Ginni Golpo Important Questions: ICSE Class 9 ‘গিন্নি’ গল্পের আরও ৪টি Most Important প্রশ্নোত্তর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গিন্নি’ গল্পটি ICSE Class 9 Bengali-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাহায্য করার জন্য আমরা ইতিমধ্যেই Ginni Golpo Important Questions সিরিজের প্রথম পর্বে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর আলোচনা করেছি। যদি সেই প্রশ্নোত্তরগুলি এখনও না পড়ে থাকো, তাহলে আগে সেগুলি দেখে নেওয়ার পরামর্শ রইল।
এই পর্বে আমরা ‘গিন্নি’ গল্পের আরও ৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর তুলে ধরলাম, যেগুলি পরীক্ষার জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরগুলি সহজ ভাষায় লেখা হয়েছে যাতে তোমরা দ্রুত রিভিশন করতে পারো এবং ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্নের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে পারো।
আগের পর্ব পড়ুন: Ginni Golpo Question Answer: ICSE Class 9 ‘গিন্নি’ গল্পের ৬টি Most Important প্রশ্নোত্তর
Ginni Golpo Important Questions (Part 2)
প্রশ্ন: ১। “পুরাকালের মতো গুরু-শিষ্যের সম্বন্ধ আর নাই”।
ক) কাকে দেখলে বালকদের এমন অবস্থা হত?
খ) তাঁর চেহারার বর্ণনা দাও।
খ) তাঁর বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ কর।
ঘ) একথার দ্বারা বক্তার কোন্ মনোভাব ফুটে ওঠে?
উত্তর: ক) বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিবনাথ পণ্ডিতকে দেখে বালকদের এমন অবস্থা হত। শিবনাথ পণ্ডিতের কড়া কথা, বিদ্রুপ এবং রূঢ় আচরণের জন্যই বালকদের এমন মনে হত।
খ) শিবনাথ পণ্ডিতের মাথায় ছোট করে ছাঁটা চুল, টিকি ছোট। আর তাঁর গোঁফদাড়ি সম্পূর্ণ কামানো ছিল। তাঁকে দেখেই ছাত্রদের বুকের ভিতরটা শুকিয়ে যেত। তাঁদের কাছে শিবনাথ পণ্ডিত ছিলেন সাক্ষাৎ যমরাজ।
গ) শিবনাথ পণ্ডিত ছাত্রদের কিল, চড় যেমন মারতেন, কটূভাষণে ছাত্রদের প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলতেন। ফলে এক কথায় ছাত্ররা তাঁকে যমের মতো ভয় করত। এমনকি যমের দুয়ারে যেন তিনি তাড়াতাড়ি চলে যেতে পারেন এই কামনাও করত ছাত্ররা। বালকদের পীড়নের পাশাপাশি, তিনি তাদের ব্যঙ্গাত্মক নামও দিতেন। এই বিকৃত নাম দেওয়াতে ছাত্ররা খুবই ক্ষুণ্ন হত, কিন্তু পণ্ডিত মনে মনে অদ্ভুত এক আনন্দ পেতেন। ছোট ছেলেমেয়েদের মনের ক্ষতের কথা খেয়ালও রাখতেন না শিবনাথ পণ্ডিত।
ঘ) শিবনাথ মনে করতেন আগেকার সময়ের মতো গুরু ও শিষ্যের অর্থাৎ শিক্ষক ও ছাত্রদের সম্পর্ক নেই এখন। এ কথার মধ্যে দিয়ে শিবনাথের প্রাচীনপন্থী ও রক্ষণশীল মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে। তবে তাঁর সময়ে এই কথাটা খাটে না। কারণ তাঁর ছাত্ররা গুরুকে শ্রদ্ধা করত না, বরং অনেক বেশি ভয় করত। আর শিবনাথও মনে মনে ছাত্রদেরকে শ্রদ্ধা না করার জন্য দোষারোপ করতেন, অথচ নিজেকে সহানুভূতিশীল করে তোলার চেষ্টা করতেন না।
প্রশ্নঃ ২। “একটি গেটওয়ালা লোহার রেলিঙের মধ্যে আশুদের বাড়ির গাড়িবারান্দা।“
ক) কোথায় আশুদের গাড়িবারান্দা ছিল?
