Lalu Golpo Character Analysis: লালু ও স্মৃতিরত্নের চরিত্র বিশ্লেষণ | ICSE Bengali Class 9
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘লালু’ গল্প মূলত একটি দুষ্টু, বুদ্ধিমান ও রসিক বালককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও গল্পের হাস্যরসকে পূর্ণতা দিয়েছে লালুর মা নন্দরানীর গুরুদেব স্মৃতিরত্ন-এর চরিত্র। লালুর দুষ্টুমি এবং স্মৃতিরত্নের সরলতা, ভীরুতা ও আত্মমর্যাদাবোধ—এই দুই বিপরীত স্বভাবের সংঘাত থেকেই গল্পের প্রধান হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
ICSE Class 9 Bengali পরীক্ষায় লালু গল্পের চরিত্র বিশ্লেষণ (Lalu Golpo Character Analysis), লালুর চরিত্র, স্মৃতিরত্নের চরিত্র, অথবা কোনও উদ্ধৃতির ভিত্তিতে চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করার প্রশ্ন আসতে পারে। তাই শুধু গল্পের ঘটনা মনে রাখলেই হবে না; কোন ঘটনা থেকে লালুর কোন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে এবং স্মৃতিরত্নের আচরণের মধ্যে কী ধরনের মানসিকতা ফুটে উঠেছে, সেটিও বুঝে রাখা দরকার।
এই লেখায় লালু ও স্মৃতিরত্নের চরিত্র বিশ্লেষণ গল্পের ঘটনাগুলির ভিত্তিতে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হল।
Lalu Golpo Character Analysis: লালু গল্পে লালুর চরিত্র
গল্পের নামই ‘লালু’, তাই স্বাভাবিকভাবেই লালু গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। সে সাধারণ অর্থে আদর্শ বালক নয়। তার মধ্যে যেমন দুষ্টুমি ও দুরন্তপনা রয়েছে, তেমনই রয়েছে তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, উপস্থিত বুদ্ধি এবং পড়াশোনায় অসাধারণ দক্ষতা।
১. লালু অত্যন্ত দুষ্টু ও দুরন্ত
লালুর চরিত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল তার দুষ্টুমি। মানুষের স্বাভাবিক ভয়, দুর্বলতা বা অসতর্কতাকে কাজে লাগিয়ে মজা করতে সে ভালোবাসে। তার দুষ্টুমির মধ্যে নিষ্ঠুরতার চেয়ে ছেলেমানুষি ও কৌতুকপ্রবণতাই বেশি।
গল্পের শুরুতেই দেখা যায়, লালু তার মাকেও রেহাই দেয় না। একবার রবারের সাপ দেখিয়ে সে মাকে এমন ভয় পাইয়ে দেয় যে তাঁর পা মচকে যায় এবং বেশ কয়েকদিন তাঁকে খুঁড়িয়ে চলতে হয়। এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, লালুর দুষ্টুমি শুধুমাত্র বাইরের লোকজনকে ঘিরে নয়; নিজের মাকেও সে তার কৌতুকের শিকার করতে দ্বিধা করে না।
এই ঘটনার পরে নন্দরানী লালুকে শায়েস্তা করার জন্য বাড়িতে মাস্টার রাখার কথা ভাবলেও লালুর বাবার আপত্তিতে তা সম্ভব হয়নি। ফলে লালুর মনের মধ্যে মায়ের প্রতি অভিমান ও রাগ আরও বাড়ে।
২. লালু অত্যন্ত বুদ্ধিমান
লালু শুধু দুষ্টু নয়, সে অত্যন্ত মেধাবী। গল্পে স্পষ্টভাবে জানা যায় যে সে পড়াশোনায় ভালো এবং প্রতিবার ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করে।
