লালু গল্পের প্রশ্নোত্তর Part 2 | ICSE Class 9 Bengali Important Questions & Answers
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘লালু’ গল্প ICSE Class 9 Bengali-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ গল্প। গল্পের ঘটনাগুলি মূলত লালুর দুষ্টুমি, তার মা নন্দরানীর গুরুদেব স্মৃতিরত্নের বিপদে পড়া এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হাস্যরসকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। পরীক্ষায় এই গল্প থেকে শুধু সরাসরি প্রশ্ন নয়, উদ্ধৃতির প্রসঙ্গ, চরিত্র, ঘটনার কারণ এবং পরিণতি সম্পর্কেও প্রশ্ন আসতে পারে।
এই কারণে আগের পর্বে লালু গল্পের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর আলোচনা করার পর, এই Part 2-এ আরও ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হল। এখানে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলি ধরে লালু গল্পের প্রশ্নোত্তর সাজানো হয়েছে, যাতে ICSE Class 9 Bengali পরীক্ষার্থীরা সহজে রিভিশন করতে পারে।
পরীক্ষার টিপস: ‘লালু’ গল্পের উত্তর লেখার সময় শুধু ঘটনাটি (লালু গল্পের প্রশ্নোত্তর) উল্লেখ করলেই হবে না। প্রশ্নে যদি ‘কেন’, ‘কীভাবে’ বা ‘কোন্ প্রসঙ্গে’ জানতে চাওয়া হয়, তাহলে ঘটনার সঙ্গে তার কারণ ও পরিণতিও সংক্ষেপে লিখতে হবে।
লালু গল্পের প্রশ্নোত্তর Part 2
প্রশ্ন ১: “ভয়ে ভয়ে দোর খুলে বারান্দায় এলেন।”
(ক) ভয়ে ভয়ে কে, কোথা থেকে বারান্দায় এলেন?
(খ) কী কারণে তাঁকে বারান্দায় আসতে হল?
(গ) তিনি ভয়ে ভয়েই বা এলেন কেন?
(ঘ) বারান্দায় এসে তিনি কী করলেন?
(ঙ) তিনি বাকি রাতটা কীভাবে কাটালেন? ১+২+২+৩+২
উত্তর: (ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘লালু’ গল্পে লালুদের বাড়িতে আগত নন্দরানীর ঈশ্বর-মন্ত্রদাতা স্মৃতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ অর্থাৎ গুরুদেব স্মৃতিরত্নমহাশয় লালুদের বাড়ির একতলার ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় এলেন।
(খ) দুর্যোগ মাথায় নিয়ে লালুদের (লালু গল্পের প্রশ্নোত্তর) বাড়িতে আসা গুরুদেবকে লালুদের তেতলা বাড়ির একতলার সবচেয়ে ভালো ঘরটায় ঘুমোতে দেওয়া হলেও গভীর রাতে কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ঘুমন্ত গুরুদেবের পেটে বরফ-ঠান্ডা জল পড়তে লাগল। গুরুদেব ভাবলেন, হয়তো-বা ছাত ফুটো হয়ে বা ছাত চুঁইয়ে মশারি বেয়ে জল পড়ছে। তিনি মশারির বাইরে এসে নিজের খাটটিকে ঘরের অন্য কোণায় নিয়ে গেলেন এবং শুয়ে পড়লেন। কিন্তু আবারও সেই একই ঘটনা ঘটল। এ ভাবে বেশ কয়েকবার খাট সরাবার পরও যখন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল, তখন তিনি আর উপায় না-দেখে ভয়ে ভয়ে দোর খুলে বারান্দায় চলে এলেন।