খ) আশু যেদিন বোনের সঙ্গে গাড়িবারান্দায় বসে খেলছিল, সেদিন আকাশের অবস্থা কেমন ছিল?
গ) খেলার সময় তারা কীসের আয়োজনে ব্যস্ত ছিল? কে, কাকে, কী ব্যাপারে পৌরোহিত্য করতে বলে?
ঘ) আশুদের খেলার কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর: ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গিন্নি’ (Ginni Golpo Important Questions) গল্পে দেখা যায়, একটা গেটওয়ালা লোহার রেলিঙের মধ্যেই আশুদের বাড়ির গাড়িবারান্দা ছিল। আসলে গাড়িবারান্দা বলতে একটা পাকা ছাদের মতো জায়গা যেখানে বাড়ির মূল দরজাও থাকে আবার গাড়িও এসে দাঁড়াতে পারে, তেমন জায়গাকে বোঝায়।
খ) আশু সেদিন স্কুলে যায়নি, গাড়িবারান্দায় বসে বোনের সঙ্গে পুতুলের বিয়ে খেলছিল। সেদিন আকাশ ছিল ঘন মেঘে ঢাকা। তারপরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমেছিল। যে যেদিকে ছিল সকলে পালিয়ে গিয়েছিল বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য। আর মেঘের অন্ধকার, তুমুল বৃষ্টি কোনো কিছুই আশুর মনে প্রভাব ফেলেনি। ছুটির দিনে সে এক মনে বোনের সঙ্গে পুতুলের বিয়ের তোড়জোড় করছিল।
গ) খেলার সময় তারা পুতুলের বিয়ের আয়োজনে ব্যস্ত ছিল। আর সেই পুতুলের বিয়ের পৌরোহিত্য কে করবে তা নিয়ে চিন্তায় ছিল দু’জনে। বৃষ্টি থেকে বাঁচটে সেই সময় আশুদের বাড়ির গাড়িবারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন শিবনাথ পণ্ডিত। আশুর বোন তাঁকে চেনে না। তাই তাঁকে সামনে পেয়ে তাঁকেই সে পুতুলের বিয়ের পুরোহিত হতে বলে।
ঘ) আশুর বোন শিবনাথ পণ্ডিতকে না চিনলেও আশু যখন তাঁকে দেখল, তাঁর মন থেকে এতক্ষণের সমস্ত আনন্দ এক নিমেষে দূর হয়ে গেল। শিবনাথ পণ্ডিতকে দেখা মাত্রই আশু এক দৌড়ে ঘরের ভিতরে চলে যায়। আর সেদিনের মতো তাদের খেলা ভেঙে যায়। ছুটির দিনটা শিবনাথ পণ্ডিতের কারণে ‘মাটি হয়ে যায়’।
আগের পর্ব পড়ুন: Ginni Golpo Question Answer: ICSE Class 9 ‘গিন্নি’ গল্পের ৬টি Most Important প্রশ্নোত্তর

প্রশ্নঃ ৩। “পড়াশুনা সম্বন্ধে তাহার আর কোনো ত্রুটি ছিল না, কেবল এক-একদি ক্লাসে আসিতে বিলম্ব হইত এবং শিবনাথ পণ্ডিত তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেে কোনো সদুত্তর দিতে পারিত না।”
ক) পড়াশোনা সম্বন্ধে কার কোনো ত্রুটি ছিল না?
খ) কে এক-একদিন ক্লাসে বিলম্ব করে আসত? ছুটির পরদিন আশু মসীচিহ্নির কাপড়ের থলির মধ্যে কী নিয়ে এসেছিল?
গ) আশুর জীবনের লজ্জাজনক ঘটনা কী ছিল?
ঘ) আশুর সংকুচিতভাবে প্রবেশ করার কারণ কী?