এই বৈশিষ্ট্যটি লালুর চরিত্রকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। সাধারণত দুরন্ত বালককে আমরা পড়াশোনায় অমনোযোগী বলে ভাবি। কিন্তু লালুর ক্ষেত্রে তার বিপরীত ছবি দেখা যায়। সে দুষ্টুমি করে, সবাইকে জব্দ করে, আবার পড়াশোনাতেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখে।
অর্থাৎ লালুর দুষ্টুমি তার অক্ষমতার ফল নয়; বরং তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও অতিরিক্ত কৌতূহল থেকেই তার নানা কাণ্ডের জন্ম হয়।
৩. উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেয় লালু
স্মৃতিরত্নকে জব্দ করার ঘটনাটি লালুর উপস্থিত বুদ্ধি ও পরিকল্পনাশক্তির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
নন্দরানী তাঁর গুরুদেবকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন। গুরুদেবের জন্য বাড়িতে বিশেষ আয়োজন করা হয়। তাঁকে আরামদায়ক ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হয় এবং যত্নের কোনও ত্রুটি রাখা হয় না।
কিন্তু লালু সুযোগ বুঝে গুরুদেবের মশারির চালে ন্যাকড়ায় বাঁধা এক টুকরো বরফ রেখে দেয়। বরফ গলতে শুরু করলে তার জল ফোঁটা ফোঁটা করে মশারি বেয়ে স্মৃতিরত্নের পেটের ওপর পড়তে থাকে।
এখানে লালুর বুদ্ধির একটি বিশেষ দিক প্রকাশ পায়। সে এমন একটি কৌশল বেছে নেয় যাতে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ প্রথমে বোঝা কঠিন হয়। স্মৃতিরত্ন মনে করেন, বাড়ির ছাদ ফুটো হয়ে বৃষ্টির জল পড়ছে।
৪. মানুষের দুর্বলতা বুঝতে পারে লালু
লালুর দুষ্টুমির সাফল্যের পিছনে তার মানুষের স্বভাব বোঝার ক্ষমতা কাজ করে।
সে জানত, স্মৃতিরত্ন বৃদ্ধ এবং নতুন বাড়িতে এসে রাত কাটাচ্ছেন। গভীর রাতে অচেনা জায়গায় ছাদ থেকে জল পড়ছে মনে হলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই ভয় পাবেন। তাই গুরুদেব একবার নয়, বারবার খাট সরিয়েও সমস্যার সমাধান করতে পারেন না।
অবশেষে তিনি ঘর ছেড়ে বারান্দায় চলে যান। কিন্তু সেখানেও মশার উপদ্রব তাঁকে নাজেহাল করে। অর্থাৎ লালুর পরিকল্পনায় গুরুদেবের রাতটি সম্পূর্ণ দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
৫. লালু প্রতিশোধপরায়ণ হলেও তার প্রতিশোধ শিশুসুলভ
লালুর মায়ের সঙ্গে তার একটি পুরোনো বিরোধ ছিল। রবারের সাপের ঘটনার পর নন্দরানী তাকে শায়েস্তা করার জন্য মাস্টার রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু লালুর বাবার আপত্তিতে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। সেই থেকেই লালু মায়ের ওপর রেগে ছিল।
গুরুদেবকে কেন্দ্র করে তার দুষ্টুমিকে তাই এক অর্থে মায়ের ওপর শিশুসুলভ প্রতিশোধ হিসেবেও দেখা যায়।
তবে তার প্রতিশোধ কোনও গুরুতর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নয়। সে এমন একটি কৌতুক তৈরি করতে চায়, যা তাকে আনন্দ দেবে এবং মাকে বিপাকে ফেলবে।

৬. লালুর মধ্যে কৌতুকপ্রবণতা প্রবল
লালু চরিত্রের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল রসিকতা। সে অন্যকে ভয় দেখিয়ে বা বিপাকে ফেলে আনন্দ পায়।
