Canvasar Golpo: ক্যানভাসার গল্পের প্রশ্নোত্তর (5 Important Q&A)| বনফুল | PDF ডাউনলোড
বনফুলের ‘ক্যানভাসার’ গল্পটি ছোট পরিসরের একটি মজার অথচ গভীর অর্থবহ গল্প। ভৈরব, কাত্যায়নী এবং ক্যানভাসার হীরালালকে কেন্দ্র করে গল্পের ঘটনাগুলি ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। শুরুতে কাত্যায়নী ও ভৈরবের সামান্য পারিবারিক অশান্তি থেকেই পরিস্থিতির সূত্রপাত। পরে সেই রাগ গিয়ে পড়ে হীরালালের উপর এবং একটি সাধারণ দাঁতের মাজন বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় তর্ক, উত্তেজনা এবং শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ।
তবে ক্যানভাসার গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু এই মজার ঘটনাগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হীরালালের জীবনের করুণ বাস্তবতার কথা জানার পর ভৈরবের আচরণে যে পরিবর্তন আসে, সেখানেই গল্পটির মানবিক তাৎপর্য সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ক্যানভাসার গল্পের প্রশ্নোত্তর পড়ার সময় শুধু উত্তর মুখস্থ না করে ঘটনার কারণ, চরিত্রগুলির মনোভাব এবং ভৈরবের মানসিক পরিবর্তনটিও বোঝা জরুরি।
এই পোস্টে ক্যানভাসার গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরগুলি উদ্ধৃতি-ভিত্তিকভাবে সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে ১০ নম্বরের প্রশ্নের জন্য উত্তরগুলি এমনভাবে দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে পরীক্ষায় লিখতে সুবিধা হয়।
এর পাশাপাশি ক্যানভাসার গল্পের সারসংক্ষেপ-এ পুরো ঘটনাপ্রবাহ একসঙ্গে বুঝে নেওয়া যাবে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার দ্রুত প্রস্তুতির জন্য এই গল্পের SAQ (Short Answer Questions) এবং MCQ-ও আলাদাভাবে দেওয়া হবে। ফলে গল্পটি একবার পড়ে নেওয়ার পর Summary → Question Answer → SAQ → MCQ—এইভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গুছিয়ে নেওয়া যাবে।
💡 পরীক্ষার টিপস: উদ্ধৃতিভিত্তিক প্রশ্নে শুধু ‘কে বলেছে’ লিখলেই পুরো নম্বর পাওয়া যায় না। উদ্ধৃতিটি কোন পরিস্থিতিতে বলা হয়েছিল এবং তার পর কী ঘটেছিল—এই অংশগুলিও উত্তরের মধ্যে সংক্ষেপে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যানভাসার গল্পের প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: ‘কলহের মূল কারণ অবশ্য কাত্যায়নী…’
ক) কোন লেখকের লেখা কোন গল্পের অংশ?
উত্তর: বিশিষ্ট লেখক বনফুল ওরফে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘ক্যানভাসার’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি নেওয়া হয়েছে।
খ) কাত্যায়নী কে? কার সঙ্গে তাঁর কলহ হয়েছিল?
উত্তর: কাত্যায়নী হল ভৈরবের স্ত্রী। গল্পের শুরুতেই কাত্যায়নী ও ভৈরবের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে কলহের সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ, কাত্যায়নীর সঙ্গে তাঁর স্বামী ভৈরবেরই বিবাদ হয়েছিল।
গ) কেন তাঁদের মধ্যে কলহ শুরু হয়েছিল?
উত্তর: কাত্যায়নীর একটি শখ ছিল শৌখিন শাড়ি কেনার। কিন্তু ভৈরবের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় তার স্ত্রীর সেই শখ পূরণ করার সামর্থ্য ছিল না। ভৈরব বাস্তব সমস্যার সমাধান না করে নানা মনভোলানো কথা বলায় কাত্যায়নী আরও বিরক্ত হয়ে ওঠে।
একসময় কাত্যায়নী রাগের মাথায় ভৈরবকে বুঝিয়ে দেয় যে, যখন স্ত্রীকে নিজের পছন্দের জিনিস কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তখন বিয়ে করারই বা কী প্রয়োজন ছিল। তার এই কথায় ভৈরবের আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। অপমানিত ও রাগান্বিত হয়ে ভৈরব বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
এই পারিবারিক অশান্তিই পরবর্তীকালে গল্পের পরবর্তী ঘটনাগুলির সূচনা করে।
ঘ) কেন সেই কলহ আরও বেড়েছিল এবং কীভাবে?
