চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ১-৩: সারাংশ, টীকা ও ৭টি Important প্রশ্নোত্তর | ICSE Class 9 Chander Pahar
চাঁদের পাহাড় ICSE Class 9 Bengali-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সহায়ক পাঠ। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শুধুমাত্র গল্প পড়লেই হয় না, বরং প্রতিটি অধ্যায়ের মূল ঘটনা, গুরুত্বপূর্ণ টীকা এবং সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই এই পোস্টে আমরা চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ১-৩ সারাংশ, গুরুত্বপূর্ণ চাঁদের পাহাড় টীকা এবং পরীক্ষার জন্য বাছাই করা ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর এক সঙ্গে আলোচনা করেছি।
প্রতিটি অধ্যায়ের সারাংশ সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে ছাত্রছাত্রীরা দ্রুত রিভিশন করতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ টীকাগুলি সংযোজন করা হয়েছে যাতে পরীক্ষায় ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের উত্তর লিখতে সুবিধা হয়। যারা Chander Pahar Notes, চাঁদের পাহাড় প্রশ্নোত্তর বা ICSE Class 9 Chander Pahar Study Material খুঁজছেন, তাদের জন্য এই নোটস অত্যন্ত কার্যকর হবে।
আমরা ধাপে ধাপে পুরো উপন্যাসটি কভার করব। প্রথমে অধ্যায়ভিত্তিক সারাংশ ও টীকা, তারপর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, চরিত্র বিশ্লেষণ এবং পরীক্ষার সাজেশন প্রকাশ করা হবে। তাই পরবর্তী পর্বগুলিতেও অবশ্যই নজর রেখো।
Ginni Golpo Class 9 Summary: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গিন্নি’ গল্পের সহজ সারসংক্ষেপ
চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ১-৩ সারাংশ
১ম পরিচ্ছেদ কাহিনি সংক্ষেপ: “শঙ্কর একেবারে অজ পাড়াগাঁয়ের ছেলে… তিনি নিয়ে যেতে পারেন।”
শঙ্কর অজ পাড়াগাঁয়ের ছেলে, তার মা তাকে ডেকে কিছু রোজগারের চেষ্টা করতে বলেন। সে ফুটবল খেলতে, সাঁতার দিতে, গাছে চড়তে, ঘোড়ায় চড়তে পটু। সে নির্জনে নদীর ধারে বসে থাকতে ভালোবাসে। ওয়েস্টমার্কের ভূগোলের বই-এ ‘মাউনটেন অফ দ্য মুন’ (চাঁদের পাহাড়) আরোহণের অদ্ভুত বিবরণ পারে যে, তাঁদের জামাই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে একেবারে পূর্ব আফ্রিকায় চলে গেছে। তাঁদের জামাইয়ের নাম প্রসাদদাস একে মুগ্ধ করে। সে নানা ধরনের অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতে থাকে। রামেশ্বর মুখুজ্যের স্ত্রী-র কাছে পত্র মারফত শঙ্কর জানতে পারে যে, তাদের জামাই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে একেবারে পূর্ব আফ্রিকায় চলে গেছে। তাদের জামাইয়ের নাম প্রসাদদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, তিনি শঙ্করকে চিঠি দিয়ে পূর্ব আফ্রিকার মোম্বাসায় আসতে বলেন, সেখানে রেলদপ্তরে তার একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেবেন এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে।
