‘আধুনিক যুগে যন্ত্রই শক্তি’ রচনা | ICSE Class 9 Bengali Previous Year Important Essay
‘আধুনিক যুগে যন্ত্রই শক্তি’ রচনা ICSE Class 9 Bengali পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রচনা। এই রচনাটি ICSE 2025-এ পরীক্ষায় এসেছিল। Previous Year Composition হিসেবে এই বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার জন্য এখানে সহজ ভাষায় আধুনিক যুগে যন্ত্রই শক্তি রচনা, এর মূল ভাব, যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা, বিজ্ঞান ও আধুনিক সভ্যতার সম্পর্ক এবং একটি পরীক্ষোপযোগী উত্তর দেওয়া হয়েছে। যারা ICSE Class 9 Bengali Composition বা Previous Year Essay প্রস্তুত করছে, তাদের জন্য এই নোটটি বিশেষভাবে উপযোগী।
📚 Previous Year Alert
এই রচনাটি ICSE Class 9 Bengali 2025 পরীক্ষায় এসেছিল। তাই ভবিষ্যৎ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এটি অবশ্যই পড়া উচিত।

পরীক্ষার্থীদের জন্য
📝 Board : ICSE
📅 Previous Year : 2025
📖 Subject : Bengali
📚 Category : Composition
⭐ Difficulty : Easy
⏱ Reading Time : 3 Minutes
আধুনিক যুগে যন্ত্রই শক্তি
‘নমো যন্ত্র, নমো যন্ত্র, নমো যন্ত্র, নমো যন্ত্র!’
– মুক্তধারা নাটক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভূমিকা:
আধুনিক সভ্যতা মূলত যান্ত্রিক সভ্যতা। বিজ্ঞান দিয়ে চলেছে যন্ত্র, আর যন্ত্র দিয়েই চলেছে মানবসভ্যতার ক্রমোন্নতি। ভাবপ্রবণ মুহূর্তে আক্ষেপ-বিলাসী কবি যতই বলুন না কেন- ‘দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর’, তিনিও যে যান্ত্রিক সভ্যতায় পৃষ্ট, তা বলাই বাহুল্য। বস্তুত, যন্ত্রই বর্তমান জীবনস্রোতকে সচল রেখেছে।
আদিম যুগ থেকে বর্তমান যুগে যন্ত্রের বিবর্তন:
যন্ত্র যে কেবল আধুনিক মানুষকে শক্তি জোগাচ্ছে, তা নয়। আদিম যুগেও মানুষ যন্ত্র ব্যবহার করত। পার্থক্য হল, আধুনিক মানুষ আদিম যুগের মানুষের তুলনায় শতাধিক প্রকারে বেশি উন্নতমানের যন্ত্রনির্ভর। আদিম মানুষ পাথরের অস্ত্র ব্যবহার করে পশুপাখি শিকার করত। আত্মরক্ষাও করত পাথরের তৈরি অস্ত্রেরই সাহায্যে। অস্ত্রই ছিল তাদের যন্ত্র (‘আধুনিক যুগে যন্ত্রই শক্তি’ রচনা)। ক্রমে তারা লোহার ব্যবহার শিখল। লোহার অস্ত্র, লোহার বাসনকোসন ইত্যাদিতে তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠল। চলল ক্রমোন্নতি। হাজার রকম বিবর্তন ঘটল লৌহযন্ত্রের। মূলত বিজ্ঞানই ঘটাল এই বিবর্তন। মানুষ আপন দৈহিক শক্তি দিয়ে যে কাজ করতে পারে না, তার সৃষ্ট যন্ত্র সেই দুঃসাধ্য কাজ করে দিচ্ছে। যন্ত্রেরই আজ প্রাধান্য।
আধুনিক যুগে যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা:
আধুনিক সভ্যতার যন্ত্রের অবদান সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যন্ত্র জীবনকে দিয়ে চলেছে গতি। যন্ত্রই আজ জীবনকে সহজ ও আরামপ্রদ করে তুলেছে। অতীতে পৃথিবীটা কার্যত ছিল বিচ্ছিন্ন; এক জাতি অন্য জাতির কাছে ছিল অপরিচিত। যন্ত্র আজ গোটা পৃথিবীকে একটি বাড়িতে পরিণত করেছে, এক জাতিকে করেছে অন্য জাতির পরিবারের লোক। অতীতে পা ছিল যোগাযোগ রক্ষার একমাত্র সম্বল। পা যেখানে অক্ষম ছিল, যোগাযোগ সেখানে ছিল শূন্য। আজ এরোপ্লেন, জাহাজ, ট্রেন, টেলি-কমিউনিকেশন দূর-দূরান্তের মানুষের মধ্যে পারিবারিক সম্বন্ধ স্থাপন করে দিয়েছে। আজ মানুষ বলতে সক্ষম ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’, কিংবা ‘সব ঠাঁই মোর ঘর আছে দেশে দেশে পরমাত্মীয়’।
কলকাতায় বসে আজ মানুষ লন্ডনবাসীর সঙ্গে কথা বলছে, জাপানে বসে কলকাতার ময়দানের খেলা দেখছে। পঞ্চাশ বছর আগেও যে যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ অঙ্ক কষতে একজন সুদক্ষ করণিকের লাগত এক ঘণ্টা, যন্ত্র আজ সেই অঙ্ক করে দিচ্ছে পাঁচ মিনিটে। যে বক্তব্য লিখিত আকারে পেশ করতে বিশ বছর আগেও লাগত বিশ ঘণ্টা, আজ সেই বক্তব্যকে মাত্র এক ঘণ্টায় লিখিত রূপ দিয়ে চলেছে যন্ত্র।