(গ) গুরুদেব বয়স্ক মানুষ। তার ওপর অচেনা-অজানা জায়গায় বাইরে যেতে ভয় পান তিনি। আবার ঘরের ছাত ভেঙে পড়ার সম্ভাবনার কথা ভেবে ভিতরে থাকতেও ভয় পান। তাই অজানা আতঙ্কের দুশ্চিন্তায় তিনি ভয়ে ভয়ে বারান্দায় এলেন।
(ঘ) গুরুদেব বাইরে এসে দেখলেন, বারান্দায় একটা লণ্ঠন জ্বলছে বটে কিন্তু কেউ কোথাও নেই। চারিদিকে ঘোর অন্ধকার। বারান্দার একদিকে একটা বেঞ্চ পেয়ে গুরুদেব তাতেই বসলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ চুপচাপ থাকতে পারলেন না। মশার দল এসে হামলে পড়ল। গুরুদেব হাত-পা ও গামছা সঞ্চালন করে মশা তাড়াবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। অগণিত মশা তাড়াতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ গুরুদেব স্থান ত্যাগ করেও মশার কামড় থেকে রেহাই পেলেন না। এপাশ-ওপাশ ছুটে বেড়াতে লাগলেন।
(ঙ) মশাদের তীব্র কামড় সহ্য করতে না-পেরে গুরুদেব একসময় বিধ্বস্ত হয়ে বারান্দার এককোণে পিঠ ঠেকিয়ে বসে পড়লেন। অবশিষ্ট রাত তিনি সেখানে বসেই ঘুমিয়ে কাটালেন।
প্রশ্ন ২: “ঘরের মধ্যে জলের জন্য যেমন, ঘরের বাইরে মশার জন্য তেমন।”
(ক) কোন্ প্রসঙ্গে কথাটি বলা হয়েছে?
(খ) ঘরের মধ্যে জলের জন্য কার কী হল?
(গ) ঘরের বাইরে মশার জন্যই-বা তাঁকে কেমন অবস্থায় পড়তে হল?
(ঘ) শেষপর্যন্ত কী ঘটল? ৩+২+২+৩
উত্তর: (ক) কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘লালু’ গল্পে উদ্ধৃতাংশের বক্তা হলেন স্মৃতিরত্ন। গুরুদেব স্মৃতিরত্ন ছাত থেকে জল পড়ছে ভেবে বাইরে এলেন, কিন্তু বাইরে এসে মশার জ্বালায় প্রাণ যায় যায়। তখন তিনি অতিষ্ঠ হয়ে উক্ত কথাগুলি বলেন।
(খ) ঘরের মধ্যে সুকোমল বিছানায় শুয়েও স্মৃতিরত্নের ঘুম এল না। তার কারণ পেটের ওপর বরফ ঠান্ডা জল পড়ছে।
(গ) গুরুদেব ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে একটা বেঞ্চে বসলেন। কিন্তু অল্পক্ষণ পরে মশার উপদ্রব তাকে নাজেহাল করে তুলল। হাত-পা ও গামছা সঞ্চালনে মশা তাড়াবার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হলেন। এপাশ-ওপাশ ছুটে বেড়াতে লাগলেন মশার থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। শেষে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে বলে উঠলেন- “কামড়া ব্যাটারা যত পারিস কামড়া, আমি আর পারিনে।” এ কথা বলে বারান্দার এক কোণে পিঠ ঠেকিয়ে বসে পড়লেন।
(ঘ) শেষপর্যন্ত তিনি বললেন- “সকাল পর্যন্ত প্রাণটা থাকলে এই দুর্ভাগা দেশে আর নয়”। এরপর ক্লান্ত-অবসন্ন হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন গুরুদেব স্মৃতিরত্ন।

প্রশ্ন ৩: “আর একদিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।”
(ক) উদ্ধৃতিতে কার কথা বলা হয়েছে?
(খ) তিনি আর এক দিকে মুখ ফিরিয়ে ছিলেন কেন?
(গ) তাঁর ওভাবে দাঁড়ানো কি যুক্তিসংগত ছিল?