টীকা
কালপুরুষ: আকাশে অসংখ্য নক্ষত্রমন্ডলীর মধ্যে কালপুরুষ অন্যতম নক্ষত্র। পৌষ মাঘ মাসে সন্ধ্যের আকাশে পূর্ব দিকে বেশ কিছু নক্ষত্র দেখা যায়। নক্ষত্রমণ্ডলীকে একটি কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করলে একটা মানুষের মতো দেখায়। নোটের হাতে তিরধনুক, কোমরে বেল্ট এবং তা থেকে তলোয়ার ঝুলছে।
মার্কোপোলো: মার্কোপোলো একজন ইতালীয় পর্যটক। তাঁর জন্ম ১২৫৪ খ্রিস্টাব্দে এবং মৃত্যু ১৩২৪ খ্রিস্টাব্দে। ভেনিসের উচ্চবংশে তাঁর জন্ম। কুবলাই খাঁ-র দরবারে তিনি ১৭ বছর কাজ করেন।
প্রশ্ন ১: “কিন্তু তার একটি বিষয়ে অদ্ভুত জ্ঞান ছিল।”-(ক) উদ্ধৃতাংশে কোন বিষয়ে তার অদ্ভুত জ্ঞান ছিল? (খ) সেই জ্ঞানটা কীরকম? (গ) ‘তার’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? (ঘ) সেই জ্ঞানের গভীরতার কী পরিচয় পাওয়া যায়? ২+২+৩+৩
উত্তর: (ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাস থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশে ‘তার’ বলতে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শঙ্করের কথা বলা হয়েছে।
(খ) শঙ্করের ভূগোল বিষয়ের খুঁটিনাটি সম্বন্ধে অদ্ভুত জ্ঞান ছিল।
(গ) শঙ্করের প্রিয় বিষয় ভূগোল হওয়ায় সে বিষয়ে তার জ্ঞানও গভীর ছিল। তার বাতিক ছিল যত রাজ্যের ম্যাপ ঘাঁটা ও ভূগোলের বড়ো বড়ো বই পড়া। ভূগোলের অঙ্ক কষতেও সে খুব দক্ষ ছিল। আমাদের দেশের আকাশে যেসব নক্ষত্রমণ্ডলী দেখা যায়, তা সে প্রায় সবই চেনে-কালপুরুষ, সপ্তর্ষি, ক্যাসিওপিয়া, বৃশ্চিক। কোন মাসে কোনটা ওঠে, কোন দিকে ওঠে-ওর সব নখদর্পণে। আকাশের দিকে চেয়ে সে সঙ্গে সঙ্গে বলে দিতে পারে। আমাদের দেশের খুব বেশি ছেলের এ রকম জ্ঞান নেই।
(ঘ) ভূগোলের এইসব বিষয়ে জ্ঞানলাভ করার ফলে শঙ্করের মন উড়ে যেতে চায় পৃথিবীর দূর দূর দেশে দুঃসাহসিক কাজের মাঝখানে, লিভিংস্টোন, স্ট্যানলির মতো, হ্যারি জনস্টন, মার্কোপোলো, রবিনসন ক্রুশোর মতো। এর জন্যে ছেলেবেলা থেকে সে নিজেকে তৈরি করেছে। প্রদীপের মৃদু আলোয় একদিন ওয়েস্টমার্কের বড়ো ভূগোলের বইখানা পড়তে বসে।
প্রসিদ্ধ জার্মান ভূপর্যটক আন্টন হাউপ্টম্যান লিখিত আফ্রিকার একটা বড়ো পর্বত-মাউনটেন অফ দি মুন (চাঁদের পাহাড়) আরোহণের অদ্ভুত বিবরণ অংশটি তাকে মুগ্ধ করে। পড়বার সময় সে অনেকবার ভেবেছে সেও হাউপ্টম্যানের মতো একদিন ‘মাউনটেন অফ দি মুন’ জয় করতে যাবে। সেই রাত্রে সে একটা স্বপ্নে দেখে চারদিকে ঘনবাঁশের জঙ্গল, বুনো হাতির দল বাঁশগুলি ভেঙে দিচ্ছে। সে ও আর একজন মিলে একটা পর্বতে উঠেছে। চারদিকের দৃশ্য ঠিক মাউনটেন অফ দি মুনের