চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৪-৬: সারাংশ, টীকা ও ৫টি Important প্রশ্নোত্তর | ICSE Class 9
শঙ্করের রোমাঞ্চকর অভিযানের কাহিনি ‘চাঁদের পাহাড়’ ICSE Class 9 Bengali-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পাঠ। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শুধুমাত্র উপন্যাসটি পড়লেই হবে না, প্রতিটি অধ্যায়ের মূল ঘটনা, চরিত্রের ভূমিকা, গুরুত্বপূর্ণ টীকা এবং সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তরও ভালভাবে জানা প্রয়োজন। তাই এই পোস্টে চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৪-৬-এর সহজ ভাষায় সারাংশ, গুরুত্বপূর্ণ চাঁদের পাহাড় টীকা এবং পরীক্ষার জন্য বাছাই করা ৭টি চাঁদের পাহাড় প্রশ্নোত্তর একসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
এই চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৪-৬ সারাংশ ICSE Class 9-এর ছাত্রছাত্রীদের দ্রুত রিভিশনে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, অধ্যায়গুলির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলি সহজভাবে তুলে ধরার ফলে Chander Pahar Chapter 4-6 সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি হবে। যারা Chander Pahar Class 9 Notes, ICSE Class 9 Bengali Chander Pahar অথবা চাঁদের পাহাড় অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর খুঁজছেন, তাদের জন্য এই নোটটি বিশেষভাবে উপযোগী।
আগের পর্বে আমরা চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ১-৩-এর সারাংশ, গুরুত্বপূর্ণ টীকা এবং পরীক্ষার উপযোগী প্রশ্নোত্তর আলোচনা করেছি। এই পর্বে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অধ্যায় ৪-৬-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তুলে ধরা হল।
📖 চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৪: সারাংশ
স্টেশনে জলের খুব কষ্ট। স্টেশন থেকে মাইল তিনেক দূরে একটি জলাশয়ে শঙ্কর প্রায়ই স্নান করতে ও মাছ ধরতে যেত। একদিন সকালের দিকে মাছ ধরতে গিয়ে বিকেলে তিনটের সময় ফিরবার পথে একজন অসুস্থ ইউরোপীয়ান লোকের সাক্ষাৎ পেল। শঙ্কর তাকে স্টেশনঘরে বিছানায় (চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৪-৬) শুইয়ে জল ও খাবার দিল। রাত জেগে তার সেবা করল। তার নাম ডিয়েগো আলভারেজ, জাতিতে পোর্তুগিজ। সে শঙ্করকে হিরের খনির খোঁজ করার অভিজ্ঞতার কথা বলল। সে এবং একজন ইংরেজ সঙ্গী জিম কার্টার দুজনে মিলে চার মাস ধরে হিরের খনির সন্ধান করেছিল।
অরেঞ্জ নদী পার হয়ে একটা কাফির বস্তির মোড়লের অসুস্থ মেয়েকে আলভারেজ হোমিওপ্যাথিক ওষুধ দিয়ে সুস্থ করে তুলেছিল, এর বিনিময়ে সেই মোড়ল একটা সাদা পাথর দিয়েছিল-আসলে সেটা ছিল হিরে। তাদের হিরের সন্ধান দিয়ে ‘বুনিপ’ বলে উপদেবতার (চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৪-৬) কথাও তাদের জানিয়েছিল। আলভারেজ আর কার্টার হিরের খোঁজে রওনা হয়। তাঁবু খাটিয়ে বেশ কিছুদিন কাটানোর পর বুনিপের হাতে জিম কার্টার মারা গেলে আলভারেজ ফিরে এসেছিল কাফির বস্তিতে। সেখান থেকে সভ্যজগতে পৌঁছে বুয়র যুদ্ধে আহত হয়েছিল। তারপর সুস্থ হয়ে চার-পাঁচ বছর পর পুনরায় হিরের সন্ধানে বের হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা শঙ্করকে জানানোর পর আলভারেজ একটি ম্যাপ শঙ্করকে দিল এবং হিরের খনির খোঁজ করতে বলল।