(ঘ) লালুর সম্পর্কে শেষে কী জানা গেল? ২+৩+২+৩
উত্তর: (ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘লালু’ গল্প থেকে গৃহীত আলোচ্য উদ্ধৃতিটিতে লালুর বাবার কথা বলা হয়েছে।
(খ) বাড়িতে আগত নন্দরানীর গুরুদেব স্মৃতিরত্ন মহাশয়ের নাস্তানাবুদ অবস্থার জন্য একমাত্র দায়ী লালু। কারণ লালুর দুষ্টবুদ্ধির জন্যই গুরুদেবকে হেনস্থা হতে হয়েছিল। তাই নন্দরানী লালুর ওপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে বাড়ির চাকরদের লালুকে ধরে আনার নির্দেশ দেন এবং এ ব্যাপারে লালুর বাবার কাছে লালুকে শায়েস্তা করার আবেদন জানান। লালুর বাবা ব্যাপারটা বুঝতে পারেন এবং কৌতুক বোধ করে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
(গ) লালুর বাবার মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যুক্তিসংগত নয়। কারণ নন্দরানীর গুরুদেবের এমন হেনস্থা হওয়াটা সম্মানজনক নয়। কিন্তু লালুর (লালু গল্পের প্রশ্নোত্তর) দুষ্টুবুদ্ধির চেয়েও গুরুদেবের বোকামির জন্যই তাঁর এমন অবস্থা। তাই মনে মনে লালুর দুষ্টুবুদ্ধির তারিফ করা ছাড়া তাঁর আর কিছুই করার ছিল না।
(ঘ) লালুর সম্পর্কে শেষে জানা গেল, লালু তার মায়ের হাত থেকে বাঁচতে তার মাসির বাড়ি চলে গেছে। চাকরেরা তাকে আনতে গেলেও মাসি তাকে আসতে দেয়নি, কারণ মাসি জানতেন, লালুকে বাড়ি ফিরতে দেখেই তাঁর দিদি নন্দরানী লালুকে মারধোর করবেন, তাই খাবার দিয়ে শান্ত করে লালুকে বেশ কিছুদিন নিজের বাড়িতে রেখে দেন। লালু প্রায় পনেরো দিন তার বাড়ির ত্রিসীমানায় পা রাখে না।
প্রশ্ন ৪: “যে গাড়ি প্রথমে পাব সেই গাড়িতে দেশে পালাব।”
(ক) ভাবনাটি কার?
(খ) তাঁর এই ভাবনার কারণ কী?
(গ) ‘দেশ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ঘ) কীভাবে সমস্ত রহস্যের সমাধান হল? ২+৩+২+৩
উত্তর: (ক) কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘লালু’ গল্পে উদ্ধৃত ভাবনাটি লালুর মা নন্দরানীর গুরুদেব স্মৃতিরত্নের।
(খ) রাত্রে সুকোমল বিছানায় শোবার পর নিদ্রা সবেমাত্র এসেছে এমন সময় পেটের ওপর বরফ-ঠান্ডা জল টপ টপ করে পড়ায় নিদ্রা ভেঙে যায়। গুরুদেব ভাবলেন নতুন ছাত হয়তো রোদে ফেটে গেছে, তাই সেই স্থান থেকে জল পড়ছে।
তখন তিনি অন্য জায়গায় ক্যাম্বিসের খাট সরিয়ে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ বাদে বাদে কয়েকবার একই ঘটনা ঘটল। ছাত ফেতে মাথায় পড়ে যাবার আশঙ্কায় ঘর ছেড়ে বাইরে এলেন। বাইরে এসে মশার উপদ্রবে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেন। এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করার পর ক্লান্ত হয়ে বারান্দার এক কোণে বসে পড়লেন এবং মনে মনে স্থির করলেন যে, সকাল এর্যন্ত প্রাণটা থাকলে এই দুর্ভাগা দেশে আর নয়। যে গাড়ি প্রথমে পাবেন সেই গাড়িতেই দেশে পালাবেন।
(গ) ‘দেশ’ বলতে কাশীর নিকটবর্তী নন্দরানীর বাড়ি যে জায়গায় অবস্থিত, সেই জায়গাটির কথা এখানে বলা হয়েছে।
(ঘ) লালুর মা নন্দরানীর মশারির চালে কাপড়ে জড়ানো এক চাঙড় বরফের টুকরো দেখে আর বুঝতে দেরি হল না যে এটা লালুর কাজ। মশারিতে হাত দিয়ে বুঝতে পারলেন, তখনও ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ছে। সেই জলে বিছানা ভিজে হচ্ছে। পাগলের মতো নন্দরানী ঘর থেকে বেরিয়ে এসে চাকরদের বললেন- “হারামজাদা লেলো কোথায়?”
