Lalu Golpo Class 9 Summary: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘লালু’ গল্পের সারাংশ, টীকা ও লেখক পরিচিতি | ICSE Class 9 Bengali (২০২৬)
Lalu Golpo Class 9 Summary বর্তমানে ICSE Class 9 Bengali পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘লালু’ গল্পটি তার হাস্যরস, দুষ্টুমি এবং মানবিক মূল্যবোধের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এই নিবন্ধে সহজ ভাষায় লালু গল্পের সারাংশ, লেখক পরিচিতি, গুরুত্বপূর্ণ টীকা এবং পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মূল বিষয়গুলি একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। আপনি যদি Lalu Golpo Summary, Lalu Golpo Class 9 Notes, Lalu Golpo ICSE বা লালু গল্পের সারাংশ খুঁজে থাকেন, তাহলে এই সম্পূর্ণ গাইডটি আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ করে তুলবে।
📖 Lalu Golpo Class 9 Summary: লেখক পরিচিতি
বাংলা সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী আখ্যায় ভূষিত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মতিলাল চট্টোপাধ্যায়, মাতা ভুবনমোহিনী দেবী। দরিদ্র পরিবারে জন্মানোর কারণে তাঁকে পিতামাতা ও ভাইবোনের সঙ্গে মামার বাড়ি ভাগলপুরে আশ্রয় নিতে হয়। সেখানেই তাঁর পড়াশোনার সূচনা। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলি ব্রাঞ্চ স্কুলে ভরতি হলেও পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে ভাগলপুরে চলে যান। সেখানে তেজনারায়ণ জুবিলি কলেজিয়েট স্কুলে ভরতি হন। সেখান থেকে ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে এন্ট্রান্স পাস করেন। ভরতি হন এফএ ক্লাসে। আর্থিক দৈন্যর জন্য পড়াশোনায় ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। এরপর কাজের সূত্রে জীবিকার জন্য বর্মা চলে যান।
ভাগলপুরে থাকতেই শরৎচন্দ্র সাহিত্যে হাত পাকান। বেশ কিছু গল্প-উপন্যাস এখানে থেকেই রচনা করেন। বর্মাতে গিয়েও শরৎচন্দ্র সাহিত্যসাধনার পাশাপাশি গানবাজনা ও অভিনয়েরও চর্চা করতেন। শরৎচন্দ্রের প্রথম মুদ্রিত রচনা ‘মন্দির’। ভাগলপুরে থাকাকালীন তিনি ‘কুন্তলীন’ গল্প-প্রতিযোগিতায় এটি পাঠান। কিন্তু লেখক হিসেবে তিনি নিজের নাম না-দিয়ে এক মামা সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম দেন। গল্পটি পুরস্কৃত হয়। শরৎচন্দ্র আজীবন বহু উপন্যাস, গল্প ও প্রবন্ধ লিখেছেন। তবে উপন্যাসের সংখ্যাই বেশি।

তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস হল-‘শ্রীকান্ত’ (চার খণ্ড), ‘চরিত্রহীন’, ‘দেনাপাওনা’, ‘নববিধান’, ‘শেষ প্রশ্ন’, ‘পথের দাবী’, ‘গৃহদাহ’ ইত্যাদি। বিখ্যাত কয়েকটি ছোটোগল্প- ‘মহেশ’, ‘অভাগীর স্বর্গ’, ‘মামলার ফল’, ‘হরিচরণ’, ‘একাদশী বৈরাগী’ ইত্যাদি। উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ-’তরুণের স্বপ্ন’, ‘স্বদেশ ও সাহিত্য’, ‘নারীর মূল্য’ ইত্যাদি। শরৎচন্দ্র রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর ‘পথের দাবী’ উপন্যাস সেকালের বিপ্লবীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। এ কারণে গ্রন্থটি ইংরেজ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত হয়।
তিনি হাওড়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতিও হয়েছিলেন। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ পুরস্কার দান করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে সাম্মানিক ডিলিট উপাধি দেয়। প্রাতিষ্ঠানিক এই পুরস্কারের চেয়েও বড়ো পুরস্কার হল তিনি আজীবন বাঙালি পাঠকদের অতি প্রিয় সাহিত্যিক ছিলেন ও থাকবেন। বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় তাঁর অনূদিত রচনাগুলি অত্যন্ত সমাদর লাভকরেছে। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি এই মহান কথাশিল্পী দেহত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন-
