে যা থাকছে
✅ ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
✅ বোর্ড পরীক্ষার নম্বর বিভাজন
✅ সহজ ভাষার উত্তর
✅ দ্রুত রিভিশনের জন্য উপযোগী
📘 Exam Tips
Lalu Golpo Question Answer: এই প্রশ্নগুলি ৫+৫ অথবা ১০ নম্বরের প্রশ্ন হিসেবে পরীক্ষায় আসতে পারে।
প্রশ্ন ১: “তিনি পা মচকে প্রায় সাত-আটদিন খুঁড়িয়ে চলতেন।”-(ক) উদ্ধৃতিটিতে উল্লেখিত ‘তিনি’ কে? (খ) কী কারণে তিনি পা মচকে খুঁড়িয়ে চলতেন? (গ) এই ঘটনায় তিনি কী করতে উদ্যোগ নেন? (ঘ) কীভাবে তার সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়? ২+৩+২+৩
উত্তর: (ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘লালু’ গল্প থেকে নেওয়া প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটিতে উল্লেখিত ‘তিনি’ হলেন গল্পের প্রধান চরিত্র লালুর মা।
(খ) লালুর মাথায় মানুষকে জব্দ করার নানান কৌশল থাকত। সেই কৌশলের প্রয়োগ করে লালু একটি রবারের সাপ আনে। স্বভাব-ভীত লালুর মা আচমকা সেই সাপ দেখে ভয় পান। তাতেই তাঁর পা মচকে যায়। মচকানো পায়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে না-পারার কারণে তিনি খুঁড়িয়ে চলতেন।
(গ) লালুর এই ভয় দেখানোর ঘটনায় লালুর মা তাকে জব্দ করার জন্য বাড়িতে মাস্টার রাখার মতলব করেন। রাগ করে লালুর বাবাকে বলেন লালুর জন্য একজন মাস্টার ঠিক করে দিতে। সন্ধেবেলায় মাস্টার এসে পড়াতে বসবেন, ফলে সে আর উপদ্রব করার সময় পাবে না।
(ঘ) লালুর বাবা লালুর (Lalu Golpo Question Answer) মায়ের প্রস্তাবে রাজি হননি। প্রস্তাব করা মাত্রই নাকচ করে দেন। নিজের সঙ্গে তুলনা করে জানান-তাঁর নিজের কখনও মাস্টার ছিল না। নিজের চেষ্টায় লেখাপড়া শিখে তিনি নামকরা উকিল হয়েছেন। তাঁর ইচ্ছে, ছেলেও ঠিক একইভাবে কষ্ট করে লেখাপড়া শিখে বড়ো উকিল হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষক রাখা হবে না। তবে একটা শর্ত দিয়ে বলেন-যে-বার লালু ক্লাসের পরীক্ষায় প্রথম হতে পারবে না, তখন থেকে বাড়িতে পড়ানোর টিউটর রাখা হবে। লালুর বাবা এই কথা বলায় লালুর মা আর কিছু বলতে পারেন না। ফলে লালুর বাবার যুক্তিগ্রাহ্যসম্মত কারণে লালুর মায়ের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। লালুর জন্য বাড়িতে গৃহশিক্ষক রাখা সম্ভব হয় না। তার সব আয়োজন-চেষ্টা বিফল হয়।
প্রশ্ন ২: “তিনি বৃদ্ধ, ফরিদপুর থেকে এতদূরে আসতে রাজি হন না।”- (ক) ‘তিনি’ কে? (খ) তিনি কোথায় আসতে রাজি হন না? (গ) কোন্ ঘটনাক্রমে শেষপর্যন্ত তিনি ‘এতদূরে’ আসতে চেয়েছিলেন? (ঘ) তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বাড়ির কর্ত্রীর যে উদ্যোগ, তার বর্ণনা দাও। ২+২+৩+৩
