Ginni Golpo Question Answer: ICSE Class 9 ‘গিন্নি’ গল্পের ৬টি Most Important প্রশ্নোত্তর (১০ নম্বরের)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গিন্নি’ গল্পটি ICSE Class 9 Bengali-এর সংকলিতা বইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। এই গল্প থেকে প্রায়ই ২, ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরগুলি ভালোভাবে রপ্ত করা প্রয়োজন। এই লেখায় আমরা ‘গিন্নি’ গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্ন এবং সহজ ভাষায় উত্তর আলোচনা করব।
Ginni Golpo Question Answer: ৫ নম্বরের প্রশ্নোত্তর
| প্রশ্ন: ১। “তাঁহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত।” (ক) কাকে দেখলে বালকদের অন্তরাত্মা শুকিয়ে যেত? (খ) উদ্দিষ্ট ব্যক্তির চেহারার বর্ণনা দাও। (গ) তাঁকে দেখলে বালকদের অন্তরাত্মা শুকোনোর কারণ কী ছিল? (ঘ) ঐ ব্যক্তি বালকদের উৎপীড়ন করার জন্য কোন বিশিষ্ট পথ অবলম্বন করতেন? |
উত্তর: ক) বিশ্ববরেণ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গিন্নি’ নামক ছোটগল্প পড়ে জানা যায়, ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দু-তিন শ্রেণির নীচের শ্রেণিতে শিবনাথ নামে এক শিক্ষক ছিলেন। সেই শিক্ষককে দেখলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকিয়ে যেত।
খ) শিবনাথ পণ্ডিতের গোঁফদাড়ি ছিল কামানো ও চুল ছিল ছাঁটা। শিবনাথের মাথায় ছিল একটি টিকি, তবে সেটা হ্রস্ব।
গ) একথা শোনা যায় যে, প্রাণীজগতের কিছু কিছু প্রাণীর হুল আছে, আর কিছু কিছু প্রাণীর দাঁত আছে। তবে যাদের হুল থাকে তাদের নাকি দাঁত থাকে না। ছাত্রদের মতে, শিবনাথ নামক শিক্ষকের মধ্যে হুল ও দাঁত একত্রে বিরাজমান; কারণ তিনি কোনো ছাত্রের ওপর কোনো কারণে রেগে গেলে দিকবিদিকজ্ঞান শূন্য হয়ে যেতেন। একদিকে তিনি সেই ছাত্রকে এমনভাবে কিল, চড়, চাপড় মারতেন যেন মনে হতো বাগানের চারাগাছের ওপর শিলাবৃষ্টি বর্ষিত হচ্ছে। তবে একনাগাড়ে মারধর করেও তিনি শান্তি পেতেন না। মারার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র বাক্যবাণে তিনি সেই ছাত্রকে জর্জরিত করে তুলতেন। বিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র শিবনাথ পণ্ডিতের এই পীড়নের শিকার হয়েছিল। তাঁর শাস্তিস্বরূপ অত্যাচারকে নিয়ে সকলের মনেই এক ভীতির সৃষ্টি হয়। তাই তাঁকে দেখলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকিয়ে যেত।
ঘ) বালকদের পীড়ন করার জন্য শিবনাথ পণ্ডিত যে বিশিষ্ট পথ অবলম্বন করতেন, তা তাঁর কাছে এক অস্ত্রস্বরূপ ছিল। সেটি শুনতে সামান্য মনে হলেও ছাত্রদের (ICSE Class 9 Bengali Ginni) কাছে তা নিদারুণ বিষয় হয়ে ওঠে। তিনি ছেলেদের নতুন নতুন নামকরণ করতেন। নাম বিষয়টা এমনই যে, যার যা নাম সেই নামেই ডাকলে মানুষ বেশি খুশি হয়। মানুষের একটা সহজাত ভালোবাসা জন্মায় তার নামের প্রতি। নিজের থেকেও সে তার নামকে বেশি গুরুত্ব দেয়। নিজের প্রকৃত নাম যাতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তার জন্য মানুষের প্রচেষ্টার শেষ নেই। নিজের নামকে বাঁচানোর জন্য লোকে মরতেও কুণ্ঠা বোধ করে না।