মতো। সেই ঘন বাঁশবন, সেই পরগাছা ঝোলানো বড়ো বড়ো গাছ, নীচে পচাপাতার রাশ, মাঝে মাঝে পাহাড়ের খালি গা-আর দূরে গাছপালার ফাঁকে জ্যোৎস্নায় ধোয়া সাদা ধবধবে চিরতুষারে ঢাকা পর্বত শিখরটি। পরিষ্কার আকাশে দু-একটি তারা এখানে ওখানে। এখানেই তার গভীর ভৌগোলিক জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ২: “বাবা শঙ্কর, আমার জামাইয়ের খোঁজ পাওয়া গেছে অনেক দিন পরে।”- (ক) কথাগুলি কে বলেছে? তাঁর জামাইয়ের নাম কী? (খ) জামাই এতদিন কোথায় ছিলেন? কতদিন পরে তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়? (গ) শঙ্কর কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। (ঘ) এই জামাই সম্পর্কে কী জানা যায়? ২+২+৩+৩ [ICSE: ২০২০]
উত্তর: (ক) আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসের প্রথম অধ্যায় থেকে গৃহীত। উপন্যাসে কথাগুলি বলেছেন শঙ্করদের গ্রামের জনৈক ভদ্রলোক রামেশ্বর মুখজ্যে। রামেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের জামাইয়ের নাম প্রসাদদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
(খ) জামাই এতদিন পূর্ব আফ্রিকার মোম্বাসায় ছিলেন। সেখানে উগান্ডা রেলওয়ে হেডঅফিসের কনস্ট্রাকশন ডিপার্টমেন্টে চাকরি করতেন। প্রায় দেড় মাস পর তার খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল শঙ্করকে দেওয়া চিঠির মাধ্যমে।
(গ) শঙ্কর হল ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। সে উপন্যাসের নায়ক, একেবারে অজপাড়াগাঁ-র এফএ পাস করা চঞ্চল, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় এক যুবক। শঙ্কর একজন অসাধারণ ছেলে, সেই পরিচয় আমরা উপন্যাসে পাই। শঙ্কর পড়াশোনায় মেধাবী ছাত্র। খেলাধূলায় খুবই ভালো। হাইজাম্পে তার মহকুমাস্তরে প্রথম হওয়ার পদক আছে। সে সাঁতারে দক্ষ। এ ছাড়া ঘোড়ায় চড়া, গাছে ওঠা এমনকি বক্সিংও জানে সে। ফুটবলে তার মতো সেন্টার ফরোয়ার্ডে ভালো, ওই অঞ্চলে কেউ ছিল না। ভূগোলের মানচিত্রে তার দখল ছিল অসাধারণ। আকাশের গ্রহনক্ষত্র সে চিনতে পারত ভালো। শঙ্কর পাঞ্জা লড়াইয়ে ছিল পারদর্শী। শঙ্কর কর্তব্যপরায়ণ, বড়োদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, পরোপকারী ও দেশভক্ত ছিল।
(ঘ) উপন্যাস থেকে জামাই সম্পর্কে যা জানা যায় তা হল, তিনি পূর্ব আফ্রিকার মোম্বাসায় থাকতেন। সেখানে তিনি ইটগান্ডা রেলওয়ে হেডঅফিসের কনস্ট্রাকশন ডিপার্টমেন্টে চাকরি করতেন। লোকটি উদার প্রকৃতির। লেখাপড়া ভালো জানেন কিন্তু একরোখা স্বভাবের জন্য বেশিদিন কোনো একটি চাকরিতে টিকে থাকতে পারতেন না। ভবঘুরে মনোভাবের জন্য তিনি একবার বর্মা না কোচিন কোথায় চলে গিয়েছিলেন। পূর্ব আফ্রিকায় চলে যাওয়াটাও ঘটেছিল তাঁর বড়দার সঙ্গে মনোমালিন্যের ফলে।