উত্তর: (ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘লালু’ গল্প থেকে সংকলিত আলোচ্য উদ্ধৃতিটির ‘তিনি’ হলেন-লালুর মা নন্দরানীর গুরুদেব। স্মৃতিশাস্ত্রে পণ্ডিত বলে তাঁকে ‘স্মৃতিরত্ন’ হিসেবেও গল্পে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খ) স্মৃতিরত্ন তথা নন্দরানীর গুরুদেব এতদূরে লালুদের বাড়ি আসতে রাজি হন না।
(গ) একবার সুযোগমতো গুরুদেব লালুদের বাড়িতে আসতে সম্মত হন। চিঠি মারফত নন্দরানীকে খবর পাঠান যে, তিনি সূর্যগ্রহণ উপলক্ষ্যে কাশী এসেছেন। কাশী থেকে ফেরার পথে তিনি নন্দরানীকে আশীর্বাদ করে যাবেন। সুতরাং, সূর্যগ্রহণ উপলক্ষ্যে কাশী আগমনকে কেন্দ্র করে তিনি শেষপর্যন্ত ফরিদপুর থেকে ‘এতদূরে’ আসতে সম্মত হয়েছিলেন।
(ঘ) গুরুদেবের (Lalu Golpo Question Answer) আগমন বার্তা পেয়ে নন্দরানীর আনন্দ ধরে না। পত্রপাঠ তিনি সব আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি মনে করেন-এতদিনে তার মনস্কামনা সিদ্ধ হবে, গুরুদেবের পায়ের ধুলো পড়বে। বাড়িটা পবিত্র হয়ে যাবে। নিজের হাতে তিনি গুরুদেবের সেবাশুশ্রুষার উদ্যোগ নেন। পুরানো বাড়িটাকে ভেঙে তেতলা করায় তিনি বুঝতে পারেন, গুরুদেবের উপরে উঠতে কষ্ট হবে। তাই তাঁর জন্য নীচের তলাতেই সব রকমের আয়োজন করা হয়। নীচের ঘরের সব আসবাবপত্র সরানো হয়। গুরুদেবের জন্য নতুন ফিতের খাট, নতুন বিছানাপত্র তৈরি করা হয়।
এই ঘরেরই এক কোণে গুরুদেবের পুজো-আহ্নিকের ব্যবস্থা করা হয়। মোট কথা দীর্ঘকাল পরে আসতে চাওয়া গুরুদেবকে সন্তষ্ট রাখার জন্য নন্দরানী যাবতীর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর দৈহিক সখশান্তির কথা ভেবে নীচের ঘরে সবকিছর ব্যবস্থা করেন। সুকোমল শয্যা প্রস্তুত করে গুরুদেবকে পরম সুখে রাখবার চেষ্টা করেন তিনি।

প্রশ্ন ৩: “কিন্তু গভীর রাতে অকস্মাৎ তাঁর ঘুম ভেঙে গেল।”- (ক) কার ঘুম ভেঙে গেল? (খ) এখানে কোন্ রাতের কথা বলা হয়েছে? (গ) ঘুম ভাঙার পর তিনি প্রাথমিকভাবে কী করলেন? (ঘ) অবশিষ্ট রাত তাঁর কীভাবে কটিল? ২+২+৩+৩
উত্তর: (ক) ‘লালু’ গল্প থেকে প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিতে লালুর মা নন্দরানীর গুরুদেব তথা স্মৃতিরত্নের ঘুম ভেঙে গেল।
(খ) দীর্ঘদিন পর সূর্যগ্রহণ উপলক্ষ্যে গুরুদেব কাশি এসেছেন। ফেরার পথে তিনি নন্দরানীকে আশীর্বাদ করতে লালুদের বাড়ি এলেন। ফরিদপুর ফেরার পথে তাঁর এখানে আসার দিনটি ছিল অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ। আকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘের ঘনঘটা। ঝড়বৃষ্টির বিরাম নেই, অনবরত জলধারা পড়ে চলেছে। তারই মাঝে গুরুদেব উপস্থিত হলেন। সেই রাতে গুরুদেব আহারাদি সেরে নন্দরানী-চর্চিত সুকোমল শয্যায় গা এলিয়ে দিলেন। এখানে দুর্যোগপূর্ণ ঝড়বৃষ্টির রাতের কথাই বলা হয়েছে।