উত্তর: কাত্যায়নীর সঙ্গে ঝগড়ার পর ভৈরব রাগের মাথায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর সে নিমগাছের ডাল ভেঙে দাঁত মাজতে শুরু করে। ঠিক সেই সময় সেখানে দাঁতের মাজন বিক্রি করতে আসে ক্যানভাসার হীরালাল।
হীরালাল তার মাজনের গুণাগুণ বলতে শুরু করলে ভৈরব বিরক্ত হয়ে যায়। কাত্যায়নীর সঙ্গে ঝগড়ার কারণে আগে থেকেই তার মেজাজ খারাপ ছিল। ফলে হীরালালের সাধারণ ব্যবসায়িক কথাবার্তাও তার কাছে অসহ্য মনে হয়।
একসময় ভৈরব হীরালালকে ‘দেশের শত্রু’ বলে আখ্যা দেয়। তার মতে, এই ধরনের ফেরিওয়ালারা নানা শৌখিন জিনিস এনে মানুষকে সেগুলির প্রতি আকৃষ্ট করছে এবং দেশের ক্ষতি করছে। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। বচসা ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ভৈরব হীরালালের গালে জোরে চড় মারলে তার বাঁধানো দাঁতের পাটি খুলে পড়ে যায়।
অর্থাৎ, কাত্যায়নীর সঙ্গে ভৈরবের ব্যক্তিগত কলহের রাগই শেষ পর্যন্ত হীরালালের সঙ্গে সংঘর্ষের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রশ্ন ২: ‘বিস্মিত ভৈরব… মশাই’
ক) ভৈরব কে? সে কাকে এ কথা বলেছে?
উত্তর: ভৈরব হল বনফুলের ‘ক্যানভাসার’ গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র এবং কাত্যায়নীর স্বামী। সে হীরালালকে উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেছিল।
খ) সে বিস্মিত হয়েছিল কেন?
উত্তর: দাঁতের মাজন বিক্রি করতে আসা হীরালালকে দেখে ভৈরব বিস্মিত হয়েছিল। কারণ এর আগে সে ওই গ্রামে হীরালালকে কখনও দেখেনি। এমনকি ওই পল্লিতে এইভাবে কোনো ফেরিওয়ালাকে আসতেও সে দেখেনি।
তার সামনে হঠাৎ একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষ সুটকেস হাতে এসে দাঁড়িয়েছিল। লোকটি আবার তার সঙ্গে কথা বলছিল এবং নিজের পণ্যের গুণাগুণ বোঝাচ্ছিল। তাই হীরালালের এই অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি ভৈরবের কাছে স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গ) ‘মশাই’ যাকে বলা হয়েছে, সেই কোথা থেকে এসেছিল?
উত্তর: এখানে ‘মশাই’ বলতে হীরালালকে বোঝানো হয়েছে। হীরালাল পেশায় একজন ক্যানভাসার। সে বিভিন্ন দ্রব্য বাড়ি বাড়ি এবং হাটেবাজারে ফেরি করে বিক্রি করত।
আসলে ওই পল্লিতে তার আসার কথা ছিল না। সে শহরের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু ট্রেনে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে সে নির্দিষ্ট জায়গায় না নেমে আরও দূরে চলে যায়। এইভাবে ‘ওভারক্যারেড’ হয়ে সে ওই পল্লিতে এসে পৌঁছায়।
সন্ধ্যার আগে ফেরার ট্রেন না থাকায় সে ভাবল, যেহেতু কিছু সময় এখানে থাকতে হবে, তাই এই সুযোগে যদি কিছু ব্যবসা করা যায়, তাহলে মন্দ কী। সেই উদ্দেশ্যেই সে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিল।
ঘ) বক্তার প্রশ্নের উত্তরে উভয়ের মধ্যে কী ধরনের কথাবার্তা হয়েছিল?