Ginni Golpo MCQ: ICSE Class 9 Bengali ‘গিন্নি’ গল্পের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ
২য় পরিচ্ছেদ কাহিনি সংক্ষেপ: “চার মাস পরের ঘটনা… জিনিসপত্র নিয়ে সেখানেই চলে গেল।”
প্রায় আফ্রিকায় পৌঁছে উগান্ডার নির্জন বনে ঘুরে বেড়াত প্রতিদিন। রেলপথ নির্মাণ করার ভারপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার শঙ্করকে প্রার্থনা প্রতিদিন ওইভাবে ঘুরতে নিষেধ করেন। কারণ, অনেকে এই ঘাসের জমিতে পথ হারিয়ে ফেলে মারা গেছে ও উগান্ডায় রাতে সিংহের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে। এক দিন দুপুরবেলায় এক কুলিকে সিংহ ধরে নিয়ে যায় এবং তার কিছুদিন পর তিরুমল আপ্পা নামে এক মাদ্রাজি কেরানিকে সিংহ ধরে নিয়ে যায়। এরপরে সোমালি নামে একজন কুলি সিংহের হাতে প্রাণ হারায়। এরপর শঙ্কর একদিন সিংহ দেখে সকলকে জাগিয়ে তোলে। এতে কোনো কুলি আর কাজ করতে চায় না। শঙ্করকে আর কনস্ট্রাকশন ডিপার্টমেন্টের তাঁবুতে থাকতে হয় না, সে একটা স্টেশনমাস্টারের কাজ পেয়ে সেখানে চলে যায়।
টীকা
মাসাই কুলি: মাসাই হল পূর্ব আফ্রিকার একটি উপজাতি। পুরানো রীতি ও সংস্কৃতির জন্য এই উপজাতির মানুষরা পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এখানে কুলির কাজ করতে আসা সেই উপজাতিদের কথাই বলা হয়েছে।
অশ্বতর: অশ্বতর হল একধরনের চতুষ্পদ প্রাণী। এটি ঘোড়া ও গাধার সংমিশ্রণে হয়। এরা ভারী ওজনের জিনিস বহন করতে পারে। এদের খচ্চরও বলা হয়।
প্রশ্ন ১: “শোনো রায়, ওরকম এখানে বেরিও না।”- (ক) আলোচ্য অংশের বক্তা কে? সে কাকে এই কথা বলেছে? (খ) কোন প্রসঙ্গে এই কথা বলা হয়েছে? (গ) ‘রায়’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? (ঘ) কেন বের হতে নিষেধ করা হয়েছে? (ঙ) আলোচ্য পংক্তির মধ্যে বক্তার চরিত্র বিশ্লেষণ করো। ২+২+২+২+২
উত্তর: (ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাস থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশের বক্তা হলেন কনস্ট্রাকশন তাঁবুর ভারপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার। তিনি শঙ্করকে এই কথা বলেছেন।
(খ) বাঙালি যুবক শঙ্কর আফ্রিকায় গিয়ে রেলপথ নির্মাণের কাজ পায়। সে যখন-তখন তাঁবু ছেড়ে ঘুরতে বের হয়। যেদিকে যেত, পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণ সব দিকেই লম্বা লম্বা ঘাস, কোথাও মানুষের মাথা সমান উঁচু। শঙ্করের যখন-তখন বের হওয়ার ফলে তার জীবনে যে-কোনো সময় বিপদ আসতে পারে। তাকে সতর্ক করে দেওয়ার জন্য ট্রাকশন তাঁবুর ভারপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার সাহেব এই কথা বলেন।
গ) ‘রায়’ বলতে এখানে ভারতবর্ষ থেকে আগত বাঙালি যুবক শঙ্করের কথা বলা হয়েছে।
