দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর রচনা| ICSE Class 9 বাংলা | PDF Download
দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর রচনা ICSE Class 9 বাংলা পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা। প্রতি বছর পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় বহু শিক্ষার্থী দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর রচনা, তার মূল বক্তব্য এবং সহজ ভাষায় সম্পূর্ণ উত্তর খুঁজে থাকে। এই রচনায় প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব, অরণ্য ধ্বংসের ভয়াবহ পরিণতি, পরিবেশ দূষণ এবং মানুষের সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে আমরা পরীক্ষার উপযোগী ভাষায় দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর রচনা উপস্থাপন করেছি, যাতে ICSE ও অন্যান্য বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা সহজে পড়ে মনে রাখতে পারে। পাশাপাশি রচনাটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
এই রচনাটি ২০১৫ সালে ICSE পরীক্ষায় এসেছিল। ফলে পূর্বতন বছরগুলির প্রশ্নপত্র সলভ্ করতে গেলে এই রচনাটি দেখে রাখা জরুরি। ২০২৭ সালে পরীক্ষায় আসতেই পারে এই রচনা, একই শিরোনামে না হলেও অন্য ভাবে।
দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর
ভূমিকা:
আদিম মানুষদের প্রথম আশ্রয়স্থল ছিল অরণ্য। এই অরণ্য থেকে সে আহরণ করে নিত জীবনের রসদ। জীবন ছিল আনন্দ মুখরিত। মানুষ ধীরে ধীরে সভ্য হল। বাঁধতে শিখল ঘর, শিখল চাষবাস করতে। মানুষের প্রয়োজনেই মানুষ অরণ্য নিধনে লিপ্ত হল।
অরণ্য ধ্বংসের কারণ:
কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অরণ্যকে ধ্বংস করতে বসেছে। বনের পর বন, জঙ্গলের পর জঙ্গল, কেউ বানাচ্ছে শহর। বড়ো বড়ো গাছ কেটে তৈরি করছে আসবাবপত্র। সভ্যতা আনয়ন করতে গিয়ে তারা বড়ো বড়ো পুকুর বুজিয়ে গড়ে তুলছে ফ্ল্যাট, অরণ্যকে (দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর রচনা) পরিষ্কার করে হচ্ছে শপিংমল। উঁচু উঁচু রাজকীয় ঢঙে গগনচুম্বী প্রাসাদ। অরণ্য সম্পদ বিপন্ন: অরণ্য সম্পদ বিপন্নের ফলে সাধারণ মানুষ পায় না তার বেঁচে থাকার রসদ। আশ্রয়হীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ইতস্তত।

অরণ্য থেকে যে সমস্ত ফলমূল খেয়ে মানুষ জীবনধারণ করত আজ আর তারা সেই ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিস পাচ্ছে না। বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, যা না পেয়ে আমাদের প্রাণভরে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ফলে আজ মানুষ কৃত্রিম অক্সিজেনের দ্বারস্থ হচ্ছে। শুধু মানুষের ক্ষেত্রে নয় বনজ জীব, পশু, পাখি আজ সবাই আশ্রয়হীন হয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ছে খাদ্যের প্রয়োজনে। এখন আর পাখির কলকাকলিতে অরণ্য মুখরিত হয় না। এই বিপন্নতার আশঙ্কায় আশঙ্কিত হয়ে রবীন্দ্রনাথ ‘সভ্যতার প্রতি’ কবিতায় বলেছেন-“দাও ফিরে সে অরণ্য/লও এ নগর।”
প্রকৃতির বিদ্রোহ:
অরণ্য কেটে মানুষ গড়ছে নগরসভ্যতা। ফলে প্রকৃতি বিরূপ হয়ে গর্জে উঠছে, দেখা দিচ্ছে চারিদিকে দূষণ। এই দূষণ পরিশুদ্ধ করার জন্য চাই প্রচুর পরিমাণে গাছ। গাছ কেটে ফেলার ফলে বায়ু পরিশুদ্ধ হচ্ছে না। কলকারখানা, এ যানবাহন বেড়ে যাওয়ার ফলে যে কার্বন ডাইঅক্সাইড এগুলি থেকে নির্গত হচ্ছে সেই পরিমাণ গাছ (দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর রচনা) আমাদের শহরে তো নেই = এমনকী পাশাপাশি অরণ্যেও নেই। ফলে গ্রিনহাউস গ্যাসের দাপট ক্রমশ বেড়ে চলেছে। বিশ্ব উন্নায়নের কারণে ঘন ঘন ভূমিকম্প হতে দেখা যাচ্ছে।