উত্তর: হীরালাল ভৈরবের কাছে এসে দাঁতের মাজন বিক্রি করার চেষ্টা করছিল। সে মাজনের গুণাগুণ বোঝাতে থাকে এবং ভৈরবকে মাজন কেনার জন্য আগ্রহী করে তুলতে চায়।
অন্যদিকে ভৈরব তখন এমনিতেই বিরক্ত ও রাগান্বিত ছিল। কাত্যায়নীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তার মন ভালো ছিল না। তাই হীরালালের কথাবার্তায় সে কোনো আগ্রহ দেখায়নি।
ভৈরব মনে করত, এই ধরনের ফেরিওয়ালারা গ্রামের মানুষের মধ্যে নানা ধরনের শৌখিন জিনিসের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে। তাই হীরালালের ব্যবসার কথাও তার কাছে বিরক্তিকর বলে মনে হয়। একদিকে ভৈরব দাঁতন করতে করতে হীরালালের সঙ্গে কথা বলছিল, অন্যদিকে হীরালাল বারবার তাকে মাজন কেনানোর চেষ্টা করছিল।
এই কথোপকথনই ধীরে ধীরে তর্কের দিকে এগিয়ে যায় এবং পরবর্তীকালে দুজনের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

প্রশ্ন ৩: ‘সরে পড়ুন মশাই… শত্রু’
ক) কে, কাকে এ কথা বলেছে?
উত্তর: এই কথা ভৈরব ক্যানভাসার হীরালালকে বলেছিল।
খ) কোন প্রসঙ্গে এবং কখন এ কথা বলা হয়েছিল?
উত্তর: হীরালাল ভৈরবের কাছে দাঁতের মাজন বিক্রি করতে এসেছিল। সে মাজনের নানা গুণাগুণ বলতে শুরু করলে ভৈরব বিরক্ত হয়ে পড়ে।
হীরালাল তার ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়মেই ভৈরবকে মাজন কেনানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু ভৈরব তার কথাকে ভালোভাবে নেয়নি। সে মনে করেছিল, এই ধরনের সৌখিন জিনিস বিক্রি করে যারা ঘুরে বেড়ায়, তারা মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
এই রাগ থেকেই ভৈরব হীরালালকে সরে যেতে বলে এবং তাকে ‘দেশের শত্রু’ বলে আখ্যা দেয়।
গ) ‘দেশের শত্রু’ বলতে বক্তা কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ভৈরবের মতে, যারা বিভিন্ন ধরনের সৌখিন ও অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে বেড়ায়, তারা দেশের মানুষের মধ্যে সেইসব জিনিসের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করছে। তার চোখে এই ধরনের মানুষই দেশের ক্ষতি করছে।
তবে ভৈরবের এই ধারণার পিছনে তার নিজের ব্যক্তিগত হতাশারও প্রভাব ছিল। তার আয়-রোজগার কম হওয়ায় সে নিজের ইচ্ছেমতো কোনো শৌখিন জিনিস কিনতে পারে না। কাত্যায়নীর শখ পূরণ করতে না পারার জন্যও তার মনে অস্বস্তি ছিল। ফলে হীরালালের মতো একজন ফেরিওয়ালার উপস্থিতি তার সেই ক্ষোভকে আরও উসকে দেয়।
তাই ‘দেশের শত্রু’ কথাটি শুধু ভৈরবের সামাজিক মতামত নয়; এর মধ্যে তার নিজের অভিমান, হতাশা ও ক্ষোভেরও প্রকাশ ঘটেছে।
ঘ) উত্তরে শ্রোতাটি বক্তাকে কী বলেছিল?
উত্তর: ভৈরব হীরালালকে ‘দেশের শত্রু’ বললে হীরালাল প্রথমে উত্তেজিত না হয়ে হেসে উত্তর দিয়েছিল—দেশে দাঁতের রোগের অভাব নেই।
হীরালাল আসলে নিজের ব্যবসার কথাই বোঝাতে চেয়েছিল। তার মতে, মানুষের দাঁতের সমস্যা থাকলে দাঁতের মাজনের প্রয়োজনও থাকবে। কিন্তু তার এই উত্তর ভৈরবের রাগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
ভৈরব তখন হীরালালকে গ্রাম থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। কিন্তু হীরালালও চুপ করে থাকার মানুষ ছিল না। সে ভৈরবের কথার প্রতিবাদ করে এবং প্রশ্ন তোলে—ভৈরব কি এই গ্রামের মালিক? এই প্রশ্নের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৪: ‘যুক্তিযুক্ত হইলেও … আঘাত করিল’
ক) কার কোন উক্তি ভৈরবকে আঘাত করেছিল?
উত্তর: হীরালাল ভৈরবকে প্রশ্ন করেছিল, সে কি এই গ্রামের মালিক? হীরালালের এই প্রশ্নই ভৈরবের আত্মসম্মানে আঘাত করেছিল।
ভৈরব নিজে গ্রামের মালিক না হলেও গ্রামের মধ্যে নিজের একটা কর্তৃত্ব আছে বলে মনে করত। তাই হীরালালের প্রশ্নটিকে সে সাধারণ প্রশ্ন হিসেবে নেয়নি। তার মনে হয়েছিল, হীরালাল যেন তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে।
খ) তার সম্পর্কে ভৈরবের মনে কখন কোন ভাবনা এসেছিল?
