রবীন্দ্রনাথের প্রতি SAQ: গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ নম্বরের) | ICSE Class 9 Bengali Best Guide
ICSE Class 9 Bengali পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ SAQ বা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুদ্ধদেব বসুর লেখা এই কবিতায় রবীন্দ্রনাথের প্রতি শ্রদ্ধা, যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর সংকট, মানবসভ্যতার অবক্ষয়, স্বৈরাচারী রাষ্ট্রশক্তির আগ্রাসন এবং সত্য ও সুন্দরের প্রতি কবির বিশ্বাস ফুটে উঠেছে।
তাই পরীক্ষায় কবিতাটির বিভিন্ন পংক্তি, শব্দ ও ভাব থেকে Short Question Answer, SAQ এবং অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন আসতে পারে।
এই পোস্টে ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতার ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ SAQ প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘দারুণ দুর্দিন’, ‘উদ্ধত সঙিন’, ‘বর্বর রাক্ষস’, ‘উন্মত্ত জন্তু’, ‘সোনার হরিণ’, ‘সভ্যতার শ্মশান-শয্যা’, ‘অক্ষয় মন্ত্র’ এবং ‘জীবনের জয়’—এর মতো গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও ভাবও সংক্ষেপে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার আগে শুধু উত্তর মুখস্থ না করে প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত মূল ভাবটি বুঝে পড়ার চেষ্টা করো। তাহলে একই বিষয় থেকে প্রশ্ন একটু ঘুরিয়ে এলেও উত্তর লেখা সহজ হবে।
রবীন্দ্রনাথের প্রতি কবিতার মূল ভাব এক নজরে
‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতাটি শুধু রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করার কবিতা নয়। কবিতার মধ্যে দিয়ে বুদ্ধদেব বসু তাঁর সময়ের অস্থির ও ধ্বংসাত্মক পৃথিবীর একটি চিত্র তুলে ধরেছেন।
একদিকে রয়েছে যুদ্ধ, স্বৈরাচার, ক্ষমতার লোভ এবং মানবসভ্যতার সংকট। অন্যদিকে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের সত্য, সুন্দর, মানবিকতা ও জীবনের প্রতি বিশ্বাস।
তাই SAQ প্রস্তুতির সময় মোটামুটি এই ধারাটি মনে রাখা যেতে পারে—
দুর্দিন → যুদ্ধ ও ধ্বংস → স্বৈরাচারী শক্তি → সভ্যতার সংকট → রবীন্দ্রনাথের বাণী → আশা ও জীবনের জয়
এই মূল ভাবটি বুঝে নিলে নিচের অনেকগুলি প্রশ্নের উত্তর মনে রাখা সহজ হবে।
রবীন্দ্রনাথের প্রতি SAQ: গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১। ‘তোমারে স্মরণ করি’—কে, কাকে স্মরণ করেছেন?
উত্তর: ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতায় কবি বুদ্ধদেব বসু শান্তির কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করেছেন।
প্রশ্ন ২। কবি কাকে, কেন স্মরণ করেছেন?
উত্তর: কবি বুদ্ধদেব বসুর মনে হয়েছে, রবীন্দ্রনাথের উজ্জ্বল সৃষ্টিসম্ভার মানুষের অন্তরের দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-অনটন ও মৃত্যুযন্ত্রণা জয় করার শক্তি জোগায়। তাই সমাজের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে মুক্তির শক্তি লাভের জন্য তিনি রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করেছেন।
প্রশ্ন ৩। ‘দারুণ দুর্দিন’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে কবি বুদ্ধদেব বসুর সমকালীন সমাজ অত্যন্ত ভয়াবহ, অস্থির ও বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছিল। মানুষের বেঁচে থাকাই যখন কঠিন হয়ে পড়েছিল, সেই সংকটময় সময়কেই কবি ‘দারুণ দুর্দিন’ বলেছেন।
প্রশ্ন ৪। কবি কাকে, কেন ‘হে বন্ধু, হে প্রিয়তম’ বলেছেন?
উত্তর: কবি বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে (রবীন্দ্রনাথের প্রতি SAQ) ‘হে বন্ধু, হে প্রিয়তম’ বলে সম্বোধন করেছেন। অশান্ত ও সংকটময় পৃথিবীতে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও বাণীকেই তিনি মানুষের মুক্তি ও আশার অন্যতম অবলম্বন বলে মনে করেছেন।
প্রশ্ন ৫। ‘উদ্ধত সঙিন’ কী?
উত্তর: ‘উদ্ধত’ শব্দের অর্থ খাড়া বা সোজা এবং ‘সঙিন’ বলতে বন্দুকের আগায় লাগানো ছোরাকে বোঝায়। অর্থাৎ বন্দুকের ডগায় লাগানো ছোটো তরবারির মতো খাড়া অস্ত্রটিকেই ‘উদ্ধত সঙিন’ বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথের প্রতি কবিতার সারাংশ, মূলভাব ও নামকরণ | ICSE Class 9 Bengali
প্রশ্ন ৬। কবি কাকে ‘বর্বর রাক্ষস’ বলেছেন?