📖 চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৫: সারাংশ
আলভারেজ ও শঙ্কর হিরের খনির সন্ধানে যাত্রা করে। পথে যেতে যেতে হাজার হাজার জেব্রা, জিরাফ, হরিণ দেখে শঙ্কর অবাক। স্টিমার থেকে নেমে আবার ওরা পথ চলে। এখানে একজন ইউরোপীয় শিকারি সাহেবের সঙ্গে তাদের পরিচয়। হয়। সেইরাতে তারা তিনজনে গভর্নমেন্টের বাংলোতে কাটিয়ে পরের দিন সকালে শঙ্কর ও আলভারেজ রওনা দিল।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে তারা দূরবিস্তীর্ণ প্রান্তরের মধ্যে তাঁবু খাটায়। তাঁবুর কাছাকাছি একটি সিংহ চলে এলে তারা সেই সিংহটিকে গুলি করে মেরে ফেলে। একযোগে বেশ কতকগুলি সিংহ ডাকতে থাকে। মৃত সিংহটার সঙ্গী সিংহটাও তাদের তাঁবুর কাছে এসে প্রদক্ষিণ করে গর্জন করতে থাকে।
📖 চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৬: সারাংশ
শঙ্কর ও আলভারেজ কাবালো পৌঁছালে এক পোর্তুগিজ বদমায়েশ লোক শঙ্করের সঙ্গে জয়া খেলে তার সর্বস্ব কেড়ে নিতে চায়। কিন্তু শঙ্কর রাজি না হলে সে শঙ্করকে (চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৪-৬) মারতে চাইলে আলভারেজ বুঝতে পেরে তার দিকে বন্দুক উঁচিয়ে ধরে। পরে পোর্তুগিজ লোকটি অর্থাৎ আলবুকার্ক তাদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করে। সানকিনি পৌঁছে তারা ঘন জঙ্গলে প্রবেশ করে। সেখানে তাঁর খাটায়। এ অঞ্চলে অনেক বাওবাব গাছ আছে। এখানে তাদের সঙ্গে কয়েকজন গৌরবর্ণ দীর্ঘকায় লোকের দেখা হয়। এখানে এসে তারা এক অদ্ভুত জন্তুর নাম শোনে- ডিঙ্গোনেক্।

চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৪-৬: ৫টি Important প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: “কানে গেল সেই রৌদ্রদগ্ধ প্রান্তরের মধ্যে কে যেন কোথায় অস্ফুট আর্তস্বরে কী বলছে।”-
(ক) কার কানে অস্ফূট স্বরটি গেল?
(খ) কে, কখন আর্তস্বরটি শুনতে পেল?
(গ) সে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌছে কী দেখতে পেল?
(ঘ) আর্তস্বরে অস্ফূটে কিছু বলা ব্যক্তির পরিচয় দাও।
(ঙ) কে, কীভাবে তাকে সুস্থ করেছিল? ২+২+২+২+২
উত্তর: (ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসের চতুর্থ পরিচ্ছেদ থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশে শঙ্করের কানে অস্ফূট স্বরটি গেল।
(খ) শঙ্কর এক গ্রীষ্মের দুপুরে মাছ ধরে স্টেশনের দিকে ফেরার সময় বেলা তিনটে নাগাদ আর্তস্বরটি শুনতে পেল। কিন্তু কোন দিক থেকে তা আসছে, বোঝা যাচ্ছিল না। কিছুদূর এগিয়ে যেতেই তার চোখে পড়ল ইউকা গাছের নীচে সামান্য ছায়ায় কে একজন বসে রয়েছে।
(গ) সে অর্থাৎ শঙ্কর আর্তস্বরটি লক্ষ করে ইউকা গাছের কাছে গিয়ে একজন তালি দেওয়া, ছেঁড়া কোর্টপ্যান্ট পরা ইউরোপীয়ানকে দেখতে পেল। তার একমুখ লাল দাড়ি, বড়ো বড়ো চোখ, মুখের গঠন বেশ সুশ্রী। দেহও বেশ বলিষ্ঠ। তবে সম্ভবত রোগে, কষ্টে ও অনাহারে কাতর। লোকটি একটা গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বসেছিল। তার শীর্ণ মাথার টুপিটা গড়িয়ে একপাশে পড়েছিল।