তার বরফ রাখার ঘটনাটি এই কৌতুকপ্রবণতারই চরম প্রকাশ। গুরুদেব যেখানে মনে করছেন ছাদ ফুটো হয়ে গেছে, সেখানে পাঠক জানেন প্রকৃত রহস্যটি অন্যত্র। ফলে গল্পে এক ধরনের নাটকীয় হাস্যরস তৈরি হয়।
লালুর দুষ্টুমি তাই গল্পের হাস্যরসের প্রধান উৎস।
৭. লালু শাস্তি এড়াতে জানে
লালুর বুদ্ধির আর একটি দিক প্রকাশ পায় ঘটনার শেষে। নন্দরানী যখন সমস্ত ঘটনা বুঝতে পেরে তাকে ধরে আনার নির্দেশ দেন, তখন লালু বাড়িতে নেই।
চাকরেরা এসে জানায়, লালু তার মাসির বাড়িতে বসে খাবার খাচ্ছে এবং মাসি তাকে আসতে দেননি। এরপর লালু প্রায় পনেরো দিন বাড়ির ত্রিসীমানায় পা দেয়নি।
এখানেও তার বাস্তববুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়। সে বুঝেছিল, বাড়ি ফিরলে মায়ের হাতে শাস্তি পেতে হবে। তাই নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার অপেক্ষা করেছে।
৮. লালুর চরিত্রে বুদ্ধি ও দুষ্টুমির মিশ্রণ
সব মিলিয়ে লালু একমাত্রিক চরিত্র নয়। তার মধ্যে একই সঙ্গে রয়েছে—
- দুষ্টুমি
- দুরন্তপনা
- তীক্ষ্ণ বুদ্ধি
- পড়াশোনায় মেধা
- উপস্থিত বুদ্ধি
- কৌতুকপ্রবণতা
- শিশুসুলভ প্রতিশোধস্পৃহা
- আত্মরক্ষার বুদ্ধি
তাই লালুকে শুধু ‘দুষ্ট ছেলে’ বললে তার চরিত্রের সম্পূর্ণ পরিচয় দেওয়া হয় না। বরং বলা যায়, লালু একজন মেধাবী, দুরন্ত, কৌতুকপ্রিয় এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান বালক, যার দুষ্টুমিই গল্পের হাস্যরসের প্রধান চালিকাশক্তি।
Lalu Golpo Character Analysis: স্মৃতিরত্নের চরিত্র বিশ্লেষণ
লালুর বিপরীতে স্মৃতিরত্ন চরিত্রটি গল্পে একটি ভিন্ন মাত্রা তৈরি করেছে। তিনি নন্দরানীর গুরুদেব, স্মৃতিশাস্ত্রে পণ্ডিত এবং বয়স্ক ব্যক্তি। তাঁর চরিত্রে পাণ্ডিত্য ও সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি রয়েছে সরলতা, ভীরুতা, আত্মমর্যাদাবোধ এবং নিজের ভুল বুঝতে পারার ক্ষমতা।
১. স্মৃতিরত্ন পণ্ডিত ও সম্মানিত ব্যক্তি
স্মৃতিরত্ন নন্দরানীর গুরুদেব। তিনি স্মৃতিশাস্ত্রে পণ্ডিত বলে গল্পে তাঁকে ‘স্মৃতিরত্ন’ বলা হয়েছে। নন্দরানী তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল।
গুরুদেবের আগমনকে কেন্দ্র করে নন্দরানী বাড়িতে বিশেষ আয়োজন করেন। তাঁর জন্য আলাদা ঘর, নতুন খাট, বিছানাপত্র এবং পূজা-আহ্নিকের ব্যবস্থা করা হয়।
অতএব গল্পের শুরুতেই স্মৃতিরত্নের সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. তিনি বয়স্ক ও কিছুটা ভীতু
স্মৃতিরত্নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তাঁর ভীরুতা। তিনি বয়স্ক মানুষ এবং অচেনা জায়গায় রাতের অন্ধকারে একা বাইরে যেতে স্বচ্ছন্দ নন।
গভীর রাতে যখন তাঁর পেটের ওপর জল পড়তে থাকে, তখন তিনি প্রথমে ভাবেন ছাদ ফুটো হয়ে বৃষ্টির জল পড়ছে। একাধিকবার খাট সরানোর পরও একই ঘটনা ঘটলে তাঁর ভয় আরও বেড়ে যায়।