(ঘ) ইঞ্জিনিয়ার সাহেব শঙ্করকে তাঁবু থেকে বেরিয়ে এদিক-ওদিক যেতে নিষেধ করেছেন, দুটি কারণের জন্য। প্রথমত, এই ঘাসের জমিতে পথ হারিয়ে যেতে পারে, পথ হারিয়ে লোকে এসব জায়গায় মারাও গিয়েছে জলের অভাবে। উগান্ডা সিংহের দেশ। এখানে কুলিদের কথাবার্তা আর হাতুড়ি ঠোকার আওয়াজে সিংহ একটু দূরে চলে গেলেও যে কোনো সময় আক্রমণ করতে পারে।
ঙ) বক্তা ইঞ্জিনিয়ার সাহেব খুব ভালো মানুষ। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার দরুন তিনি জানতেন, আফ্রিকার অরণ্যসংকুল অঞ্চলে প্রকার ভয়ানক বিপদের শিকার হতে হয় পদে পদে। তাই তিনি শঙ্করের মতো ভাবুক প্রকৃতির ও রহস্যসন্ধানী ছেলেকে সাবধান করে দেন। তিনি একজন বিচক্ষণ ও কর্মপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন।

প্রশ্ন ২: “কথাটা শুনে সবাই চমকে উঠল।” -(ক) আলোচ্য অংশটি কার লেখা, কোন রচনার অংশ? (খ) ‘কথাটা’ কী? (গ) সবাই কেন চমকে উঠল? (ঘ) কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করা হয়েছে? (ঙ) এরপর কী ঘটল? ২+১+২+২+৩
উত্তর: (ক) আলোচ্য অংশটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খ) ‘কথাটা’ হল তিরুমল তাঁবুর মধ্যে কোথাও নেই। তার বিছানা শূন্য।
(গ) তিরুমলের সঙ্গীর এই কথাটার অর্থ হল তিরুমলকে সিংহ ধরে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলেছে, সে আর বেঁচে নেই। যার মৃত্যুর আশঙ্কায় ভীত হয়ে কুলিরা চমকে উঠল।
(ঘ) তিরুমল আপ্পা বলে একজন মাদ্রাজি কেরানির সঙ্গে শঙ্করের খুব বন্ধুত্ব হয়েছিল। তিরুমল শঙ্করের কাছে এয় করেছিল তার বাবা-মা-বোনের সম্পর্কে। হঠাৎ সিংহের ডাকে শঙ্করের ঘুম ভেঙে গেল, সে দেখল কুলিরা সব কুণ্ডলী শাতিয়ে গল্প করছে। তখনই শঙ্করের দৃষ্টি পড়ল তার পাশে তিরুমল গল্প করছিল, সে নেই। এরই মধ্যে তিরুমলের সঙ্গী এসে বলল যে, সে তার বিছানায় নেই। তখন আলোচ্য মন্তব্যটি করা হয়েছে।
(ঙ) এরপরে তিরুমলের খোঁজে কুলিরা আলো জ্বেলে লাঠি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। সব তাঁবুগুলি খোঁজ করা হল, নাম হরে চিৎকার করে ডাকাডাকি করল সবাই মিলে তিরুমলের কোনো সাড়া মিলল না। তিরুমল যেখানটাতে শুয়েছিল, সেখানটাতে ভালো করে দেখা হল। একটা কোনো ভারী জিনিসকে টেনে নিয়ে যাওয়ার দাগ মাটির ওপর সুস্পষ্ট। ব্যাপারটা ফুঝতে কারও বেশি দেরি হল না। বাওবাব গাছের কাছে তিরুমলের জামার হাতের খানিকটা অংশ পাওয়া গেল। ইঞ্জিনিয়ার সহেব বন্দুক নিয়ে আগে আগে চললেন, শঙ্কর তার সঙ্গে চলল। কুলিরা তাঁকে অনুসরণ করতে লাগল। সেই গভীর রাত্রে তাঁবু থেকে দূরে মাঠে চারদিকে অনেক জায়গা খোঁজা হল, তিরুমলের দেহের কোনো সন্ধান মিলল না। এবার আবার সিংহ গর্জন শোনা গেল-কিছু দূরে। মনে হল- “যেন এই নির্জন প্রান্তরের অধিষ্ঠাত্রী কোনো রহস্যময়ী রাক্ষসীর বিকট চিৎকার।”