(ঘ) আর্তস্বরে অস্ফূটে কিছু বলা ব্যক্তিটি আসলে একজন ইউরোপীয়ান, তার নাম ডিয়েগো আলভারেজ, জাতিতে পোর্তুগিজ। ১৮৮৮-১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে আলভারেজ ও তার ইংরেজ সঙ্গী জিম কার্টার হিরের খনির সন্ধানে বেরিয়েছিল। এরপর একদিন বুনিপের হাতে জিম কার্টার প্রাণ হারালে আলভারেজ বুনিপের সন্ধান করেও না-পেয়ে সভ্যজগতে ফিরে এসেছিল। আরও ৪-৫ বছর পরে সে পুনরায় আফ্রিকার রিখটারসভেল্ড পর্বতে হিরের খনির খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। এই সময়ই শংকরের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়।
(ঙ) শঙ্কর অসুস্থ আলভারেজকে প্রায় কাঁধে তুলে স্টেশনের ঘরে নিয়ে আসে। স্টেশনঘরে তাকে বিছানা পেতে শুইয়ে জল খাইয়ে সুস্থ করে তোলে। তারপর কিছু খাবার এনে দেয়, লোকটি একটু চাঙ্গা হয়ে ওঠে। কিন্তু শরীরের উত্তাপ বেশি, বহুদিনের পরিশ্রম ও অনাহারে শরীর একেবারে ভেঙে পড়েছে। নির্জন প্রান্তরে শঙ্কর একাই রাত জেগে তার সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলে।
প্রশ্ন ২: “এ জঙ্গলে মানুষ আসে না। যদি বাঁচতে চাও তো ফিরে যাও।”-
(ক) এই কথাগুলি কে, কাকে বলেছে?
(খ) ‘এ জঙ্গল’ বলতে কোন জঙ্গলের কথা বলা হয়েছে?
(গ) সেখানে মানুষ আসে না কেন?
(ঘ) কোন প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করা হয়েছে?
(ঙ) যাকে বা যাদের ফিরে যেতে বলা হয়েছে, তারা কি ফিরে গিয়েছিল? পরে তাদের কী পরিণতি হয়েছিল? ১+২+২+২+৩
উত্তর: (ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসের চতুর্থ পরিচ্ছেদ থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশে এই কথাগুলি কয়েকজন কাফির জাতির মানুষ জিম কার্টার ও আলভারেজকে বলেছে।
(খ) ‘এ জঙ্গল’ বলতে আফ্রিকার রিখটারসভেল্ড পর্বতের মধ্যে যে জঙ্গল আছে, সেই জঙ্গলের কথা বলা হয়েছে।
(গ) আফ্রিকার এই দুর্গম জঙ্গলে মানুষ আসে না কারণ, মানুষ এলে তারা আর জীবিত অবস্থায় ফিরে যায় না। হয় তারা ভয়ংকর হিংস্র সিংহের আক্রমণে মারা পড়ে, নয়তো দানবিক জন্তু বুনিপের হাতে মারা পড়ে। শোনা যায়, বুনিপ সিংহের চেয়েও শক্তিশালী ও ভয়ংকর। এদের পা-গুলি প্রায় ১১ ইঞ্চির মতো লম্বা এবং পায়ে তিনটি আঙুল থাকে। এদের হাতের নখ এত ধারালো যে, মানুষের শরীরের যে-কোনো জায়গায় বিশাল গর্ত করে মাংস তুলে নেয় এবং বুক ও পিঠ লম্বালম্বিভাবে চিরে ফালি করে দেয়। বিশেষ করে এই বুনিপের ভয়ে এই জঙ্গলে কেউ আসে না।
Ginni Golpo Previous Year Questions: গিন্নি গল্প Best PYQ (২০১৭–২০২৬) একত্রে | ICSE Class 9 Bengali
(ঘ) কাফিররা দেখেছে যে, এই জঙ্গলে যারা এসেছে, তারা জীবিত অবস্থায় ফিরে যায়নি। তাই আগেভাগেই প্রাণনাশের ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া প্রসঙ্গে কাফিররা, জিম কার্টার ও আলভারেজকে এই কথা বলেছে।
(ঙ) না, জিম কার্টার ও আলভারেজ (চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৪-৬) ফিরে যায়নি। একদিন সন্ধ্যার দিকে জিম কার্টার ও আলভারেজের বিশ্রাম নেওয়ার সময় হঠাৎই পাশের ঝোপ ও তালগাছকে নড়তে দেখে জিম কার্টার। সে ওই ঝোপের মধ্যে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই বুনিপের হাতে প্রাণ হারায়। আলভারেজ বুনিপের সন্ধান করে ব্যর্থ হয়ে শেষপর্যন্ত ফিরে আসে।

প্রশ্ন ৩: “শঙ্কর বন্দুক নিয়ে বিছানা থেকে নামবার চেষ্টা করতে বৃদ্ধ বারণ করলে।”-
(ক) বৃদ্ধ কে?