উত্তর: ক) আলোচ্য উক্তিটিতে আশুর কথা বলা হয়েছে। পড়াশোনা সম্বন্ধে তাঁর চেষ্টার কোনও ত্রুটি ছিল না।
খ) আশু একেক দিন ক্লাসে দেরি করে আসত। ছুটির পরের দিন আশু মসীচিহ্নিত কাপড়ের থলির মধ্যে পড়ার বই নিয়ে এসেছিল।
গ) গল্পে লেখক বলেছেন আশুর জীবনের সবথেকে লজ্জাজনক ঘটনা ছিল তার বোনের সঙ্গে পুতুলের বিয়ে খেলা। কারণ সেদিনের ঘটনা দেখে ফেলার পরেই শিবনাথ পণ্ডিত আশুর মেয়েলি স্বভাবকে বিদ্রুপ করতে তাঁকে সারা ক্লাসের ছেলেদের মধ্যে ‘গিন্নি’ (Ginni Golpo Important Questions) নাম দেন। আর এই নাম আশুর সারা জীবনের এক লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্লাসের অন্য ছেলেরা তাঁকে যেভাবে বিদ্রুপ করছিল এই নাম নিয়ে, তাতে বালক আশুর মনে এক গভীর ক্ষত তৈরি হয়ে যায়।
ঘ) প্রথমত ছুটির দিনে আশুর পুতুলখেলার কথা পণ্ডিতমশাই জেনে গিয়েছেন এটা বুঝে আর অন্য দিনের মতো ফের দেরি করে ক্লাসে আসায় আশু সংকুচিতভাবে ঢুকছিল। তার মনের মধ্যে দোলাচল ছিল এটা ভেবে যে ক্লাসে সবার সামনে পুতুলের বিয়ে নিয়ে পণ্ডিতমশাই তাকে কিছু না বলে দেন। পরে সেটাই সত্যি হয়। আশুকে ‘গিন্নি’ নাম (ICSE Class 9 Bengali Ginni) দিয়ে বিদ্রুপ করেন শিবনাথ পণ্ডিত।
Ginni Golpo Class 9 Summary: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গিন্নি’ গল্পের সহজ সারসংক্ষেপ
প্রশ্নঃ ৪। “কিন্তু এটা বেশ বুঝে গিয়েছিল নরদেবতার মতো বালাই আর নেই।”
ক) ‘নরদেবতা’ বলতে কী বোঝায়?
খ) কোন্ প্রসঙ্গে কথাটি বলা হয়েছে?
গ) নরদেবতাকে ‘বালাই’ বলা হয়েছে কেন?
ঘ) নরদেবতার সম্পর্কে গল্পকার আর কী কী বলেছেন?
উত্তর: ক) ‘নর’ একটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ যার অর্থ হল মানুষ। অর্থাৎ ‘নরদেবতা’ বলতে মানুষরূপী দেবতাকে বোঝায়।
খ) আসলে ছাত্ররা শিবনাথ পণ্ডিতকে দেবতাদের মধ্যে ইন্দ্র, চন্দ্র, বরুণ নয়, বরং যমরাজের সঙ্গেই তুলনা করত। তারা মনে করত স্বর্গবাসী দেবতারা অনেক ভাল, কারণ তারা একটি ফুলেই সন্তুষ্ট। আর এই মর্ত্যের দেবতাকে তুষ্ট করা অসম্ভব কাজ। একটু ভুল হলেই তাঁর রোষের শিকার হতে হয় ছাত্রদের। এই প্রসঙ্গেই উক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

গ) ‘বালাই’ কথার অর্থ হল বিপদ বা অমঙ্গল। নরদেবতা যেহেতু একটু ভুল হলেই রেগে যান এবং শাস্তি দেন, তাই তাকে বিপদ বা বালাই বলা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে শিবনাথ পণ্ডিতের কথাই বলা হয়েছে, তিনি ছাত্রদের কাছে সাক্ষাৎ বিপদ যেন।
ঘ) এই নরদেবতা অর্থাৎ শিবনাথ পণ্ডিত ছাত্রদের পীড়ন করতেন, তাদের মারধরও করতেন। লেখকের ভাষায় সেটি তাঁর ‘দেবমহিমা’। আর তাঁর হুঙ্কার যেন দেবতার বজ্রনাদ। এই ‘নরলোকবাসী দেবতা’ যাতে দ্রুত যমের দুয়ারে যেতে পারেন, ছাত্ররা এবং লেখক নিজেও মনে মনে সেটাই চাইতেন। যম ছাড়া তাঁকে ইন্দ্র, চন্দ্র, বরুণ বা কার্তিক কারও সঙ্গেই তুলনা করতে পারত না ছাত্রেরা।

2 Comments