প্রশ্ন ৩: “আফ্রিকা প্রথম বলি গ্রহণ করেছে- তরুণ হিন্দুযুবক তিরুমলকে। সে বলি চায়”-(ক) তিরুমল কে? ‘সে বলি চায়’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? (খ) ‘প্রথম বলি’ বলা হয়েছে কেন? তার আগের শিকার কে ছিল? (গ) তিরুমলের মৃত্যুর কথা শঙ্কর কীভাবে বুঝতে পারে? (ঘ) তিরুমল মারা যাওয়ার পর ক্যাম্পের অবস্থা কেমন হল? ২+২+৩+৩ [ICSE: ২০১৭]
(ক) তিরুমল হল একজন মাদ্রাজি তরুণ যুবক। সে আফ্রিকার মোম্বাসায় যেখানে রেলপথের কাজ হচ্ছিল, সেখানে কেরানির কাজ নিয়ে এসেছিল। শঙ্করের সঙ্গে তার খুব বন্ধুত্ব হয়েছিল।
‘সে বলি চায়’ বলতে আফ্রিকার কথা বলা হয়েছে। যে আফ্রিকা দেখতে সুন্দর; বাংলা দেশের বাবলা বনে ভরতি মাঠের মতো। সুন্দরের পাশাপাশি আফ্রিকার জঙ্গলের রূপ মৃত্যুসংকুল। যেখানে, সেখানে পদে পদে যেন মৃত্যুর ফাঁদ পাতা রয়েছে।
(খ) তিরুমলকে ‘প্রথম বলি’ বলা হয়েছে কারণ, আফ্রিকার সিংহ প্রথমে তাকেই শিকার করে এবং খেয়ে ফেলে। তার আগের শিকার ছিল একজন কুলি। মোম্বাসায় যে কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছিল, সেখানে সে কুলির কাজ করত।
(গ) তিরুমল শঙ্করের পাশেই ছিল, গল্প করছিল। হঠাৎ তাকে আর দেখতে পাওয়া গেল না। এমন সময়ে শোনা গেল সিংহের গর্জন। এক বৃদ্ধ মাসাই কুলি বলল যে, সিংহ মানুষ মারলে এমন গর্জন করে। এদিকে দেখা গেল তিরুমলের বিছানা শূন্য। তার নাম ধরে চিৎকার করে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া মিলল না। তিরুমল যেখানে শুয়েছিল, দেখা গেল, সেখানে মাটির উপর কোনো ভারী জিনিস টেনে নিয়ে যাওয়ার দাগ সুস্পষ্ট। এরপর বাওবাব গাছের কাছে তিরুমলের জামার হাতার খানিকটা টুকরো পাওয়া গেল। সুতরাং, সিংহ যে তিরুমলকে নিয়ে গেছে, এতে আর কোনো সন্দেহ রইল না।
Ginni Golpo SAQ 2026: ‘গিন্নি’ গল্পের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | ICSE Class 9 Bengali
(ঘ) তিরুমল মারা যাওয়ার পর ক্যাম্পে ভয়ের ছায়া নেমে এল। কারণ মানুষ-খেকো সিংহ অতি ভয়ানক জানোয়ার। সন্ধ্যা তো দূরের কথা, দিনের বেলাতেও তাঁবু ছেড়ে বেশিদূর যাওয়া নিরাপদ নয় একেবারেই। সন্ধ্যার আগেই তাঁবুর মাঠে নানা জায়গায় বড়ো বড়ো আগুনের কুণ্ড করা হয়েছিল। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব বন্দুক হাতে রাত্রে তিন-চারবার তাঁবুর চারদিকে ঘুরে ঘুরে বন্দুকের ফাঁকা আওয়াজ করতেন। এত সাবধানতা সত্ত্বেও প্রায় প্রতিদিনই একজন, দুজন কুলির মৃত্যুর খবর আসতে লাগল। এইভাবে আতঙ্কে তাদের দিন কাটছিল।

৩য় পরিচ্ছেদ কাহিনি সংক্ষেপ: “নতুন পদ পেয়ে উৎফুল্ল এমন শঙ্কর…. ওকে একটা বন্দুক দিলে।”