শিবনাথ পণ্ডিত মানুষের এই বৈশিষ্ট্যের কথা জানতেন বলে ছাত্রদের বিকৃত নাম দিয়ে তাদের আঘাত করতেন। যেমন- শশিশেখরকে বলতেন ‘ভেটকি’। আবার যখন কোনো ছাত্র বুঝতে পারত নামকরণটি তার চেহারা ও স্বভাবকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে, তখন তার মনোকষ্ট আরো বেড়ে যেত। কিন্তু যতই মনোকষ্ট হোক, ছাত্রদের সবই মুখ বুজে সহ্য করতে হতো। এভাবেই তারা শিবনাথ পণ্ডিতের দ্বারা পীড়িত হতো।

| প্রশ্ন: ২। “আশুর নাম ছিল গিন্নি, কিন্তু তাহার সঙ্গে একটু ইতিহাস জড়িত আছে।” (ক) আশুর নাম গিন্নি দিয়েছিল কে? তার পরিচয় দাও। (খ) আশু ছাড়া তিনি আর কার কার কী কী নাম দিয়েছিলেন? (গ) আশুর নামকরণের সঙ্গে কী ইতিহাস জড়িত ছিল? (ঘ) আশু কিরকম ছাত্র ছিল? দেরিতে আসায় সে কার কাছে কী শাস্তি পেয়েছিল? |
উত্তর: ক) বিশ্ববরেণ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গিন্নি’ (Ginni Golpo Question Answer) নামক ছোটগল্প পড়ে জানা যায়, শিবনাথ পণ্ডিত আশুর নাম ‘গিন্নি’ দিয়েছিলেন। ‘গিন্নি’ গল্পের অন্যতম পুরুষ চরিত্র হলো শিবনাথ পণ্ডিত। তিনি ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণি নীচের ছেলেদের পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর গোঁফ-দাড়ি কামানো, চুল ছাঁটা ও টিকিটি ছিল হ্রস্ব। তাঁকে দেখলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকিয়ে যেত।
খ) শিবনাথ পণ্ডিত আশু ছাড়া শশিশেখরেরও নতুন নামকরণ করেন। তিনি শশিশেখরের চেহারার প্রতি নজর রেখে তাঁর নাম দেন ‘ভেটকি’।
গ) আশু নিতান্ত ভালোমানুষ ছিল। বড় লাজুক ছিল সে। সে কোনো অসুবিধার কথা জানাত না, বরং সব কথাতেই মৃদু হাসত। ছুটির দিনে আশু তার বোনের সঙ্গে গাড়িবারান্দার সিঁড়িতে বসে খেলা করত। এক ছুটির দিনে বেশ বৃষ্টি হচ্ছিল। আশু তখন তার বোনের সঙ্গে গাড়িবারান্দায় বসে পুতুলের বিয়ে নিয়ে আলোচনা করছিল। শিবনাথ পণ্ডিত সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। বৃষ্টি আরম্ভ হতেই তিনি আশুদের গাড়িবারান্দায় দাঁড়িয়ে পড়েন। সেই সময় আশুর বোন তার অপরিচিত শিবনাথকে পুতুলের বিয়ের পৌরহিত্য করতে বলে। তখনই আশু তাদের পণ্ডিতমশাইকে দেখতে পায় এবং সব কিছু ফেলে ঘরে পালিয়ে যায়। ছুটির দিনে বোনের সঙ্গে আশুর পুতুল খেলার কথা শিবনাথ পণ্ডিত পরের দিন ক্লাসের সকলের সামনে বলেন এবং তখনই তিনি আশুকে নতুন নাম দেন। সেই সময় থেকেই আশুর নাম ‘গিন্নি’ হয়ে যায়।