“যাহার সময় স্থান প্রেমের আসনে,
ক্ষতি তার ক্ষতি নয় মৃত্যুর শাসনে।
দেশের মৃত্তিকা থেকে নিল যারে হরি
দেশের হৃদয় তারে রাখিয়াছে ধরি।”
Ginni Golpo Class 9 Summary: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গিন্নি’ গল্পের সহজ সারসংক্ষেপ
📖 লালু গল্পের সারাংশ
দুষ্টু বুদ্ধিতে লালুর (Lalu Golpo Class 9 Summary) কোনো জুড়ি নেই। অবশ্য সে পড়াশোনায় ভালো। সে প্রতিবার ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করে। তবে এমনিতে সে কাউকে-ই রেয়াত করে না, এমনকি মাকে পর্যন্তও নয়। একবার তো রবারের সাপ দেখিয়ে মা-কে এমন বিপদে ফেলে যে তাকে সাত-আটদিন খুঁড়িয়ে চলতে হয়। মা-ও তাকে জব্দ করতে তার জন্য মাস্টার রাখতে সচেষ্ট হন। কিন্তু লালুর বাবার আপত্তিতে তা হয়নি। সেই থেকে লালু তার মায়ের ওপর বেজায় রেগে ছিল। তার শোধ নিতে লালু একদিন একটি কাণ্ড করে বসে।
ধনী গৃহস্থ হওয়ার সুবাদে লালুদের আজ তেতলা বাড়ি। মায়ের ইচ্ছে গুরুদেবকে বাড়িতে আনবেন। কিন্তু তিনি এতদূর আসতে রাজি নন। শেষে কাশী-ফেরত লালুর মা নন্দরানীকে আশীর্বাদ করে যাবেন বলে স্থির হল। নন্দরানীও গুরুদেবের খাতির-যত্নের সমূহ ব্যবস্থা করলেন। নীচের বড়ো ঘরে গুরুদেবের থাকার ব্যবস্থা হল।
দুর্যোগ মাথায় করে গুরুদেব এসে চালেন। নিজের হাতে গুরুর সেবাশুশ্রুষা করতে তৎপর হলেন। নিজের হাতে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করে গুরুদেবকে শয্যাগ্রহণ করতে বললেন। গুরুদেবও শিষ্যার আতিথ্যে পরম তৃপ্ত হয়ে আশীর্বাদ করে সুকোমল শয্যায় দেহ এলিয়ে দিলেন। গভীর রাত। হঠাৎ ঠান্ডা জলের স্পর্শে তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। পেটের ওপর জল পড়ছে। ভালো করে পেট মুছে শুলেন কিন্তু আধ মিনিটও গেল না আবার পেটের ওপর জল। আবার উঠলেন, এবার খাট সরিয়ে শুলেন, কিন্তু রেহাই মিলল না। বিছানাটাও ভিজে উঠেছে। আর সেখানে শোয়া যাবে না। গুরুদেব বিপদে পড়লেন-অজানা স্থানে দরজা খুলে বাইরে যেতেও ভয় হয়। আবার থাকাও বিপদ। ভাবলেন, ফাটা ছাত যদি ভেঙে পড়ে।

ভয়ে ভয়ে বারান্দায় এলেন। একটা আলো জ্বলছে বটে, তবে কেউ কোথাও নেই। বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। দাঁড়াবার উপায় নেই। গুরুদেব চেঁচিয়ে ডাকলেন কিন্তু কারও সাড়া মিলল না। শেষে নিরুপায় হয়ে একটা বেঞ্চিতে বসলেন। ঠান্ডায় কোঁচার খুটটা গায়ে জড়ালেন। একটু আরাম হল। কিন্তু বেশিক্ষণ নয়। হঠাৎ মশার উপদ্রব। প্রথম প্রথম নানাভাবে মশা তাড়ানোর চেষ্টা করলেন না-পেরে শেষে রণে ভলা দিয়ে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করলেন- “ব্যাটারা যত পারিস, কামড়া-আমি আর পারিনে।” আর বললেন- “সকাল পর্যন্ত যদি প্রাণটা থাকে তো এ দুর্ভাগা দেশে আর না। যে গাড়ি প্রথমে পাব সেই গাড়িতে দেশে পালাব।” স্মৃতিরত্ন গুরুদেব একসময় অচেতন প্রায় হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
ভোর হল। নন্দরানী আগেই উঠেছেন। সকালে গুরুদেবের ভালোরকম পরিচর্যা দরকার। তিনি নীচে নামলেন। দেখলেন দরজা খোলা। গুরুদেব আগেই উঠেছেন ভেবে একটু লজ্জিতও হলেন। ঘরের মধ্যে মুখ বাড়িয়ে দেখলেন-গুরুদেব নেই, ঘর লণ্ডভণ্ড। পূজার উপকরণাদি সর্বত্র ছড়ানো। তাহলে গুরুদেব গেলেন কোথায়? হঠাৎ এককোণে আলো-অন্ধকারে তাঁকে আবিষ্কার করা গেল। নন্দরানীর আহ্বানে স্মৃতিরত্ব চোখ মেলে তাকালেন। শিষ্যা ভয়ে, ভাবনায়, লজ্জায় কেঁদে ফেলে জানতে মইলেন- “ঠাকুরমশাই, আপনি এখানে কেন?”