(খ) শঙ্কর কেন বন্দুক নিয়ে বিছানা থেকে নামতে যাচ্ছিল?
(গ) বৃদ্ধ তাকে বারণ করল কেন?
(ঘ) পরবর্তী ঘটনা সংক্ষেপে লেখো। ২+২+৩+৩
উত্তর: (ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসের পঞ্চম পরিচ্ছেদ থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশে ওই বৃদ্ধ ৬২ বছর বয়সি পোর্তুগিজ পর্যটক ডিয়েগো আলভারেজ, সে আফ্রিকায় হিরের খনির সন্ধানে বেরিয়েছিল।
(খ) তাঁবুর মধ্যে রাতে আলভারেজের ডাকে শঙ্করের ঘুম ভাঙার পর আলভারেজ জানায়, একটা জানোয়ার তাদের তাঁবুর পাশে ঘোরাফেরা করছে। তার নিশ্বাসের শব্দ পাতলা ক্যাম্বিসের পর্দার বাইরেও শোনা যাচ্ছিল। তাই শঙ্কর বন্দুক নিয়ে বিছানা থেকে নামার চেষ্টা করতে যাচ্ছিল।
(গ) বৃদ্ধ আলভারেজ শঙ্করকে বন্দুক নিয়ে বাইরে বেরোতে বারণ করল, কারণ এই অবস্থায় তাঁবুর বাইরে গেলে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আফ্রিকার হিংস্র জন্তু-জানোয়ার সম্পর্কে শঙ্করের তেমন কোনো ধারণা নেই। তাই এক হাতে বন্দুক থাকলেও বিপদের সময় সে কিছু করতে পারবে না। (ঘ) আলভারেজের কথায় শঙ্কর বাইরে বেরোয়নি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর একটা জন্তু হুড়মুড় করে তাঁবুর পর্দা ফুঁড়ে ভরে ঢোকার চেষ্টা করে। ঠিক সেইসময় আলভারেজ পরপর দুটো গুলি চালায়। গুলির শব্দে শঙ্করও বন্দুক তাক করে। সে ট্রিগার টেপার আগেই আলভারেজ আরও একবার গুলি করে। এরপর সব চুপ। ওরা টর্চ ফেলে দেখে একটা বিশাল সিংহ ঘরের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। আলভারেজের আরও দু’টি গুলির আঘাতে সিংহটি শেষপর্যন্ত প্রাণ হারায়।
প্রশ্ন ৪: “সাহেব পালাও, পালাও, ডিঙ্গোনেক! ডিঙ্গোনেক!”-
(ক) উদ্ধৃতাংশে কে, কাকে এই কথাগুলি বলেছে?
(খ) ডিঙ্গোনেক কী? সাহেব কে?
(গ) কোন প্রসঙ্গে এই কথাগুলো বলা হয়েছে?
(ঘ) এই ডিঙ্গোনেক দেখে সাহেব কী করেছিলেন?