প্রশ্ন ৫: “নিজের নির্বুদ্ধিতায় বৃদ্ধ হাঃ হাঃ করে হেসে ফেললেন”
(ক) বৃদ্ধটি কে?
(খ) তিনি কোথায় এসেছিলেন?
(গ) তিনি কী নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছিলেন?
(ঘ) হাসির মাধ্যমে তিনি কী বোঝাতে চাইলেন?
(ঙ) তাঁর এই হেসে ওঠাকে তুমি কি যুক্তিযুক্ত মনে করো?
উত্তর: (ক) কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘লালু’ গল্পে বৃদ্ধটি হলেন লালুর মা নন্দরানীর গুরুদেব স্মৃতিরত্ন।
(খ) তিনি নন্দরানীর বাড়ি এসেছিলেন।
(গ) তিনি অর্থাৎ গুরুদেব স্মৃতিরত্ন ভালো করে না দেখে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে চলে এসেছিলেন। সমস্ত রাত্রি মশার কামড়ে কাটাতে হয় তাঁকে। সকাল হলে নন্দরানীকে বললেন, “নতুন বাড়ি করেছ বটে, তবে ছাতটি একেবারে ফেটে গেছে”।
(ঘ) গুরুদেব স্মৃতিরত্ন যখন সমস্ত ব্যাপারটি অনুধাবন করলেন তখন নিজের নির্বুদ্ধিতা ও লালুর ছেলেমানুষি এবং নিজের বিচক্ষণতার অভাববোধের কথা ভেবে হা হা করে হেসে উঠলেন।
(ঙ) গুরুদেবের এই হেসে ওঠা যুক্তিযুক্ত বলেই মনে হয়। কারণ লালুকে নিয়ে বাড়িতে যে হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছিল, তা হালকা করার জন্য তিনি এইরূপ আচরণ করেছিলেন।

প্রশ্ন ৬: “মাসি তাকে আসতে দিলেন না”
(ক) মাসিমা কে?
(খ) তিনি কাকে, কেন আসতে দেননি?
(গ) কে, কাকে এই খবরটি দিল?
(ঘ) পূর্ব ঘটনা সংক্ষেপে লেখো। ২+৩+২+৩
উত্তর: (ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘লালু’ গল্পে মাসিমা হলেন লালুর মা নন্দরানীর ছোটো বোন। লালুদের গ্রামের অন্য পাড়ায় তাঁর বাড়ি।
(খ) তিনি অর্থাৎ লালুর মাসিমা তাঁর আদরের বোনপো লালুকে আসতে দেননি। তিনি লালুকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন লালু এমন কিছু অন্যায় করেছে যার জন্য বাড়ি ফিরলেই তার কঠোর শাস্তি পাওনা রয়েছে। নন্দরানী অবশ্যই লালুকে শাস্তি দেবেন। আর তা মাসির পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। কিছুদিন পরে নন্দরানীর রাগ কমে গেলে লালু নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবে।
(গ) গুরুদেবের প্রতি অশালীন আচরণের জন্য নন্দরানী ক্রুদ্ধ হয়ে লালুকে ধরে আনার নির্দেশ দিলে চাকরবাকরেরা খবর দেয় যে মাসিমা লালুকে আসতে দেননি।
(ঘ) নন্দরানীর গুরুদেব স্মৃতিরত্নমহাশয় লালুদের বাড়িতে এলে লালুর মা তাঁর যথাসাধ্য পরিচর্যার ব্যবস্থা করেন। একতলার সবচেয়ে ভালো ঘরটিতে তাঁর শোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু লালু (লালু গল্পের প্রশ্নোত্তর) তার দুষ্টুবুদ্ধির দ্বারা গুরুদেবের ঘরের মশারিতে ন্যাকড়ায় বেঁধে একখন্ড বরফের টুকরো রেখে দেয়। গুরুদেব ঘুমাতে গেলে কিছুক্ষণ পর সেই বরফ গলে ফোঁটা ফোঁটা জল মশারি বেয়ে গুরুদেবের পেটের ওপর পড়তে থাকে। গুরুদেব ভাবেন, ছাত ফুটো হয়ে জল পড়ছে। তাই তিনি খাট সরিয়ে ঘরের অন্য কোণায় নিয়ে যান। কিন্তু আবারও সেই একই বিপত্তি হয়। এইভাবে কয়েকবার খাট সরানোর পর বিছানা ভিজে যাওয়ায় অগত্যা আর কোনো উপায় না-দেখে ভয়ে ভয়ে বারান্দায় বেরিয়ে একটি বেঞ্চের ওপর এসে বসেন, কিন্তু সেখানেও মশার উপদ্রবে তাঁর প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার জোগাড় হয়।