ঘ) আশুদের ক্লাসের ছেলেদের মধ্যে আশু ছিল নিতান্ত ভালোমানুষ। তার কোনো অসুবিধার কথা সে কাউকে বলত না। সে খুব লাজুক প্রকৃতির ছেলে ছিল। সকলের সব কথাতেই সে মৃদু মৃদু হাসত। সে শ্রেণিতে রোজই পড়া করে আসত। স্কুলের অনেকেই তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য উন্মুখ ছিল। কিন্তু সে কোনো ছেলের সঙ্গে খেলা করত না।
ছুটির সময় সে স্কুলে একটুও দেরি না করে বাড়ির পথে পা বাড়াত। এক-একদিন আশুর স্কুলে আসতে দেরি হয়ে যেত। শিবনাথ পণ্ডিত দেরি হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে তার সদুত্তর দিতে পারত না। সেইজন্য মাঝে মাঝে তার লাঞ্ছনার সীমা থাকত না। পণ্ডিতমশাই তাকে হাঁটুর ওপর হাত দিয়ে পিঠ নিচু করে দালানের সিঁড়ির কাছে দাঁড় করিয়ে রাখতেন। চারটে ক্লাসের ছেলে সেই লজ্জাকাতর হতভাগ্য ছেলেকে এই অবস্থায় দেখতে পেত। এইভাবে দেরি করে স্কুলে আসার জন্য আশু শাস্তি পেত।
| প্রশ্ন: ৩। “…যে তাহাকে দেবতার বজ্রনাদের কাহারও ভ্রম হইতে পারে না।” (ক) যার সম্বন্ধে আলোচ্য কথাটি বলা হয়েছে, তার পরিচয় দাও। (খ) উক্ত ব্যক্তির সঙ্গে কোন্ দেবতার সাদৃশ্য উপলব্ধি করা যেত? (গ) তাকে কোন্ কোন্ দেবতা বলে ভুল হতো না ও কেন? (ঘ) ছেলেরা মনে মনে ঐ ব্যক্তির সম্পর্কে কী কামনা করত? |
উত্তর: ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গিন্নি’ (ICSE Class 9 Bengali Ginni) নামক ছোট গল্পের অন্যতম চরিত্র শিবনাথ পণ্ডিত সম্বন্ধে আলোচ্য কথাটি বলা হয়েছে। তিনি ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণি নীচের ছেলেদের পণ্ডিত ছিলেন। পড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছেলেদের অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় তিরস্কার করতেন ও দৈহিক অত্যাচার করতেন। এছাড়া ছেলেদের নানা বৈশিষ্ট্য দেখে তিনি তাদের কিছু ব্যঙ্গাত্মক নামকরণ করতেন, যাতে ছেলেরা মানসিক আঘাত পেত।
খ) শিবনাথ পণ্ডিত এমনভাবে ছেলেদের ওপর মানসিক ও দৈহিক অত্যাচার চালাতেন যে, ছেলেরা কখনো লজ্জায় ও কখনো আঘাতে জর্জরিত হয়ে মৃতপ্রায় হয়ে যেত। শিবনাথ ছাত্রদের জীবনে মৃত্যুর ভয়ঙ্কর ছায়া এনে দিত বলে ছাত্ররা তাঁকে যম দেবতার সঙ্গে তুলনা করত।
ICSE Class 9 Bengali Syllabus 2026-27: Exam Pattern, Books List & PDF Download
গ) যম ছাড়াও ছাত্ররা অনেক দেবতার কথা জানে। সেইসব দেবতাদের এক একজনের এক একরকম বৈশিষ্ট্য। ইন্দ্র, চন্দ্র, সূর্য, বরুণ, শিব, কার্তিক, গণেশ, বিষ্ণু প্রমুখরা ছিলেন দেবতাদের মধ্যে অন্যতম। এঁদের কেউ সিদ্ধিদাতা, কেউ সৌন্দর্যের দেবতা, কেউ তেজ প্রদানকারী, কেউ বা পৃথিবী রক্ষাকারী। তবে এঁদের কেউই মানুষের মৃত্যুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। একমাত্র যম দেবতাই মানুষের মৃত্যুর নিয়ন্ত্রণকারী। শিবনাথ পণ্ডিত যেহেতু ছাত্রদের অত্যাচার করে মানসিকভাবে বা দৈহিকভাবে তাদের মৃতপ্রায় করে তুলত, তাই তাঁকে ছেলেরা যম দেবতা ছাড়া অন্য কোনো দেবতার সঙ্গে তুলনা করত না।