একদিকে ঘরে থাকলে ছাদ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে অচেনা বাড়ির বাইরে যাওয়ার ভয়—এই দ্বন্দ্ব তাঁকে শেষপর্যন্ত বারান্দায় নিয়ে আসে।
৩. তিনি সরল ও সহজে বিশ্বাসপ্রবণ
স্মৃতিরত্ন লালুর পরিকল্পনার প্রকৃত রহস্য বুঝতে পারেননি। তিনি সত্যিই বিশ্বাস করেছিলেন যে বাড়ির ছাদ ফুটো হয়ে জল পড়ছে।
এমনকি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় খাট সরিয়েও যখন একই জায়গায় জল পড়তে থাকে, তখনও তিনি ঘটনাটিকে প্রাকৃতিক কারণেই ব্যাখ্যা করেন।
এই সরল বিশ্বাসযোগ্যতাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে লালুর দুষ্টুমির শিকার করে তোলে।
৪. আত্মমর্যাদাবোধ প্রবল
বারান্দায় এসে স্মৃতিরত্ন যে বেঞ্চিতে বসেন, সেটি মূলত লালুর বাবার দরিদ্র মক্কেলদের বসার জন্য রাখা ছিল। সেখানে বসে তাঁর আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগে।
তবুও পরিস্থিতির চাপে তাঁকে সেই বেঞ্চিতেই বসতে হয়।
এই ঘটনাটি স্মৃতিরত্নের চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে—তিনি নিজের সামাজিক মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন।
৫. শারীরিক কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা থাকলেও পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়েন
এক রাতের মধ্যে স্মৃতিরত্নকে প্রথমে ঠান্ডা জলের যন্ত্রণা এবং পরে মশার আক্রমণ সহ্য করতে হয়।
বারান্দায় বসার পর তিনি হাত-পা ও গামছা নাড়িয়ে মশা তাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্লান্ত হয়ে মশার কাছে যেন আত্মসমর্পণ করেন।
তিনি বলেন—
“কামড়া ব্যাটারা যত পারিস, কামড়া—আমি আর পারিনে।”
এরপর তিনি বারান্দার এক কোণে পিঠ ঠেকিয়ে বসে পড়েন এবং অবশেষে ঘুমিয়ে পড়েন। তাঁর এই অবস্থাই গল্পের অন্যতম হাস্যকর অথচ করুণ দৃশ্য।

৬. নিজের ভুল বুঝতে পারার ক্ষমতা আছে
স্মৃতিরত্নের চরিত্রের সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলির একটি হল তাঁর আত্মোপলব্ধি।
সকালে নন্দরানী যখন বুঝতে পারেন যে ছাদ ফুটো নয়, বরং মশারিতে বাঁধা বরফ গলে জল পড়ছিল, তখন প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পায়।
গুরুদেবও তখন বুঝতে পারেন যে এতক্ষণ তিনি যে বিপদের কথা ভেবেছেন, তার আসল কারণ ছিল লালুর ছেলেমানুষি দুষ্টুমি।
নিজের নির্বুদ্ধিতা বুঝতে পেরে তিনি হা হা করে হেসে ফেলেন।
এই হাসি তাঁর চরিত্রে আত্মসমালোচনা ও উদারতার পরিচয় দেয়।
৭. স্মৃতিরত্নের মধ্যে রসবোধ রয়েছে
স্মৃতিরত্ন যদি অত্যন্ত গম্ভীর ও আত্মম্ভরী ব্যক্তি হতেন, তাহলে গল্পের শেষটা এতটা হাস্যকর হয়ে উঠত না।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য বুঝে তিনি নিজের ভুলের জন্য হাসতে পারেন। অর্থাৎ নিজের অপমানজনক অভিজ্ঞতাকেও শেষপর্যন্ত হাসির চোখে দেখতে পারেন।
এই ক্ষমতাই তাঁকে একটি মানবিক ও রসিক চরিত্রে পরিণত করেছে।
পরীক্ষায় লালুর চরিত্র কীভাবে লিখবে?