(গ) ঘুম ভাঙার পর গুরুদেব প্রাথমিকভাবে শশব্যস্ত হয়ে বিছানার বাইরে এলেন। পেটের উপর বরফ ঠান্ডা জল পড়ছে। আধমিনিট যেতে-না-যেতেই ঠান্ডা জল আবার পেটের ঠিক সেই স্থানে এসে পড়ছে। দুটো চোখ বুজে আসা মাত্র আবার সেই ঘটনায় গুরুদেব উঠে বসলেন। খাট টেনে অন্য দিকে নিয়ে গেলেন। আবার শুলেন, আবার পেটের ওপর জল পড়ল। যেদিকে যান সেখানেই একই ঘটনা। এভাবে চলার পর একসময় দেখলেন বিছানাটাও ভিজে গেছে। আর শোয়ার উপায় নেই। স্মৃতিরত্ন পড়লেন মহাবিপদে। মনে প্রাণরক্ষার সংশয় দেখা দিল। এদিকে বুড়ো মানুষ দরজা খুলে বাইরেও যেতে পারছেন না। আবার ঘরে থাকাও বিপজ্জনক; ছাতটা যদি ভেঙে মাথায় পড়ে। তবুও ভয়ে ভয়ে বাইরে এলেন।
(ঘ) গুরুদেব বাইরে এসে দেখলেন বারান্দায় একটা লণ্ঠন জ্বলছে বটে কিন্তু কেউ কোথাও নেই। চারিদিকে ঘোর অন্ধকার। বারান্দার একদিকে একটা বেঞ্চ পেয়ে গুরুদেব তাতেই বসলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ চুপচাপ বসে থাকতে পারলেন না। মশার দল এসে হামলে পড়ল। গুরুদেব হাত-পা ও গামছা সঞ্চালন করে মশা তাড়াবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। অগণিত মশা তাড়াতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ গুরুদেব স্থান ত্যাগ করেও মশার কামড় থেকে রেহাই পেলেন না। এপাশ-ওপাশ ছুটে বেড়াতে লাগলেন। শেষে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে বলে উঠলেন- “কামড়া ব্যাটারা যত পারিস, কামড়া, -আমি আর পারিনে”।
এ কথা বলে বারান্দার এককোণে পিঠ ঠেকিয়ে বসে পড়লেন। বললেন-সকাল পর্যন্ত প্রাণটা থাকলে এই দুর্ভাগা দেশে আর থাকা নয়। প্রথম গাড়িতেই দেশে পালাবেন। তারপর অবসন্ন গুরুদেব একসময় ঘুমিয়ে পড়লেন। গল্পকারের বর্ণনায়- “দেখতে দেখতে সর্বসস্তাপহর নিদ্রায় তাঁর সারারাত্রির সকল দুঃখ মুছে দিলে, স্মৃতিরত্ন অচেতনপ্রায় ঘুমিয়ে পড়লেন।” এইভাবেই গুরুদেব অবশিষ্ট রাত কাটালেন।
প্রশ্ন ৪: “গুরুদেব অগত্যা তাতেই বসলেন।”- (ক) ‘গুরুদেব’ কে? (খ) তিনি কোথায় বসলেন এবং কেন? (গ) সেখানে তাঁর কী অভিজ্ঞতা হল? (ঘ) তাঁর এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কী সিদ্ধান্ত নিলেন? ২+৩+৩+২
উত্তর: (ক) ‘গুরুদেব’ হলেন লালুর মা নন্দরানীর ঈশ্বর-মন্ত্রদাতা। তিনি ফরিদপুর নিবাসী স্মৃতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ।