উত্তর: হীরালালের কথায় রেগে গিয়ে ভৈরবের মনে হয়েছিল, সে নিজে হয়তো এই গ্রামের মালিক নয়, কিন্তু হীরালালকে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা তার আছে।
হীরালালের মতো ফেরিওয়ালাদের সম্পর্কে ভৈরবের ধারণাও ভালো ছিল না। তার মনে হয়েছিল, এই ধরনের লোকেরা নানা রকম সৌখিন জিনিসের প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদের আকৃষ্ট করে তুলছে। তাই হীরালালকে সে শুধু একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে দেখছিল না; তার চোখে হীরালাল ছিল এমন এক শ্রেণির প্রতিনিধি, যারা সমাজে অপ্রয়োজনীয় আকর্ষণ তৈরি করছে।
এই বিরূপ মনোভাবের কারণেই ভৈরবের রাগ আরও বাড়তে থাকে।
গ) এরপর ভৈরব সেই ব্যক্তিটির প্রতি কী কাণ্ড ঘটাল?
উত্তর: বচসা ক্রমে বাড়তে থাকলে ভৈরব হীরালালকে কড়া ভাষায় গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলে। কিন্তু হীরালালও ভৈরবের কথা মেনে নেয়নি। সে নিজের অবস্থান থেকে সরে যেতে রাজি ছিল না।
দুজনের মধ্যে তর্ক ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ভৈরব নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে হীরালালের গালে জোরে চড় মারে।
এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, সেই মুহূর্তে ভৈরব যুক্তির চেয়ে নিজের রাগ ও আত্মসম্মানের বশে বেশি কাজ করছিল।
ঘ) তাতে আরও আশ্চর্যজনক কোন ঘটনা ঘটল?
উত্তর: ভৈরবের জোরে চড় খাওয়ার পর হীরালালের মুখ থেকে তার বাঁধানো দাঁতের পাটি খুলে পড়ে যায়। ফলে হীরালালকে মুহূর্তের মধ্যে ফোকলা দেখায়।
এই দৃশ্য দেখে ভৈরব নিজেই আবার বিস্মিত হয়ে যায়। কারণ এতক্ষণ সে জানত না যে হীরালালের দাঁত বাঁধানো। তার চড়ের ফলে দাঁতের পাটি খুলে যাওয়ার ঘটনাটি গল্পে একটি মজার এবং একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করে।
এই ঘটনাই পরবর্তীকালে হীরালালের সঙ্গে ভৈরবের সম্পর্কের মোড় ঘোরানোর পথ তৈরি করে।
প্রশ্ন ৫: ‘আচ্ছা দিন এক কৌটো মাজন…’
ক) কে, কাকে এ কথা বলেছে?
উত্তর: এই কথা ভৈরব ক্যানভাসার হীরালালকে বলেছিল।
খ) তার আগে ব্যক্তিটির সঙ্গে তার কী কী নিয়ে বিবাদ হয়েছিল?
উত্তর: এই কথা বলার আগে হীরালালের সঙ্গে ভৈরবের দাঁতের মাজন বিক্রি করা নিয়ে বচসা হয়েছিল। হীরালাল ভৈরবকে মাজন কেনানোর চেষ্টা করছিল এবং তার গুণাগুণ বোঝাচ্ছিল।
কিন্তু ভৈরব তখন বিরক্ত ও রাগান্বিত ছিল। সে হীরালালের ব্যবসাকে ভালো চোখে দেখেনি। তাই হীরালালকে সে ‘দেশের শত্রু’ বলেও আখ্যা দিয়েছিল।
এরপর দুজনের মধ্যে তর্ক বাড়তে থাকে। হীরালাল ভৈরবের কথার প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত ভৈরব তাকে চড় মারে। সেই চড়েই হীরালালের বাঁধানো দাঁত খুলে পড়ে যায়।
গ) ব্যক্তিটির কোন সত্য বক্তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল?