উত্তর: কবি বুদ্ধদেব বসু (রবীন্দ্রনাথের প্রতি SAQ) তাঁর সময়কার চরম ক্ষমতাশালী, স্বার্থপর ও স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়কদের ‘বর্বর রাক্ষস’ বলেছেন। তাদের যুদ্ধপ্রবণতা ও ধ্বংসাত্মক মানসিকতা মানবসভ্যতার পক্ষে বিপজ্জনক ছিল।
প্রশ্ন ৭। ‘আমি শ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে বড়ো’—কে নিজেকে শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে বড়ো ভাবে?
উত্তর: শক্তিশালী ও স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়কেরাই নিজেদের শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে বড়ো বলে মনে করে। আধুনিক বিজ্ঞান ও সমরশক্তির সাহায্যে নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন করে তারা অন্যদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়।
প্রশ্ন ৮। ‘উন্মত্ত জন্তু’ কারা?
উত্তর: কবি বুদ্ধদেব বসু অত্যাচারী, যুদ্ধপ্রিয়, ধ্বংসসৃষ্টিকারী ও মানবিক মূল্যবোধহীন শক্তিশালী রাষ্ট্রশক্তিকে ‘উন্মত্ত জন্তু’ বলেছেন। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে তারা দুর্বল মানুষ ও রাষ্ট্রের ওপর অত্যাচার চালায়।
প্রশ্ন ৯। কবি কোন বিষয়কে ‘সোনার হরিণ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: ‘সোনার হরিণ’ একটি দুর্লভ ও আকাঙ্ক্ষিত বস্তুর প্রতীক। কবি বুদ্ধদেব বসু মানুষের যথার্থ সৃষ্টি ও সুন্দর জীবনমূল্যকে ‘সোনার হরিণ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। স্বার্থপর ও ক্ষমতালোভী শক্তি সেই দুর্লভ সুন্দরকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে।
প্রশ্ন ১০। ‘সভ্যতার শ্মশান-শয্যা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সংকট, হিংসা, দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধের কারণে পৃথিবীব্যাপী অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। মানুষের মধ্যে হানাহানি ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে সভ্যতা ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। এই মৃতপ্রায় সভ্যতার অবস্থাকেই কবি ‘সভ্যতার শ্মশান-শয্যা’ বলেছেন।
প্রশ্ন ১১। ‘তোমার অক্ষয় মন্ত্র’—এখানে মন্ত্রকে অক্ষয় বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথের বাণীর মধ্যে এমন শক্তি রয়েছে, যা মানুষকে সংকটের মধ্যেও সাহস ও মনোবল জোগায়। কবি মনে করেন, এই বাণীর শক্তির কোনো ক্ষয় নেই এবং তা চিরকাল মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথে চলার সাহস দেবে। তাই রবীন্দ্রনাথের মন্ত্রকে ‘অক্ষয় মন্ত্র’ বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (Part 2) | ICSE Class 9 Bengali | PYQ-সহ উত্তর

প্রশ্ন ১২। ‘রক্তপায়ী উদ্ধত সঙিন’—‘রক্তপায়ী’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘রক্তপায়ী’ বলতে সেই স্বার্থপর, ক্ষমতালোভী ও যুদ্ধপ্রিয় শক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সাধারণ মানুষের জীবন ও রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
প্রশ্ন ১৩। ‘জীবনের জয়’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: যুদ্ধ, ধ্বংস, সাম্রাজ্যবাদ ও মৃত্যুর ভয়কে অতিক্রম করে সত্য, সুন্দর ও মানবিকতার পথে এগিয়ে চলাকেই কবি ‘জীবনের জয়’ বলেছেন। ধ্বংসের শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের জীবন ও মানবিক মূল্যবোধের বিজয়ই তাঁর কাছে জীবনের জয়।
প্রশ্ন ১৪। কাদের লুব্ধতার লালা ঝরে?
উত্তর: শক্তিশালী, স্বার্থপর ও স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়কদের লুব্ধতার লালা ঝরে। অন্য দেশ ও তার সম্পদের ওপর তাদের লোভী দৃষ্টির কথাই এই পংক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশ্ন ১৫। ‘এত দুঃখ, এ দুঃসহ ঘৃণা, এ নরক’—কবি কেন সহ্য করতে পারলেন?