(খ) তিনি লালুর বাবার কাছে আসা গরিব মক্কেলদের জন্য বারান্দায় রাখা একটি বেঞ্চের ওপর গিয়ে বসলেন। দুর্যোগ মাথায় নিয়ে লালুদের (Lalu Golpo Question Answer) বাড়িতে আসা গুরুদেবকে পরম আদর-যত্নে তাদের তেতলা বাড়ির একতলার বড়ো ঘরে নতুন বিছানায় ঘুমোতে দেওয়া হল। কিন্তু কোনো-এক অজ্ঞাত কারণে গভীর রাতে তার পেটে বরফ-ঠান্ডা জল পড়তে লাগল। গুরুদেব ভাবলেন, হয়তো-বা ছাত চুঁইয়ে মশারি ভেদ করে এই জল পড়ছে। তাড়াতাড়ি মশারির বাইরে এসে পেটটা মুছলেন। তারপর ফিতের খাটটাকে ঘরের অন্য কোণায় নিয়ে গেলেন। আবার শুয়ে পড়লেন।
আধ মিনিটের বেশি গেল না, আবার দু-চার ফোঁটা ঠান্ডা জল টপটপ করে পেটের ঠিক সেই জায়গায় এসে পড়ল। স্মৃতিরত্ব আবার উঠলেন-আবার খাট সরালেন। আবার শুয়ে পড়লেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই একই বিপত্তি। খাটটা টেনে যেখানেই নেন সেখানেই জলের ফোঁটা এসে তাঁর পেটে পড়ে। গুরুদেব নিজের মনে বললেন-নন্দরানী নতুন বাড়ি করলেও পশ্চিমের কড়া রোদে ছাতটা আগামাথা ফেটে গেছে। কিছু সময় পর দেখলেন বিছানাও বেশ খানিকটা ভিজে গেছে। আর শোয়ার কোনো উপায় নেই। গুরুদেব বিপদে পড়লেন।
এদিকে তিনি বুড়ো মানুষ। অচেনা, অজানা জায়গায় বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। আবার ছাত ভেঙে পড়ার সম্ভাবনার কথা ভেবে ভিতরেও থাকতে চাইছেন না। শেষে ভয়ে ভয়ে বারান্দায় এলেন। দেখলেন বারান্দায় একটা লণ্ঠন জ্বলছে। কিন্তু কেউ কোথাও নেই। চারিদিক ঘোর অন্ধকার। এদিকে বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। দাঁড়াবার উপায় নেই। চাকরেরা কোথায় থাকে তিনি জানেন না। চেঁচিয়ে ডাক দিলেন কিন্তু কারও সাড়া মিলল না। এই কারণে নিতান্ত নিরুপায় হয়ে গুরুদেব বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসতে বাধ্য হলেন।
(গ) সেখানে অর্থাৎ দরিদ্র মক্কেলদের জন্য রাখা বেঞ্চিতে বসে তিনি উপলব্ধি করলেন তাঁর আত্মমর্যাদা যথেষ্ট লাঘব হল। তবুও আরামে কোঁচার খুট গায়ে জড়িয়ে বেঞ্চে পা তুলে বসে পড়লেন। কিন্তু হঠাৎ মশার উপদ্রবে প্রাণ ওষ্ঠাগত হল তাঁর। তিনি হাত-পা ও গামছা সঞ্চালন করে মশা তাড়াবার ব্যর্থ চেষ্টা করলেন।
(ঘ) দুর্যোগপূর্ণ রাতের একদিকে ছাত ফুটো হয়ে পড়া বৃষ্টির জল আর অন্যদিকে মশার তীব্র কামড়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা লাভের পর তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন-সকাল পর্যন্ত প্রাণটা থাকলে এই দুর্ভাগা দেশে আর থাকবেন না। যে গাড়ি প্রথম পাবেন, তাতে করেই এ দেশ ছেড়ে পালাবেন।
‘লালু’ গল্পের ৬টি Most Important প্রশ্নোত্তর PDF Download করুন

প্রশ্ন ৫: “নীচে নেমে এলেন, দেখেন”- (ক) নীচে নেমে কে, কী দেখলেন? (খ) তিনি কী ভেবে ‘ভোর না হতেই’ উঠেছিলেন? (গ) শেষপর্যন্ত তার কী অবস্থা হল? (ঘ) গুরুদেবের অবস্থার জন্য তিনি কাকে দোষী সাব্যস্ত করলেন। এরপর তিনি কী করলেন? ৩+৩+২+২