(ঙ) এই ডিঙ্গোনেকের বর্ণনা প্রসঙ্গে আলভারেজের মনে কী প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল? ২+২+২+২+২
উত্তর: (ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ থেকে উদ্ধৃত আলোচ্য অংশটি একটি সোনার খনির সন্ধানী এক ইউরোপীয় জেমস মার্টিনকে তাঁর জুলু চাকররা বলেছিল।
(খ) ডিঙ্গোনেক হল একটি অদ্ভুত ধরনের জানোয়ার। সেটা প্রাগৈতিহাসিক যুগের ডাইনোসর জাতীয় সরীসৃপের মতো বিশাল দেহধারী প্রাণী। জুলুরা বলে, তার মাথা কুমিরের মতো, গন্ডারের মতো শিং, গলাটা অজগর সাপের মতো লম্বা ও দেহটা জলহস্তীর মতো, ল্যাজটা কুমিরের মতো। জল ছাড়া কখনও ডাঙায় এ জানোয়ারকে দেখা যায় না।
সাহেব বলতে জেমস মার্টিনের কথা বলা হয়েছে। তিনি আগে জেনারেল ম্যাথিউসের এডিকং ছিলেন, নিজে একজন ভালো ভূতত্ত্ববিদ ও প্রাণীতত্ত্ববিদও ছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি ছিলেন একজন প্রসপেক্টর।
(গ) ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে জেমস মার্টিন বলে একজন প্রসপেক্টর রোডেসিয়া অঞ্চলে বহুদিন ঘুরেছিলেন সোনার সন্ধানে। তিনি তাঁর ডায়েরিতে রোডেসিয়ার এই অজ্ঞাত জানোয়ারটিকে দূর থেকে দেখেছেন বলে উল্লেখ করে গিয়েছেন। কিন্তু তিনি জোর দিয়ে কিছু বলতে পারেননি। এর কারণ খুব ভোরের কুয়াশার মধ্যে কোভিরান্ডো হ্রদের সীমানায় জলাভূমিতে অস্পষ্টভাবে জানোয়ারটিকে (চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৪-৬) দেখেছিলেন। জানোয়ারটির ডাক ঘোড়ার চিহি ডাকের মতো। সেই ডাক শুনেই তাঁর সঙ্গের জুলু চাকরগুলি উর্ধ্বশ্বাসে পালাতে থাকে। পালাতে পালাতেই তারা এই কথাগুলো বলেছিল।
লালু গল্পের SAQ: Important সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | ICSE Class 9 Bengali
(ঘ) ডিঙ্গোনেক ওই জানোয়ারটার জুলু নাম। দু-তিন বছরে এক-আধবার দেখা দেয় কি না দেয়, কিন্তু সেটা এতই হিংস্র যে তার আবির্ভাব সে দেশের লোকের পক্ষে ভীষণ ভয়ের ব্যাপার। মিস্টার মার্টিন তাঁর ৩০৩ টোটা গোটা দুই উপর উপর ছুঁড়েছিলেন জানোয়ারটার দিকে। অতদূর থেকে তাক হয়নি, রাইফেলের আওয়াজে সেটা জলে ডুব দিয়েছিল।
(ঙ) ডিঙ্গোনেকের বর্ণনা প্রসঙ্গে শঙ্কর আলভারেজকে প্রশ্ন করে যে, সে এই জানোয়ারটা দেখেছে কি না। প্রশ্নটার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ধর্ষ ও নির্ভীক, দুঁদে ও অব্যর্থলক্ষ্য আলভারেজ চমকে শিউরে ওঠে। সে যেন ভয় পেয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সে যেন নিজের অজ্ঞাতসারেই চারিপাশের জনমানবহীন ঘনজঙ্গল ও রহস্যেভরা দুরারোহ পর্বতমালার দিকে একবার চেয়ে দেখল, কোনো কথা বলল না। যেন এই পর্বত-জঙ্গলে বহুকাল পরে এসে অতীতের কোনো বিভীষিকাময় পুরানো ঘটনা ওর স্মৃতিতে ভেসে উঠেছে, যে স্মৃতিটা ওর পক্ষে প্রীতিকর নয়।

প্রশ্ন ৫: “শঙ্করের উত্তর শুনে পর্তুগিজ বদমাইশটা রেগে লাল হয়ে উঠল।”-
(ক) শঙ্কর ও পর্তুগিজ বদমাইশটার পরিচয় দাও। তাদের কোথায় দেখা হয়েছিল?
(খ) বদমাইশ লোকটার চেহারার বর্ণনা দাও।
(গ) শঙ্করকে কে, কী খেলতে বলেছিল? শঙ্করের প্রতি তার ব্যবহার কেমন ছিল?