উত্তর: কবি বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথের অক্ষয় মন্ত্র নিজের মর্মে ধারণ করেছিলেন এবং সেই বাণী তাঁর রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। তাই ভয়াবহ দুঃসময়, দুঃখ ও ঘৃণার মধ্যেও তিনি ভেঙে পড়েননি। রবীন্দ্রনাথের বাণী তাঁকে এই নরকসম পরিস্থিতি সহ্য করার শক্তি দিয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও ভাব: শুধু অর্থ নয়, প্রসঙ্গটাও বোঝো
‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতার SAQ প্রস্তুতির সময় নিচের শব্দগুলির অর্থ + কবিতায় ব্যবহারের তাৎপর্য মনে রাখলে উত্তর লেখা সহজ হবে।
| শব্দ/ভাব | সহজ অর্থ ও তাৎপর্য |
|---|---|
| দারুণ দুর্দিন | যুদ্ধ, অশান্তি ও সংকটে ভরা ভয়াবহ সময় |
| উদ্ধত সঙিন | বন্দুকের আগায় লাগানো ছোরা; যুদ্ধ ও হিংসার প্রতীক |
| বর্বর রাক্ষস | স্বৈরাচারী ও যুদ্ধপ্রিয় শক্তির প্রতীক |
| উন্মত্ত জন্তু | ধ্বংসাত্মক ও মানবিকতাহীন শক্তি |
| সোনার হরিণ | দুর্লভ, আকাঙ্ক্ষিত ও সুন্দর জীবনমূল্যের প্রতীক |
| সভ্যতার শ্মশান-শয্যা | যুদ্ধ ও অবক্ষয়ে ধ্বংসপ্রায় সভ্যতা |
| অক্ষয় মন্ত্র | রবীন্দ্রনাথের চিরস্থায়ী আশাবাদী ও মানবিক বাণী |
| জীবনের জয় | সত্য, সুন্দর ও মানবিকতার বিজয় |

📌 রবীন্দ্রনাথের প্রতি SAQ: পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও ভাব
‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতার SAQ প্রস্তুত করার সময় নিচের শব্দ ও ভাবগুলি বিশেষভাবে মনে রাখবে—
- দারুণ দুর্দিন → যুদ্ধ ও অশান্তিতে ভরা সংকটময় সময়
- উদ্ধত সঙিন → বন্দুকের আগায় লাগানো ছোরা বা বেয়নেট
- বর্বর রাক্ষস → স্বৈরাচারী ও যুদ্ধপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক
- উন্মত্ত জন্তু → ধ্বংসাত্মক ও মানবিকতাহীন শক্তি
- সোনার হরিণ → দুর্লভ সুন্দর ও আকাঙ্ক্ষিত জীবনমূল্য
- সভ্যতার শ্মশান-শয্যা → যুদ্ধ ও অবক্ষয়ে ধ্বংসপ্রায় সভ্যতা
- অক্ষয় মন্ত্র → রবীন্দ্রনাথের চিরস্থায়ী আশাবাদী বাণী
- জীবনের জয় → সত্য, সুন্দর ও মানবিকতার বিজয়
আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রশ্নোত্তর (Part 1) | ICSE Class 9 Bengali
🔎 পরীক্ষার আগে এই ৮টি ভাব অবশ্যই revise করো
- ‘দারুণ দুর্দিন’ কেন বলা হয়েছে
- ‘উদ্ধত সঙিন’ কী এবং এর তাৎপর্য
- ‘বর্বর রাক্ষস’ ও ‘উন্মত্ত জন্তু’ কার প্রতীক
- ‘সোনার হরিণ’-এর তাৎপর্য
- ‘সভ্যতার শ্মশান-শয্যা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে
- ‘অক্ষয় মন্ত্র’ কেন বলা হয়েছে
- ‘জীবনের জয়’-এর অর্থ
- রবীন্দ্রনাথকে কবি কেন স্মরণ করেছেন
এই আটটি বিষয় ভালোভাবে বুঝে পড়লে ১৫টি SAQ-এর পাশাপাশি একই ভাব থেকে আসা ঘুরিয়ে দেওয়া প্রশ্নেরও উত্তর করা সহজ হবে।
📝 রবীন্দ্রনাথের প্রতি SAQ: দ্রুত Revision-এর জন্য
পরীক্ষার আগে এই রবীন্দ্রনাথের প্রতি Short Questions & Answers অন্তত একবার লিখে অনুশীলন করো। শুধু উত্তর মুখস্থ না করে প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত মূল ভাবটি বোঝার চেষ্টা করলে একই বিষয় থেকে ঘুরিয়ে প্রশ্ন এলেও উত্তর লেখা সহজ হবে।
‘দারুণ দুর্দিন’ কেন বলা হয়েছে, ‘অক্ষয় মন্ত্র’ কী, ‘বর্বর রাক্ষস’ কারা, ‘জীবনের জয়’ বলতে কী বোঝায়—এই ধরনের প্রশ্নগুলি বিশেষভাবে প্রস্তুত করে রাখো।
Bengali Notes-এর সঙ্গে থাকুন এবং ICSE Class 9 Bengali-এর সমস্ত অধ্যায়ের নোট, প্রশ্নোত্তর, revision guide ও পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতি নিয়মিত পড়ুন।