ঘ) স্কুলের নীচু ক্লাসের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। ক্লাসে পড়ানোর সময় তিনি ছেলেদের যেমন কিল, চড়, চাপড় মারতেন, তেমনি প্রচণ্ড তীব্র, কটু ভাষায় তাদের তিরস্কার করতেন। শিবনাথের অত্যাচার তাদের অসহ্য লাগত। আবার তাঁর বাক্য জ্বালায় ছেলেদের প্রাণ বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতো। তাই পণ্ডিতমশাইকে তারা কেউই পছন্দ করত না। তারা মনে মনে কামনা করত যেন তিনি তাড়াতাড়ি যম দেবতার কাছে আশ্রয় পান। প্রকৃতপক্ষে উৎপীড়িত ছাত্ররা শিবনাথ পণ্ডিতের মৃত্যু কামনা করত।

| প্রশ্ন: ৪। “বালকদের পীড়ন করিবার জন্য আমাদের শিবনাথ পণ্ডিতের একটি অস্ত্র ছিল, সেটি শুনিতে যৎসামান্য কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত নিদারুণ।” (ক) অস্ত্রটি কী? (খ) শিবনাথ পণ্ডিত কাদের ওপর এই অস্ত্র প্রয়োগ করেছিলেন? (গ) তাঁর পীড়নের সময় ছেলেদের প্রাণ বের হতো কেন? (ঘ) শিবনাথ পণ্ডিত এই অস্ত্র প্রয়োগ করতেন কেন? |
উত্তর: ক) নতুন এক পদ্ধতিতে শিবনাথ পণ্ডিত ছাত্রদের পীড়ন করতেন। তিনি কখনো ছাত্রদের চেহারা দেখে, কখনো তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নতুন নতুন ব্যঙ্গাত্মক নামকরণ করতেন, যাতে ছাত্ররা খুব লজ্জায় পড়ত। এটাই ছিল পণ্ডিত শিবনাথের অস্ত্র।
খ) শিবনাথ পণ্ডিত তাঁর বেশ কিছু ছাত্রের ওপর এই অস্ত্র প্রয়োগ করেন। তিনি শশীশেখরের চেহারার প্রতি দৃষ্টি রেখে তার নাম দিয়েছিলেন ‘ভেটকি’। আবার আশুকে তার বোনের সঙ্গে পুতুল খেলতে দেখে তার নাম দেন ‘গিন্নি’।
গ) স্কুলের নীচু ক্লাসের ছেলেদের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। তিনি যখন-তখন ছেলেদের পিঠে কিল, চড়, চাপড় মারতেন। চারাগাছের ওপর শিলাবৃষ্টি পড়লে গাছটি যেমন কাবু হয়ে পড়ে, তেমনি ছোট ছোট ছেলেদের ওপর পণ্ডিতের পীড়নও বড়োই কষ্টদায়ক ছিল। এছাড়াও শিবনাথের মুখ দিয়ে সব সময় তিক্ত কটু কথা বের হতো, যা শুনে ছাত্ররা মনে মনে খুবই দুঃখ পেত। শিবনাথের এই তীব্র বাক্যজ্বালায় ছেলেদের তাই প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হতো।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরের পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ঘ) সাধারণত মানুষ নিজের চেয়ে নিজের নামকে বেশি ভালোবাসে। নিজের নামকে রাষ্ট্র করার জন্য মানুষ অনেক কষ্ট করে। এমনকি নিজের নাম বাঁচিয়ে রাখার জন্য মানুষ মরতেও দ্বিধা করে না। তাই নামপ্রিয় মানুষের নাম বিকৃত করে দিলে তাদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় স্থানে আঘাত করা হয়। শিবনাথ পণ্ডিতের একথা জানা ছিল বলে ছাত্রদের মানসিক আঘাত দেওয়ার জন্য তাদের আসল নাম বিকৃত করে নতুন নামকরণ করতেন। তাদের অস্বস্তিতে ফেলা, সকলের সামনে ছোট করা ও লজ্জিত করার জন্য শিবনাথ ছাত্রদের নতুন নামকরণ করতেন।