উত্তর: (ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘লালু’ গল্পের উদ্ধৃতি অনুযায়ী লালুর মা সকালবেলা নীচে নেমে প্রথমেই দেখলেন গুরুদেবের ঘর খোলা। এই অবস্থায় গুরুদেব আগেই উঠেছেন ভেবে তিনি একটু লজ্জিত হলেন। তারপর ঘরের মধ্যে মুখ বাড়িয়ে দেখলেন গুরুদেব সেখানে নেই। কী ব্যাপার-বোঝার চেষ্টা করতে লাগলেন। তিনি দেখলেন দক্ষিণ দিকের খাট উত্তর দিকে। গুরুদেবের ক্যাম্বিসের ব্যাগ জানালায় নেই। ঘরের মাঝখানে পড়ে। কোষাকুষি, ঠাকুরের আসনসহ পূজা-আহ্নিকের জিনিসপত্র সবই এলোমেলো ছড়ানো। কোনো কিছুই নির্দিষ্ট জায়গায় নেই।
জিনিসপত্রের স্থানচ্যুতির কারণ তিনি কিছুই বুঝলেন না। এরপর বাইরে এলেন। চাকরদের ডাকলেন। তারা তখনও কেউ ওঠেনি। গুরুদেব কোথায় গেলেন কিছুই উপলব্ধি করতে পারলেন না। হঠাৎ বারান্দার একটা কোণে চোখ পড়ল। ভালো করে নজর করলেন। অন্ধকারে আবছা আলোয় মানুষের মতো কী একটা বসে। সাহসভরে কাছে গেলেন। একটু ঝুঁকে দেখলেন তাঁর গুরুদেবই ওভাবে অসহায়ভাবে বসে আছেন।
নন্দরানী অব্যক্ত ‘ঠাকুরমশাই। ঠাকুরমশাই।’ বলে আর্তনাদ করে উঠলেন। স্মৃতিরত্নমশাইও ঘুম ভেঙে চোখ মেলে তাকালেন। সোজা হয়ে বসলেন। ভয়ে-ভাবনায় নন্দরানী কেঁদে ফেললেন। লজ্জায় আত্মধিকারে জিজ্ঞাসা করলেন- “ঠাকুরমশাই, আপনি এখানে কেন?”
(খ) ‘ভোর না হতেই’ ঘুম থেকে উঠে নন্দরানী ভেবেছিলেন-তাড়াতাড়ি গুরুদেবের পরিচর্যায় নামতে হবে। রাত্রে গুরুদের সামান্য মাত্র আহার করেছেন। বিষয়টি গুরুতর হলেও নন্দরানীর আশানুরূপ ছিল না। মনে মনে তাঁর ক্ষোভ ছিল। অল্প সময়ে খাওয়া তেমন ভালো হয়নি। তাই দিনের বেলায় নানা উপাচারে ভরিয়ে তার পূর্ণতা দিতে হবে। সেই আহার্য সামগ্রীর দ্বারা গুরুদেবের পরিচর্যা করার অভিপ্রায়ে নন্দরানী ভোর না-হতেই উঠে পড়েছিলেন। স্বামীর উদ্দেশ্যে হাঁক পেড়ে বললেন- “হয় তোমার ওই লেলোকে বাড়ি থেকে তাড়াও, না হয় আজই আমি গঙ্গায় ডুব দেব।”
(গ) শেষপর্যন্ত নন্দরানী ভয়ে, ভাবনায় ও লজ্জায় কেঁদে ফেললেন। তিনি নিজেকে মহাপাতক ভাবতে লাগলেন। এ-মহাপাতকের প্রায়শ্চিত্ত করব।”
(ঘ) গুরুদেবের এই চরম অবস্থার জন্য তিনি নিজের ছেলে লালুকে দোষী সাব্যস্ত করলেন। মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরদের উদ্দেশ্যে বললেন-“হারামজাদা লেলো কোথায়? কাজকর্ম চুলোয় যাক গে।” স্বামীকে জানালেন যে, এ দস্যি ছেলেকে নিয়ে ঘর করা সম্ভব নয়।
প্রশ্ন ৬: “কিন্তু বলতে বলতেই তাঁর সহসা মনে হলো”- (ক) কার, কী মনে হল? (খ) কোন্ প্রসঙ্গে তাঁর এমন মনে হল? (গ) এরকম মনে হওয়ার পর তিনি কী করলেন? (ঘ) অবস্থা দেখার পর তিনি কী করলেন? ২+৩+৩+২
উত্তর: (ক) গুরুদেবের এই চরম হেনস্তার ব্যাপারে লালুর মা নন্দরানীর মনে হল ব্যাপারটা হয়তো তার শয়তান ছেলে লালুর শয়তানি বুদ্ধি।