নতুন পদ পেয়ে শঙ্কর উৎফুল্ল মনে স্টেশনে নেমে দেখল কোনো কুলি নেই, সেই একমাত্র কর্মচারী। গুজরাটি স্টেশন মাস্টারের কাছে সে সমস্ত চার্জ বুঝে নিল। তিনি রাত্রে রুটি তৈরি করে শঙ্করকে খাওয়ার নিমন্ত্রণ করলেন। পরদিন ভূতপূর্ব স্টেশনমাস্টার চলে গেলেন। একদিন রাতে শঙ্কর দেখল একটা প্রকাণ্ড সিংহ দরজার কাছে নাক স্পর্শ করে দাঁড়িয়ে আছে। এখনে শঙ্কর কিছুদিন পরপর দু-বার প্রকাণ্ড হলদে খড়িশ গোখরো সাপ দেখে। একদিন গভীর রাতে আফ্রিকার হিংস্রতম সাপ ব্ল্যাক মাম্বা দেখতে পায়। দু-একদিন পর সে আর এক কুলি মিলে তাঁবুর চারপাশে কার্বলিক অ্যাসিড ঢেলে দেয় এবং ইঁদুরের গর্তগুলি বন্ধ করে দেয়।
প্রশ্ন ১: “সঙ্গে সঙ্গে সে ভয়ে ও বিস্ময়ে কাঠ হয়ে টর্চটা ধরে বিছানার ওপরই বসে রইল।”- (ক) কে বিছানার ওপর বসে রইল? (খ) কেন বসে রইল? (গ) যাকে দেখে বসে রইল, তার স্বভাব বা প্রকৃতি কীরূপ? (ঘ) পরের ঘটনা কী ঘটল? ২+৩+২+৩
উত্তর: (ক) আলোচ্য উক্তিটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসের তৃতীয় পরিচ্ছেদের অংশ। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বাঙালি যুবক শঙ্কর বিছানার ওপর বসে রইল।
(খ) একদিন অনেক রাতে অন্ধকার ঘরে হঠাৎ শঙ্করের ঘুম ভেঙে গেল। পাঁচটা ইন্দ্রিয়ের বাইরে যেন আর-একটা ইন্দ্রিয় মুহূর্তের জন্য জাগরিত হয়ে উঠে তাকে জানিয়ে দিল, সে ভয়ানক বিপদে পড়বে। অন্ধকারে ঘরের মধ্যে একটা কীসের অস্পষ্ট শব্দ শুনতে পেল শংকর। টর্চ জ্বেলে দেখল, দেয়াল ও তার বিছানার মাঝামাঝি জায়গায় মাথা উঁচু করে তুলেও টর্চের আলো পড়ার দরুণ সাময়িকভাবে আলো-আঁধার লেগে থতমত খেয়ে আছে আফ্রিকার ক্রুর ও হিংস্রতম সাপ- ব্ল্যাক মাম্বা। এই সাপ প্রত্যেক ছোবলে ১৫০০ মিলিগ্রাম তীব্র বিষ ক্ষতস্থানে ছড়িয়ে দিতে পারে। সেই ব্ল্যাক মাম্বা সাপটাকে দেখেই শঙ্কর ভয়ে বিছানার ওপরেই বসে রইল।
(গ) আফ্রিকার জঙ্গলের ক্রুর ও হিংস্রতম সাপ হল ব্ল্যাক মাম্বা। দেখতে কালো রঙের এবং লম্বায় অনেকটা বড়ো। এরা ঘরের মেঝে বা মাটি থেকে আড়াই হাত উঁচু হয়ে উঠতে পারে। এরা এতটা খাড়া হয়ে দাঁড়াতে পারে যে, ঘাড়ে ছোবল মারে। ব্ল্যাক মাম্বার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া মানে তার পুনর্জন্ম হওয়া।
(ঘ) শঙ্কর শক্ত করে টর্চটা ধরে রইল। সাপের চোখ দুটো জ্বলছে যেন দুটো আলোর দানার মতো। কী ভীষণ শক্তি ও রাগ প্রকাশ পাচ্ছে চাবুকের মতো তার কালো মিশমিশে সরু দেহটাতে। শঙ্কর বুঝল যদি তার হাত একটু কেঁপে যায় তবে যে-কোনো মুহূর্তে সাপটার চোখ থেকে আলো সরে যাবে-সেই মুহূর্তে ওই আলো-আঁধারি কেটে যাবে এবং তখনই সে আক্রমণ করবে। শঙ্করের হাত ঝিমঝিম করতে থাকে। আঙুল অবশ হয়ে আসে, কনুই থেকে বগল পর্যন্ত হাতের যেন কোনো সাড়া নেই। ঘড়িতে ঢং ঢং করে তিনটে বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শঙ্করের হাত কেঁপে উঠে পড়ে যায়-সামনের আলোর দানা দুটো নিভে যায়। বিদ্যুতের চেয়েও দ্রুত বেগে সে টেবিল থেকে একলাফ মেরে দরজার আগল খুলে বাইরে গিয়ে দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়।