যদি প্রশ্ন আসে—“লালু চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো”, তাহলে শুধু ‘লালু দুষ্টু ছেলে’ লিখে থেমে যাবে না।
উত্তর লেখার সময় এই ক্রমটি অনুসরণ করা ভালো—
পরিচয় → দুষ্টুমি → মেধা → উপস্থিত বুদ্ধি → কৌতুকপ্রবণতা → প্রতিশোধস্পৃহা → আত্মরক্ষার বুদ্ধি → মূল্যায়ন
বিশেষ করে রবারের সাপের ঘটনা, গুরুদেবের মশারিতে বরফ রাখার ঘটনা এবং শেষে মাসির বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করলে উত্তরটি অনেক বেশি তথ্যসমৃদ্ধ হবে।
পরীক্ষায় স্মৃতিরত্নের চরিত্র কীভাবে লিখবে?
“স্মৃতিরত্নের চরিত্র বিশ্লেষণ করো” প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে তাঁর পরিচয় দিতে হবে। এরপর তাঁর—
- পাণ্ডিত্য ও সামাজিক মর্যাদা
- বয়স্ক ও কিছুটা ভীতু স্বভাব
- সরলতা
- আত্মমর্যাদাবোধ
- শারীরিক দুর্ভোগ
- পরিস্থিতির প্রতি প্রতিক্রিয়া
- নিজের ভুল বুঝতে পারার ক্ষমতা
- রসবোধ ও উদারতা
—এই দিকগুলি ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা যায়।
গুরুদেবের চরিত্র বিশ্লেষণে বরফের জল, বারবার খাট সরানো, বারান্দায় যাওয়া, মশার কামড় এবং শেষে নিজের নির্বুদ্ধিতায় হেসে ওঠার ঘটনাগুলি অবশ্যই উল্লেখযোগ্য।
শেষ কথা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘লালু’ গল্পে লালু ও স্মৃতিরত্ন দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বভাবের চরিত্র। লালুর দুষ্টুমি, বুদ্ধি ও কৌতুকপ্রবণতা যেমন গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়, তেমনই স্মৃতিরত্নের সরলতা, ভয়, আত্মমর্যাদাবোধ এবং শেষে নিজের ভুল বুঝে হাসতে পারার ক্ষমতা গল্পের হাস্যরসকে পূর্ণতা দেয়।
তাই লালু গল্পের চরিত্র বিশ্লেষণ পড়ার সময় শুধু চরিত্রের গুণের তালিকা মুখস্থ না করে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি মনে রাখবে। পরীক্ষায় চরিত্রভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর লেখার ক্ষেত্রে “বৈশিষ্ট্য + গল্পের ঘটনা + ব্যাখ্যা” এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে উত্তর অনেক বেশি পরিষ্কার ও নম্বরযোগ্য হবে।
পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে মনে রাখবে: লালুর দুষ্টুমি শুধু হাসির কারণ নয়; তার বুদ্ধি ও দুরন্ত স্বভাবেরও প্রকাশ। অন্যদিকে স্মৃতিরত্নের দুর্ভোগ শুধু একটি হাস্যকর ঘটনা নয়; এর মধ্য দিয়ে তাঁর সরলতা, ভীরুতা, আত্মমর্যাদাবোধ এবং আত্মসমালোচনার ক্ষমতাও প্রকাশ পেয়েছে।
আরও পড়ুন
- লালু গল্পের সারাংশ: গল্পের সম্পূর্ণ কাহিনি, টীকা ও লেখক পরিচিতি পড়ে নাও।
- লালু গল্পের প্রশ্নোত্তর Part 1: গুরুত্বপূর্ণ ৬টি বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর।
- লালু গল্পের প্রশ্নোত্তর Part 2: আরও গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি-ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর।
- লালু গল্পের SAQ: পরীক্ষার আগে ১ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর অনুশীলন করো।
ICSE Class 9 Bengali পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য BengaliNotes-এর সঙ্গে নিয়মিত থাকো।