(খ) গুরুদেব আসার পর রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে সবাই ঘরে ঘুমোতে গেলে স্মৃতিরত্নমশায়ও পরিপাটি সুকোমল শয্যায় গা এলিয়ে মনে মনে নন্দরানীকে আশীর্বাদ করে নিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেন। হঠাৎ মাঝরাতে পেটের ওপর বরফ ঠান্ডা জল পড়ায় তিনি মনে করলেন ছাত ফেটে বর্ষার জল পড়ছে। খাট সরিয়েও রেহাই পেলেন না। যেখানে যান সেখানেই জল পড়ে। শেষে ছাত ভেঙে পড়ার ভয়ে তিনি ঘরের বাইরে বেরিয়ে এলেন। চেঁচিয়ে ডাকলেন কিন্তু কারও কোনো সাড়া নেই।
ঘন অন্ধকারে বারান্দায় লালুর (Lalu Golpo Question Answer) বাবার গরিব মক্কেলদের বসার বেঞ্চিতে আত্মমর্যাদা লাঘব করে বসলেন। কিন্তু সেখানে মশার উৎপাত। শেষে মশাদের কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে যতটা সম্ভব পিঠ বাঁচিয়ে এক সময় ঘুমিয়ে পড়লেন। এদিকে সকাল হল। ভোর হতেই নন্দরানী গুরুদেবের সকল পরিচর্যার জন্য নীচে নেমে গুরুদেবের ঘরে গিয়ে দেখলেন সব কিছু লণ্ডভণ্ড। গুরুদেবের দেখা নেই।
শেষে বারান্দার এক কোণে গুরুদেবকে আবিষ্কার করলেন। তিনি ভয়ে ভাবনায় লজ্জায় কেঁদে ফেলে গুরুদেবের এরকম দশার কারণ জানতে চাইলেন। স্মৃতিরত্ন মশাই অকপটে বললেন-নতুন বাড়ি করলেও ছাত কোথাও আর আস্ত নেই। সারারাতের বৃষ্টি-বাদল তো আর বাইরে পড়েনি সবই তাঁর গায়ের ওপর পড়েছে। গুরুদেবের দুরবস্থার কথা শুনতে শুনতে নন্দরানীর এমনটি মনে হল।
(গ) গুরুদেবের মুখ থেকে তাঁর দুরবস্থার সমূহ বর্ণনা শুনে অশ্রুসজল কণ্ঠে নন্দরানী বলে উঠলেন- “কিন্তু বাবা বাড়িটা যে তেতলা, আপনার ঘরের ওপর আরও যে দুটো ঘর আছে, বৃষ্টির জল তিন-তিনটে ছাদ ফুঁড়ে নামবে কি করে?” এরপর তিনি ঘরে গিয়ে ঠাকুরমশাইয়ের বিছানা হাতড়ে দেখলেন বিছানার মাঝখানে চাদর অনেকখানি ভিজে গেছে। মশারি বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরছে। তিনি তাড়াতাড়ি নামিয়ে দেখলেন-ন্যাকড়ায় বাঁধা এক চাঙড় বরফ। তখনও সবটা গলেনি। এক টুকরো বাকি আছে।
(ঘ) গুরুদেবের বিছানা দেখার পর নন্দরানী পাগলের মতো ছুটে বাইরে এলেন। চাকরদের যাকে সামনে পেলেন চেঁচিয়ে হুকুম দিলেন, “হারামজাদা লেলো কোথায়? কাজকর্ম চুলোয় যাক গে, বজ্জাতটাকে যেখানে পাবি মারতে মারতে ধরে আন।”

📚 আরও পড়ুন
➡ লালু MCQ
➡ লালু চরিত্র বিশ্লেষণ
➡ লালু Previous Year Questions
‘লালু’ গল্পের ৬টি Most Important প্রশ্নোত্তর PDF Download করুন
আমাদের সব নোটসের দ্রুত আপডেট, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, নোটসের পিডিএফ পেতে যুক্ত হোন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে। সঙ্গে থাকবে ফাইনাল পরীক্ষার আগে অনলাইন মকটেস্টের সুবিধাও।