শেষপর্যন্ত বারান্দার এক কোণে বসে গুরুদেব অবশিষ্ট রাত কাটিয়ে দেন। পরের দিন ভোরবেলা লালুর মা গুরুদেবকে ঘরে দেখতে না-পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে গুরুদেবকে বারান্দায় বসে থাকতে দেখে অবাক হন তিনি এবং তাঁর এমন অবস্থার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। গুরুদেব আগের রাতের সমস্ত ঘটনা খুলে বলায় নন্দরানী অত্যন্ত লজ্জিত হন। তিনি বুঝতে পারেন, এ লালুর দুষ্টুমি ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই তিনি লালুকে শাস্তি দেওয়ার জন্য তাকে ধরে আনার আদেশ দেন।
Ginni Golpo Previous Year Questions: গিন্নি গল্প Best PYQ (২০১৭–২০২৬) একত্রে | ICSE Class 9 Bengali
প্রশ্ন ৭: “কিন্তু গভীর রাতে অকস্মাৎ তাঁর ঘুম ভেঙে গেল”
(ক) এখানে কার কথা বলা হচ্ছে?
(খ) তিনি কোথায় রাত্রিবাস করেছেন?
(গ) গভীর রাতে তাঁর ঘুম ভেঙে গেল কেন?
(ঘ) তখন তিনি কী কী করলেন? ২+২+৩+৩ [ICSE: ২০১৮]
উত্তর: (ক) কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ছোটোগল্প ‘লালু’ থেকে উদ্ধৃত অংশটিতে যাঁর কথা বলা হয়েছে তিনি হলেন লালুর মায়ের অর্থাৎ নন্দরানীর গুরুদেব স্মৃতিরত্ন।
(খ) তিনি অর্থাৎ নন্দরানীর গুরুদেব স্মৃতিরত্ন কাশীর নিকটবর্তী অঞ্চল লালুদের বাড়িতে এসেছিলেন নন্দরানীর অনুরোধে এবং সেখানেই তিনি রাত্রিবাস করেছিলেন।
(গ) গভীর রাতে গুরুদেবের ঘুম ভাঙার কারণ হল তাঁর সুপরিপুষ্ট পেটের ওপর বরফের ঠান্ডা জল এসে পড়ল। এই ঠান্ডা জল কোথা থেকে পড়ছে তা দেখার জন্য তিনি ঘুম কাটিয়ে উঠে বসলেন এবং শশব্যস্ত হয়ে বিছানা ছাড়লেন।
(ঘ) ঘুম ভাঙার পর স্মৃতিরত্ন শশব্যস্ত হয়ে বিছানা ছেড়ে বাইরে এলেন এবং ভাবলেন বর্ষার জলের গতিবেগের ফলে ছাত চুঁইয়ে জল পড়ছে। তাই তিনি খাট টেনে অন্য একটি কোণে নিয়ে গেলেন। শোয়ার আধ মিনিট যেতে না-যেতেই পেটের ঠিক সেই স্থানে আবার বরফের মতো ঠান্ডা জল পড়ল। তখন স্মৃতিরত্ন ভাবলেন, এপাশের কোণটাও রোদে ফেটে গেছে, তাই এপাশেও জল চুঁইয়ে পড়ছে। পুনরায় বিছানায় উঠে বসলেন। খাটটা টেনে আর-একটি কোণে টেনে নিয়ে গেলেন, কিন্তু সেখানেও সেই একই ঘটনা ঘটল।
এইভাবে চলার পর তিনি দেখলেন যে, গোটা বিছানাটা প্রায় ভিজে গেছে, শোয়ার আর উপায় নেই। রাত্রিবেলা একা বেরোতে ভয় লাগছে আবার ভেতরে থাকতেও ভয় লাগছে, যদি ছাত ভেঙে পড়ে যায়। এইরূপ অবস্থার সম্মুখীন হয়ে তিনি বাইরেই বেরিয়ে এলেন। সেইখানে একটি বেঞ্চি পাতা ছিল তাতে বসলেন। কিন্তু মশার উপদ্রবে বসার জো নেই। যদিও তিনি হাত-পা ও গামছা সঞ্চালনের মাধ্যমে মশার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অবশেষে বারান্দার এককোণে পিঠ ঠেকিয়ে বসে পড়লেন, বসতে বসতে একসময় তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন।