উপসংহার:
প্রকৃতিই মানবধাত্রী। আমাদের দ্বিতীয় জননী। প্রকৃতির স্নেহসুধারসে আমরা সিক্ত হয়ে বড়ো হই। প্রকৃতির জল-বায়ু আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। নির্বিচারে প্রকৃতির শত্রুতা করা জননী হত্যারই শামিল। মৃত্তিকার নির্ভরযোগ্য আশ্বাস, বাতাসের হিল্লোল, মেঘের বর্ষণ-সবই তো প্রকৃতির দান। যে আমাদের অকৃপণ দানে ভরিয়ে তোলে তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই। সরকার থেকে নোটিশ জারি করতে হবে গাছ কাটা (দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর রচনা) দন্ডনীয় অপরাধ। গড়ে তুলতে হবে জনসচেতনতা। সমাজের সমস্ত শ্রেণির মানুষের কাছে অরণ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরতে হবে। মনে রাখতে হবে, একটি গাছ একটি প্রাণ বাঁচাতে পারে।
এই রচনা অনুসরণে লেখা যায়
- অরণ্য ধ্বংস ও আধুনিক সভ্যতা
- বনসৃজন নাকি ধ্বংস
- অরণ্যের প্রয়োজনীয়তা
কীভাবে লিখবে?
এই রচনাটি অনুসরণ করে আরও যে তিনটি রচনা লেখা যায় সেগুলির সংক্ষিপ্ত ধারণা এখানে দেওয়া রইল পড়ুয়ারা যাতে পরীক্ষার আগে একবার চোখ বুলিয়ে যেতে পারে।
- অরণ্য ধ্বংস ও আধুনিক সভ্যতা: নগরায়ণ ও শিল্পায়নের প্রয়োজনে মানুষ যেভাবে অরণ্য ধ্বংস করে চলেছে, তারই প্রভাব ও পরিণতি নিয়ে এই রচনা লেখা যায়। “দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর” রচনাটি পড়লে সহজেই এই টপিকটিও তৈরি করা যায়।
মূল পয়েন্ট
নগরায়ণের প্রয়োজনে অরণ্য নিধন, শিল্পায়নের প্রভাব, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাণীজগতের বিপন্নতা, প্রতিকারের উপায় ও উপসংহার - বনসৃজন নাকি ধ্বংস: অরণ্য ধ্বংসের বিপরীতে বনসৃজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এই রচনা লেখা যায় — একটি তুলনামূলক আলোচনার আকারে।
মূল পয়েন্ট
বনভূমি ধ্বংসের ক্ষতিকর দিক, বনসৃজনের গুরুত্ব ও উপকারিতা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ (বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি), জনসচেতনতার ভূমিকা, ভবিষ্যতের দিশা ও উপসংহার - অরণ্যের প্রয়োজনীয়তা: মানবজীবনে অরণ্যের গুরুত্ব ঠিক কতটা, সেই দিকটি স্বতন্ত্রভাবে তুলে ধরে এই রচনা তৈরি করা যায়।
মূল পয়েন্ট
অক্সিজেনের প্রধান উৎস, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা, অর্থনৈতিক ও ঔষধি গুরুত্ব, মানবসভ্যতার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
রচনায় ভালো নম্বর পেতে কী করণীয়
শুধু রচনা মুখস্থ করলেই হবে না, পরীক্ষার খাতায় তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভালো নম্বর পেতে নিচের বিষয়গুলি মাথায় রাখা জরুরি —
- ✔ ভূমিকা ও উপসংহার আলাদা প্যারাগ্রাফে লিখবে, মূল অংশের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলবে না
- ✔ যথাসম্ভব উদ্ধৃতি বা কবিতার লাইন ব্যবহার করবে (যেমন এই রচনায় রবীন্দ্রনাথের “দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর” পঙ্ক্তিটি ব্যবহার করা যায়) — এতে পরীক্ষকের চোখে রচনা আরও গোছানো ও তথ্যনির্ভর মনে হয়
- ✔ প্রতিটি পয়েন্টের সঙ্গে বাস্তব উদাহরণ জুড়ে দেবে, শুধু তাত্ত্বিক কথা লিখলে নম্বর কম আসে
- ✔ নির্ধারিত শব্দসংখ্যার মধ্যে লেখা শেষ করবে — অতিরিক্ত লম্বা করলে সময় নষ্ট হয়, নম্বর বাড়ে না
- ✔ ভাষা যতটা সম্ভব সহজ ও শুদ্ধ বাংলায় রাখবে, অকারণে ইংরেজি শব্দ মেশাবে না
- ✔ উপসংহারে নিজের সংক্ষিপ্ত মতামত বা আহ্বান জুড়ে দেবে, এতে রচনাটি সম্পূর্ণতা পায়
- ❌ একটানা বড়ো প্যারাগ্রাফ লিখবে না — পয়েন্ট অনুযায়ী ভাগ করে লিখলে পড়তে ও নম্বর দিতে সুবিধা হয়
- ❌ প্রশ্নের বাইরে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য লিখবে না
পরীক্ষার জন্য আরও পড়ুন
যদি দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর রচনা তোমার কাজে লাগে, তাহলে নিচের গুরুত্বপূর্ণ বাংলা নোটসগুলিও পড়তে পারো—
- সভ্যতার প্রতি কবিতার সারাংশ
- সভ্যতার প্রতি প্রশ্নোত্তর
- ICSE Class 9 বাংলা রচনা
- গুরুত্বপূর্ণ টীকা ও সাজেশন
নিয়মিত নতুন স্টাডি মেটেরিয়াল পেতে BengaliNotes.in ভিজিট করতে এবং আমাদের WhatsApp ও Telegram চ্যানেলে যুক্ত থাকতে ভুলো না। এই নোটসটি শেয়ারও করতে পারো সহপাঠীদের সঙ্গে।

2 Comments