উত্তর: হীরালালের বাঁধানো দাঁত খুলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। সে ভৈরবকে নিজের জীবনের দুঃখের কথা জানায়। তখন ভৈরব জানতে পারে যে হীরালাল একজন অত্যন্ত কষ্টে থাকা মানুষ।
বিশেষ করে বুড়ো বয়সে উপযুক্ত ছেলের মৃত্যুর কথা শুনে ভৈরব স্তব্ধ হয়ে যায়। এতক্ষণ যে মানুষটিকে সে বিরক্তিকর ফেরিওয়ালা এবং ‘দেশের শত্রু’ বলে মনে করছিল, তার জীবনের পিছনে যে এত দুঃখ-কষ্ট রয়েছে, তা ভৈরব আগে জানত না।
হীরালালের কথা শুনে তার রাগ ধীরে ধীরে কমে যায় এবং তার জায়গায় সহানুভূতি তৈরি হয়। এই মানসিক পরিবর্তনের ফলেই ভৈরব শেষ পর্যন্ত হীরালালের কাছ থেকে এক কৌটো মাজন কিনতে চায়।
ঘ) বক্তার এই সিদ্ধান্ত থেকে তাঁর চরিত্র সম্পর্কে কী ধারণা পাওয়া যায়?
উত্তর: ভৈরবের এই সিদ্ধান্ত তার চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে। গল্পের শুরুতে তাকে আমরা রাগী, অভিমানী ও জেদি মানুষ হিসেবে দেখতে পাই। কাত্যায়নীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায় এবং সেই রাগের প্রভাব হীরালালের উপরও পড়ে। এমনকি সে রাগের বশে হীরালালকে চড়ও মারে।
কিন্তু হীরালালের জীবনের সত্য জানার পর ভৈরবের মন বদলে যায়। সে বুঝতে পারে, হীরালাল শুধু একজন মাজন বিক্রেতা নয়; তারও নিজের দুঃখ, অভাব এবং হারানোর কষ্ট রয়েছে।
তাই তার কাছ থেকে এক কৌটো মাজন কেনার সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র একটি জিনিস কেনার সিদ্ধান্ত নয়। এর মধ্যে একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছাও প্রকাশ পেয়েছে।
এই ঘটনাই ভৈরবের চরিত্রের মানবিক ও সহানুভূতিশীল দিকটি সবচেয়ে স্পষ্ট করে তোলে। অর্থাৎ, তার মধ্যে রাগ ও জেদের পাশাপাশি মানুষের কষ্ট বুঝতে পারার ক্ষমতাও রয়েছে। পরিস্থিতি বদলালে সেই মানবিক দিকটিই শেষ পর্যন্ত সামনে আসে।

ক্যানভাসার গল্পের প্রশ্নোত্তর: পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে মনে রাখবে
‘ক্যানভাসার’ গল্পের এই প্রশ্নগুলির উত্তর লেখার সময় শুধু ঘটনাগুলি ধারাবাহিকভাবে লিখলেই হবে না। বিশেষ করে শেষের ঘটনাটি মনে রাখা জরুরি।
কাত্যায়নীর সঙ্গে ভৈরবের ঝগড়া → হীরালালের আগমন → মাজন নিয়ে বচসা → ‘দেশের শত্রু’ বলা → হাতাহাতি → বাঁধানো দাঁত খুলে যাওয়া → হীরালালের দুঃখের কথা জানা → ভৈরবের মন পরিবর্তন।
এই ধারাটি মাথায় থাকলে ক্যানভাসার গল্পের অধিকাংশ উদ্ধৃতি-ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর নিজের ভাষায় লেখা অনেক সহজ হবে।
📚 আরও ICSE Bengali প্রস্তুতির জন্য
‘ক্যানভাসার’ গল্পের এই প্রশ্নোত্তর ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পর গল্পটির কাহিনিসংক্ষেপ ও মূলভাব একবার দেখে নিলে পুরো ঘটনাটি আরও পরিষ্কার হবে। এরপর অন্যান্য ICSE Class 9 Bengali গল্প ও কবিতার গুরুত্বপূর্ণ নোটস এবং বাংলা ব্যাকরণের অধ্যায়গুলিও দেখে নিতে পারো। বিশেষ করে বাক্য পরিবর্তন, বাচ্য পরিবর্তন ও বাগধারা-র মতো অধ্যায় নিয়মিত অনুশীলন করলে Literature-এর পাশাপাশি Grammar অংশের প্রস্তুতিও এগিয়ে যাবে।
👉 ক্যানভাসার গল্পের কাহিনিসংক্ষেপ
👉 ICSE Class 9 Bengali গল্প ও কবিতার নোটস দেখো
👉 বাচ্য পরিবর্তন এবং বাক্য পরিবর্তন Worksheet দেখে নাও

One Comment