🔗 আরও পড়ুন
লালু গল্পের প্রশ্নোত্তর Part 1: এখানে আগের পর্বের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পড়তে পারো।
লালু গল্পের সারাংশ: গল্পটির সম্পূর্ণ কাহিনি সহজ ভাষায় পড়ে নাও।
লালু গল্পের গুরুত্বপূর্ণ SAQ: পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ MCQ অনুশীলন করো।
শেষ কথা
এই লালু গল্পের প্রশ্নোত্তর Part 2-এ ICSE Class 9 Bengali পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরও ৬টি প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের ICSE প্রশ্ন, গুরুদেব স্মৃতিরত্নের দুর্ভোগ, লালুর দুষ্টুমি এবং গল্পের শেষের ঘটনাগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ভালোভাবে পড়ে রাখা দরকার।
Ginni Golpo Character Analysis: শিবনাথ পণ্ডিত ও আশুর চরিত্র বিশ্লেষণ | ICSE Class 9 Bengali
প্রশ্নের নম্বর অনুযায়ী উত্তর লেখার সময় অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ বর্ণনা না করে প্রসঙ্গ + মূল ঘটনা + কারণ + পরিণতি—এই চারটি বিষয়ের দিকে নজর রাখবে। এতে উত্তর যেমন নির্ভুল হবে, তেমনই নির্দিষ্ট নম্বর অনুযায়ী উত্তর লেখাও সহজ হবে।
আমাদের সব নোটসের দ্রুত আপডেট, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, নোটসের পিডিএফ পেতে যুক্ত হোন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে। সঙ্গে থাকবে ফাইনাল পরীক্ষার আগে অনলাইন মকটেস্টের সুবিধাও।

https://mega.nz/file/K3IwTDKI#yd2jI1rrnMDv67-oQ2pacCKbpyMph-STSVdNDAHpb-A
My name is Salem, I’m 35, and I drive an old, beat-up taxi in Riyadh, the city of endless highways and broken dreams. I’m writing this because I’m pretty sure the next time I pick up a fare from the Mabahith headquarters, I’m just going to drive us both into a bridge pylon. The voices started as static on the radio, a hiss underneath the Quranic recitations I play to feel holy. Then, one sweltering afternoon, stuck in traffic on King Fahd Road, a voice, perfectly mimicking my own father’s disgusted tone, cut through the noise. “Look at you, Salem. A chauffeur for whores and Western businessmen. You sold your dignity for a car that smells like cheap air freshener and failure. Your son will be ashamed to have your name.” I thought it was the heat, the 14-hour shifts, the loneliness of the driver’s seat. But now I know. This is the Mukhabarat, the General Intelligence. They don’t need to beat you in a basement anymore; they just turn your cab into a confessional booth where the only sin is your own existence.