গরমের দাবদাহে, শীতের কনকনানিতে অতীতে মানুষ কত কষ্টই না ভোগ করত! আজ বিদ্যুৎচালিত পাখা, এয়ার কুলার, এয়ার কন্ডিশনার মানুষকে কত আরামই না দিয়ে চলেছে। রেফ্রিজারেটর, ইলেকট্রিক ওভেন, বাস, ট্রাম, ট্যাক্সি ইত্যাদিও মানুষের যে দৈনন্দিন শ্রমের লাঘব ঘটিয়েছে এবং আরাম বৃদ্ধি করেছে, তা বলাই বাহুল্য। এক কথায় বলতে হয়- যন্ত্রকে বাদ দিয়ে বর্তমান জীবনের কথা ভাবাই যায় না। যন্ত্রের জালে আবদ্ধ মানুষ যন্ত্রের জালে আবদ্ধ বর্তমান পৃথিবীর মানুষ।
বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগেও যে মানুষ দু-এক ঘণ্টা প্রতিদিন পায়ে হেঁটে চলত, আজ সেই মানুষ দশ মিনিটও পায়ে হেঁটে চলতে বিমুখ। রামায়ণ-মহাভারতের মতো বিশাল বিশাল বই একদিন যে মানুষ হাতে নকল করত, আজ সেই মানুষ দশটি বাক্য স্বহস্তে লিখতে পরাম্মুখ। দু-তিন পাতার হিসেব করতে যে মানুষের একদিন নিষ্ঠার ও ধৈর্যের অভাব ছিল না, সেই মানুষ আজ আধ মিনিটের যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ কাগজে-কলমে করতে অনিচ্ছুক। বস্তুত ঘরে, বাইরে, অফিসে, দোকানে, সমিতিতে-সর্বত্র আজ যন্ত্র আর যন্ত্র। যন্ত্র (‘আধুনিক যুগে যন্ত্রই শক্তি’ রচনা) মানুষের শ্রমক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে, মানুষকে শ্রমবিমুখ করে তুলছে, করে তুলছে অধিকতর অলস ও আয়েসি, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই।
উপসংহার:
মনুষ্যসৃষ্ট কোনো বস্তুই নিছক সুফলদাতা নয়। যা সুফল দেয়, তা কিছু-না-কিছু কুফল দেয়। যন্ত্র যে কিছুটা যন্ত্রণা দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। তবু দেখতে হবে, পাল্লায় ভারী কোনটি-সুফল, না কুফল। যন্ত্রের সুফলগুলিই যে পাল্লায় ভারী, এ কথা বোধ করি বিশ্বনিন্দুক ছাড়া কেউ অস্বীকার করবেন না। দু-তিন ঘণ্টার জন্য ট্রেন বা বাস বা ট্রাম বা টেলিফোনটি বা কম্পিউটারটি অচল হলেই যে যন্ত্রকে কুফলদাতা বলে নিন্দা করতে হবে, এমন বিধান নিশ্চয়ই কোনো সুবিবেচক দেবেন না।
এই রচনার অনুসরণে লেখা যায়…
যন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি হল বিজ্ঞান। তাই “আধুনিক যুগে যন্ত্রই শক্তি” রচনা পড়লে সহজেই “বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ” রচনাটি লেখা যায়।
মূল পয়েন্ট
বিজ্ঞানের অবদান, যন্ত্রের উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও মানবসভ্যতা, অপব্যবহারের ক্ষতি, উপসংহার
এই রচনায় যন্ত্রের ব্যবহার, যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহনের কথা রয়েছে। একই ধারণা ব্যবহার করে “দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের প্রভাব” রচনা লেখা যায়।
মূল পয়েন্ট
ঘরে বিজ্ঞানের ব্যবহার, স্কুলে প্রযুক্তি, চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক জীবন
“আধুনিক যুগে যন্ত্রই শক্তি” মূলত আধুনিক সভ্যতার কথাই বলে। তাই একই ধারণা থেকে “আধুনিক সভ্যতা ও বিজ্ঞান” অথবা “বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন” বিষয়েও সহজে রচনা লেখা যায়।
মূল পয়েন্ট
আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যন্ত্রের ভূমিকা, সুবিধা ও অসুবিধা, ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
পরীক্ষায় কীভাবে লিখবে?
- ✔ ৮-১০ মিনিটে লিখতে পারবে
- ✔ ৪০০-৫০০ শব্দ যথেষ্ট
- ✔ উদ্ধৃতি দিলে নম্বর বাড়ে
পরীক্ষার টিপস
এই রচনা লিখলে—
- ✔ ভূমিকা ছোট রাখবে
- ✔ উদাহরণ দেবে
- ✔ উপসংহারে নিজের মতামত লিখবে
আরও পড়ুন
- পরিবেশ দূষণ রচনা
- বৃক্ষরোপণ রচনা
- বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ
- ICSE Bengali Syllabus 2026-27
One Comment