| প্রশ্ন: ৫। “পত্রপুটে গুটিকতক মিষ্টান্ন এবং ছোটো কাঁসার ঘটিতে জল লইয়া একটার সময় বাড়ি হইতে দাসী আসিত। আশু সেজন্য বড়ো অপ্রতিভ; দাসীটা কোনোমতে বাড়ি ফিরিলে সে যেন বাঁচে।” (ক) আশুরা কয় ভাই-বোন ছিল? আশুর সঙ্গে তাদের কিরূপ সম্পর্ক ছিল? (খ) স্কুলে আশুকে কে, কখন, কী খাবার দিতে আসত? (গ) আশু সম্পর্কে কী জানতে পারা যায়? (ঘ) আশুর কাছে একান্ত গোপনীয়তা কী ছিল? |
উত্তর: ক) আশুর এক বোন ছিল। অর্থাৎ আশুরা এক ভাই ও এক বোন ছিল। আশু তার বোনের সঙ্গে ছুটির দিনে খেলা করত। তাই মনে হয়, আশুর সঙ্গে তার বোনের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল।
খ) আশুদের বাড়ি থেকে এক দাসী পত্রপুটে গুটিকতক মিষ্টান্ন এবং ছোটো কাঁসার ঘটিতে জল নিয়ে বেলা একটার সময় স্কুলে আশুকে দিতে আসত।
গ) ‘গিন্নি’ গল্পের প্রধান চরিত্র হলো আশু। আশু তাদের ক্লাসের মধ্যে এক নিতান্ত ভালোমানুষ ছিল। তার কোনো অসুবিধা হলে সে মুখ ফুটে কাউকে তার অসুবিধার কথা জানাত না। সে ছিল খুবই লাজুক প্রকৃতির। সে ক্লাসের সব ছাত্রদের চেয়ে বয়সে ছোট ছিল। সব কথাতেই সে কেবল মৃদু মৃদু হাসত। আশু পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল, সে রোজ স্কুলে পড়া করে আসত। আশুর সঙ্গে স্কুলের অনেক ছেলে ভাব করার চেষ্টা করত। কিন্তু আশু কারো সঙ্গে খেলা করত না। স্কুল ছুটি হওয়া মাত্রই সে সরাসরি বাড়ি চলে আসত।
ঘ) স্কুলে যে সব ছাত্ররা আসত, তাদের সকলের বাড়ি থেকে কেউ জলখাবার নিয়ে আসত না। তাই যখন তার বাড়ি থেকে দাসী জলখাবার নিয়ে আসত, তখন আশু অপ্রতিভ হতো। সকলের সামনে তার লজ্জা করত। দাসী বাড়ি না যাওয়া পর্যন্ত সে অস্বস্তিতে কাটাত, দাসী বাড়ি ফিরলে সে যেন বেঁচে যেত। আশু স্কুলের অন্যান্য ছাত্রদের থেকে অতিরিক্ত কিছু সুবিধা পাচ্ছে, তা অন্য ছাত্রদের কাছে প্রকাশ করতে সে ইচ্ছুক ছিল না। আশু যে বাড়ির কেউ, বাপ-মায়ের ছেলে, বোনের ভাই— তা ছিল তার কাছে গোপন কথা। এই গোপন কথা যাতে বন্ধুদের কাছে প্রকাশ না পায়, তার জন্য আশু একান্ত চেষ্টা করত।
Ginni Golpo Class 9 Summary: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গিন্নি’ গল্পের সহজ সারসংক্ষেপ- সেরা গাইড
| প্রশ্ন: ৬। “তাহার পরদিন স্কুলে আসিয়া চৌকিতে বসিয়া পন্ডিতমহাশয় দ্বারের দিকে চাহিয়া দেখিলেন, একখানি শ্লেট ও মসীচিহ্নিত কাপড়ের থলির মধ্যে পড়িবার বইগুলি জড়াইয়া লইয়া অন্যদিনের চেয়ে সংকুচিতভাবে আশু ক্লাসে প্রবেশ করিতেছে।” (ক) কোন্ দিনের পরের দিনের কথা বলা হয়েছে? সেদিন কী ছিল? (খ) সেইদিন আশু কোথায়, কার সাথে, কী খেলা করছিল? (গ) অন্যদিনের চেয়ে সেদিন আশু সংকুচিতভাবে ক্লাসে প্রবেশ করছিল কেন? (ঘ) সংকুচিতভাবে ক্লাসে ঢোকার পর পণ্ডিতমশাই কী করেন? তাতে আশুর কী অবস্থা হয়? |
উত্তর: ক) আশুদের স্কুলে একদিন ছুটি ছিল। আলোচ্য অংশে সেই ছুটির দিনের পরের দিনের কথা বলা হয়েছে। সেইদিন সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ ছিল বলে আশুদের স্কুলে ছুটি ছিল।