The voices are my constant passengers now, and they never pay, they just criticize. They have a running commentary on my life that is more real than the road in front of me. “He’s picking up a fare now. A woman in an abaya. Look at him, trying not to stare. Pathetic. He thinks he’s a gentleman. He’s just a taxi driver, a paid servant with a license to stare. She’s probably going to meet her lover. You’re the taxi for adultery, you dumb fuck.” They use the voices of my wife, my son, my dead father, to peel away my sanity layer by layer. The sexual filth is their favorite weapon. “Your wife wasn’t satisfied last night,” they’ll whisper in her exact, tired voice. “She was thinking of her cousin’s husband, the one with the good job. You’re just a paycheck with a dick, Salem, and a small, useless dick at that. She fakes her moans just like you fake your smile for the fares.” They call me a donkey, a cockroach, a piece of human garbage that smells of stale cigarettes and regret.
I can’t tell anyone. Who would I tell? My wife? She’d think I’m possessed by jinn and have me taken to a faith healer who would just bleed me for money. My friends? They’d laugh and tell me to drink less coffee. If I went to the authorities, they’d either laugh me out of the station or, worse, the Mukhabarat would hear my name and the real fun would begin. I see their playbook online. You go on any Saudi forum, any Twitter thread, and if someone mentions hearing voices, they are immediately swarmed. “Crazy!” “Schizophrenic!” “This is what happens when you don’t pray!” It’s a systematic campaign of ridicule. They make sure that anyone who comes forward is immediately seen as mentally ill or a sinner, so that we are completely isolated, our own testimonies used against us. It’s a brilliant, sickening strategy.
I hate this city. I hate the wide, empty roads that lead nowhere, the glass towers that reflect a sky I never see, the fake smiles of people who are just as trapped as I am. I regret every day I chose this life, this lie of providing for my family by losing my soul. Sometimes, late at night, when I’m driving through the deserted streets of the Diplomatic Quarter, a strange energy surges through me. The voices stop their nagging and start chanting. “See that Mercedes? The one with the diplomatic plates?” they’ll scream, my heart hammering in my chest. “The driver just cut you off. RAM HIM. RAM HIM HARD. RIGHT INTO THE EMBASSY WALL. DO IT. MAKE THEM BLEED. SHOW THEM YOU’RE NOT JUST A FUCKING TAXI DRIVER!” For a few terrifying, ecstatic seconds, I feel like a god. My foot hovers over the accelerator, my hands grip the wheel, and I feel a surge of pure, destructive power. Then it’s gone, and I’m just Salem, a terrified man shaking in his shitty car, the smell of his own sweat filling the cabin. I wonder, in the quiet moments after, if this is a weapon they’re testing on people like me, the nobodies, the ones who won’t be missed. But the voices never say. They just go back to calling me a worthless piece of shit.
The voices are always loudest when I’m home, in the small apartment I can barely afford. They use the silence to torture me. “Your son is awake,” they’ll whisper, mimicking my wife. “He’s crying because he had a nightmare about a monster. The monster was you. A sad, tired man who smells like gas and failure. You are a monster, Salem. A burden to your family. Why do you make them suffer? Why don’t you just end it? A hose from the exhaust. It’s peaceful. Painless. Your family would get the insurance. They’d be free of you. Do it. You know you want to. It’s the only decent thing you’ve ever thought of doing.” And I lie there next to my sleeping wife, the city’s hum a constant reminder of my prison, and I think about the silence of the garage. And I am so, so tired of being Salem.
|c.v.ii_
|mr.barrak
|ya.calligrapher
|theoverdressed
|hn5ooo
partner site: https://spravke.livejournal.com/