প্রশ্ন ২: “পাঁচটা ইন্দ্রিয়ের বাইরে আর একটা কোন ইন্দ্রিয় যেন মুহূর্তের জন্যে জাগরিত হয়ে উঠে তাকে জানিয়ে দিলে যে সে ভয়ানক বিপদে পড়বে।”- (ক) কে, কীভাবে বিপদে পড়েছিল? (খ) পাঁচটি ইন্দ্রিয় কী কী? (গ) সে কীভাবে বিপদ থেকে মুক্ত হল? (ঘ) কখন মুক্ত হল এবং এরপর সে কী করল? ২+২+৩+৩ [ICSE: ২০১৭]
(ক) শঙ্কর একটি স্টেশনের স্টেশনমাস্টারের কাজ পেয়ে স্টেশন ঘরেই রাত্রিবাস করত। ঘোর অন্ধকার ঘরে একদিন করে তার হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। কীসের যেন একটা অস্পষ্ট শব্দ তার কানে আসে। টর্চ জ্বেলে দেখে দেয়াল ও তার উলানার মাঝামাঝি জায়গায় মাথা উঁচু করে তুলে বসে আছে আফ্রিকার ক্রুর ও হিংস্রতম সাপ-কালো মাম্বা, যার ছোবলে করের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী।
(খ) মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয়-চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক।
(গ) শঙ্কর বিপদে অবিচলিত থাকতে পারে। সে নিজের হাতের টর্চটির আলো সরাসরি সাপটির চোখে ফেলে রাখে। বঞ্চকর বুঝতে পারে সাপটি সাময়িক মোহগ্রস্ত হয়েছে। সে স্থির হয়ে আছে। সেই অবসরে শঙ্কর টেবিল থেকে এক লাফ মেরে দরজার আগল খুলে বাইরে বেরিয়ে এসে দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়।
Ginni Golpo Character Analysis: শিবনাথ পণ্ডিত ও আশুর চরিত্র বিশ্লেষণ | ICSE Class 9 Bengali
(ঘ) রাত তিনটের সময় মাম্বা সাপের কবল থেকে মুক্তি পেল শংকর। তারপর বাকি রাতটা সে স্টেশনেই কাটাল। ট্রেনের গার্ডকে বলল সব কথা। এরপর সবাই মিলে ঘরে গেল কিন্তু সাপের দেখা পাওয়া গেল না। একজন কুলির সাহায্যে সারাদিন ধরে সে ঘরের সর্বত্র ইঁদুরের গর্ত বুজিয়ে দিল। তারপর ঘরের আশেপাশে কার্বলিক অ্যাসিড ছড়িয়ে দিল। এরপর রেল কোম্পানি তাকে একটি বন্দুক দিল।

আশা করি চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ১-৩ সারাংশ, গুরুত্বপূর্ণ টীকা এবং প্রশ্নোত্তরগুলি তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে। First Test-এর আগে দ্রুত রিভিশনের জন্য এই ধরনের অধ্যায়ভিত্তিক নোট অত্যন্ত উপযোগী।
চাঁদের পাহাড় উপন্যাসের সম্পূর্ণ প্রস্তুতির জন্য আমরা ধারাবাহিকভাবে আরও অধ্যায়ের সারাংশ, টীকা, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, চরিত্র বিশ্লেষণ এবং পরীক্ষাভিত্তিক সাজেশন প্রকাশ করব। তাই Bengali Notes নিয়মিত অনুসরণ করো এবং এই পোস্টটি বুকমার্ক করে রাখো।
📖 পরবর্তী পর্বে আসছে:
• চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ৪-৭ সারাংশ ও টীকা
• শঙ্করের চরিত্র বিশ্লেষণ
• চাঁদের পাহাড়ের গুরুত্বপূর্ণ ৫ নম্বরের প্রশ্নোত্তর
তোমাদের যদি পরীক্ষার জন্য বিশেষ কোনো অধ্যায়, টীকা বা প্রশ্নোত্তর প্রয়োজন হয়, তাহলে কমেন্টে জানাতে ভুলো না।

One Comment