(ঘ) উভয়ের এই পরিস্থিতিতে কে, কীভাবে রক্ষা করল? ২+২+৩+৩ [ICSE: ২০১৯]
উত্তর: (ক) বিভূতিভূষণের লেখা ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসের নায়ক, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় যুবক হল শঙ্কর। সে অজপাড়াগাঁর মেধাবী, বুদ্ধিমান ও দুঃসাহসী একটি ছেলে। কাবালো নামে আফ্রিকার একটা এলাকার গুন্ডা প্রকৃতির পোর্তুগিজ হল আলবুকার্ক। সে পোকার খেলে, ডুয়েল লড়ে। কাবালোয় আসা নতুন লোকেদের সর্বস্বান্ত করে তাকে হত্যা করে সে।
কাবালো রেলস্টেশনের বাইরে পোর্তুগিজ আলবুকার্কের সঙ্গে শঙ্করের দেখা হয়েছিল। লম্বায় সে ছিল সাতফুটের কাছাকাছি। জোয়ান আলবুকার্কের শরীরের প্রত্যেকটি মাংসপেশি গুনে নেওয়া যায়, এমনই সুদৃঢ় চেহারা ছিল তাঁর।
(খ) ‘বদমাইশ’ লোকটি বলতে আলবুকার্কের কথা এখানে বলা হয়েছে। তার চেহারা যেমন কর্কশ, তেমনি কদাকার ও সুগঠিত ছিল তার দেহ। সব মিলিয়ে তার চেহারা দেখলেই মনে হয় সে একটি বদমাইশ লোক।
(গ) শঙ্করকে সে কৌশলে জুয়াখেলায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। শঙ্কর তার আমন্ত্রণে সাড়া না-দেওয়ায় আলবুকার্ক শঙ্করের পেটের কাছে রিভলভার ঠেকিয়ে বলে যে তার সঙ্গে রিভলভারের দ্বন্দ্বযুদ্ধ করতে হবে, না হলে মৃত্যু অনিবার্য। শঙ্কর নিজের বিপদ বুঝে আলবুকার্কের উদ্যত রিভলভারের সামনে, রিভলভারের যুদ্ধে রাজি হতে যাচ্ছিল। সেইসময় আলভারেজ আলবুকার্ককে তাক করে উইনচেস্টার রিপিটার বাগিয়ে ধরলে আলবুকার্ক রিভলভার ফেলে দেয় এবং হার স্বীকার করে।
লালু গল্পের প্রশ্নোত্তর Part 2 | ICSE Class 9 Bengali Important Questions & Answers
(ঘ) উভয়ের এই পরিস্থিতিতে আলভারেজ এসে শঙ্করকে রক্ষা করে। আলবুকার্ক জাতিতে পোতুর্গিজ। গুন্ডামি করা তার স্বভাব। নতুন লোক পেলেই তার সঙ্গে পোকার খেলায় আহ্বান জানায়। তারপর তার সর্বস্ব লুঠ করে নেয়। পোকার খেলতে রাজি না-হলে ওইসব লোকেদের (চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৪-৬) পিস্তলের গুলিতে প্রাণ হারাতে হয়। শঙ্করের সঙ্গেও সে সেইরূপ আচরণ করতে যাচ্ছিল, এমন সময় আলভারেজ তার মাথা লক্ষ করে উইনচেস্টার রিপিটারটা তুলে ধরে তাকে তার রিভলভারটা ফেলে দিতে বলে। তখন সে ভয় পেয়ে সেটা ফেলে দেয় এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বন্ধুত্ব পাতিয়ে তাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করতে আরম্ভ করে। অবশেষে সে হার স্বীকার করে বন্ধুত্ব পাতিয়ে প্রাণখোলা হাসি হেসে গল্প করতে শুরু করে।
🔗 আরও পড়ুন
চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ১-৩: সারাংশ, টীকা ও ৭টি Important প্রশ্নোত্তর
চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৭-১০: সারাংশ, টীকা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
আমাদের সব নোটসের দ্রুত আপডেট, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, নোটসের পিডিএফ পেতে যুক্ত হোন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে। সঙ্গে থাকবে ফাইনাল পরীক্ষার আগে অনলাইন মকটেস্টের সুবিধাও।