খ) স্কুলে ছুটির দিন আশু তার বোনের সঙ্গে তাদের গাড়িবারান্দায় বসে খেলত। অন্যান্য ছুটির দিনের মতো গ্রহণের দিনও আশু তার বোনের সঙ্গে গাড়িবারান্দার সিঁড়িতে বসে পুতুল খেলছিল। সেদিন তাদের পুতুলের বিয়ে ছিল।
গ) আশু গ্রহণের দিন যখন তাদের গাড়িবারান্দার সিঁড়িতে বসে পুতুল খেলছিল, তখন হঠাৎ বৃষ্টি নামায় শিবনাথ পণ্ডিত ওই গাড়িবারান্দায় এসে আশ্রয় নেন। আশুর বোন তাঁকে তাদের পুতুলের বিয়ের পৌরহিত্য করতে বলে। তখন আশু পণ্ডিতমশাইকে (ICSE Class 9 Bengali Ginni) দেখতে পায় এবং পণ্ডিতমশাইও তাকে দেখে ফেলেন। আশু পণ্ডিতমশাইয়ের স্বভাব সম্বন্ধে জানত। সে জানত যে, পণ্ডিতমশাই পরের দিন ক্লাসের সকলের সামনে তার পুতুল খেলার প্রসঙ্গ তুলবেন এবং তা নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করবেন। এই বিষয়ে সচেতন ছিল বলেই আশু তার পরের দিন সংকুচিতভাবে ক্লাসে প্রবেশ করে।
ঘ) আশু সংকুচিতভাবে ক্লাসে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে শিবনাথ পণ্ডিত তাকে ‘গিন্নি’ বলে সম্বোধন করেন এবং ক্লাসে প্রবেশ করতে বলেন। তারপর তিনি সকলের সামনে পূর্বদিনে দেখা আশুর পুতুল খেলার ঘটনাটি বলেন। সেদিন থেকে ক্লাসের সকলের কাছে তার নতুন নাম হয় ‘গিন্নি’। শিবনাথ আশুর ‘গিন্নি’ নামকরণ করায় প্রথমে আশু অন্য দিনের মতো মৃদু মৃদু হাসতে থাকে এবং চারদিকের কৌতুকহাস্যে ঈষৎ যোগ দেওয়ার চেষ্টা করে।
এই সময় একটার ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে আশুর বাড়ির দাসী জলখাবার নিয়ে উপস্থিত হলে হাসতে হাসতে আশুর মুখ, কান টকটকে লাল হয়ে ওঠে। তার ব্যথিত কপালের শিরা ফুলে ওঠে। তার উচ্ছ্বসিত অশ্রুজল বাধ মানে না। ক্লাসের ছেলেরা পরম আহ্লাদে আশুকে ঘিরে ‘গিন্নি গিন্নি’ করে চিৎকার করতে থাকে। তখন আশুর মনে হয়, ছুটির দিনে ছোট বোনের সঙ্গে খেলা করাটা তার জীবনের একটি লজ্জাজনক ভ্রম। আশুর বিশ্বাস, পৃথিবীর কোনো লোক কোনো কালে এই ঘটনার কথা ভুলতে পারবে না।
পরীক্ষার জন্য টিপস
- ✓ শিবনাথ পণ্ডিত চরিত্রটি ভালোভাবে পড়বে।
- ✓ আশুর ‘গিন্নি’ নামকরণের ঘটনা মুখস্থ না করে বুঝে পড়বে।
- ✓ মূলভাব ও চরিত্র বিশ্লেষণ আলাদা করে প্রস্তুত করবে।
- ✓ ৩ নম্বর ও ৫ নম্বরের উত্তর নির্দিষ্ট শব্দসীমার মধ্যে লেখার অভ্যাস করবে।
এই আর্টিকেলটি তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে বলে আশা করি। তবে ‘গিন্নি’ গল্প থেকে শুধু এই প্রশ্নগুলিই গুরুত্বপূর্ণ নয়। খুব শীঘ্রই আমরা এই গল্পের আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, MCQ, Short Answer Questions (SAQ), Character Analysis এবং পরীক্ষাভিত্তিক Practice Set প্রকাশ করব। তাই নিয়মিত Bengali Notes-এ ভিজিট করতে ভুলো না। পরীক্ষার আগে সম্পূর্ণ প্রস্তুতির জন্য ‘গিন্নি’ গল্পের অন্যান্য নোটস ও স্টাডি মেটেরিয়ালও অবশ্যই দেখে নিও।

One Comment