Ginni Golpo Character Analysis: শিবনাথ পণ্ডিত ও আশুর চরিত্র বিশ্লেষণ | ICSE Class 9 Bengali
স্মৃতিরত্ন সবিস্তারে সব জানিয়ে বললেন- “নতুন বাড়ি করেচ বটে মা, কিন্তু ছাত কোথাও আর আস্ত নেই। সারা রাতের বৃষ্টি-বাদল বাইরে তো পড়েনি, পড়েচে আমার গায়ের উপর। খাট টেনে যেখানে নিয়ে যাই সেখানেই পড়ে জল।” তিনি আরও জানান, মশার কামড়ে তার গায়ের অর্ধেক রক্ত বোধহয় আর নেই। অশ্রু-সজল নন্দরানী বললেন- “কিন্তু বাবা, বাড়িটা যে তেতলা, আপনার ঘরের উপর আরও যে দুটো ঘর আছে, বৃষ্টির জল তিন-তিনটে ছাত ফুঁড়ে নামবে কী করে?” বলতে বলতে তার মনে হল এ নিশ্চয় লালুর কোনো শয়তানি বুদ্ধি।

নন্দরানী ছুটে গিয়ে বিছানা হাতড়ান। দেখেন মশারি বেয়ে তখনও ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ছে। ন্যাকড়ায় বাঁধা এক চাঙর বরফ। তখনও পুরোটা গলেনি। এবার লালুর ডাক পড়ল। চাকরদের বললেন- “বজ্জাতটাকে যেখানে পাবি মারতে মারতে ধরে আন।” লালুর (Lalu Golpo Class 9 Summary) বাবা নেমে এলেন। স্ত্রীর কান্ড দেখে হতবুদ্ধি হয়ে পড়লেন। তিনিও ব্যাপারটি বুঝতে পারলেন। গুরুদেবও ব্যাপারটা বুঝে নিজের নির্বুদ্ধিতায় হা হা করে হেসে ফেললেন।চাকররা এসে বলল- “লালুবাবু কোঠি মে নহি হ্যায়।” অন্যজন এসে বলল- “সে মাসিমার বাড়িতে বসে খাবার খাচ্ছে। মাসিমা তাকে আসতে দিলেন না।” এরপর লালু দিন-পনেরো আর বাড়ির ত্রিসীমানায় পা দেয়নি।
সভ্যতার প্রতি কবিতার সারাংশ, ব্যাখ্যা
Lalu Golpo Summary: গুরুত্বপূর্ণ টীকা
গল্পের মূলভাব
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘লালু’ (Lalu Golpo Class 9 Summary) গল্পে এক বুদ্ধিমান, দুষ্টু ও কৌতুকপ্রিয় কিশোরের স্বভাব অত্যন্ত হাস্যরসের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। গুরুদেবকে কেন্দ্র করে লালুর দুষ্টুমি যেমন পাঠককে আনন্দ দেয়, তেমনি গল্পটি পারিবারিক সম্পর্ক, আন্তরিক আতিথেয়তা এবং শিশুমনের চঞ্চলতার বাস্তব চিত্রও প্রকাশ করে। হাস্যরসের আড়ালে লেখক দেখিয়েছেন, শিশুদের দুষ্টুমি কখনও কখনও অন্যের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই মজার ছলে করা কাজেরও সীমা থাকা প্রয়োজন—এই শিক্ষাই ‘লালু’ গল্পের মূল বক্তব্য।

⭐ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- লালু কে?
- নন্দরানী কে?
- গুরুদেব কেন এসেছিলেন?
- বরফ কে রেখেছিল?
- গুরুদেব কেন ঘুমোতে পারেননি?
চাঁদের পাহাড় অধ্যায় ১-৩: সারাংশ, টীকা ও ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর | ICSE Class 9 Chander Pahar
📚 এই গল্প থেকে আরও পড়ুন
👉 লালু গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
👉 লালু MCQ
👉 লালু PYQ
👉 লালু চরিত্র বিশ্লেষণ
এক নজরে
লালু গল্পের লেখক কে?
‘লালু’ গল্পের লেখক হলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
লালু গল্পের প্রধান চরিত্র কে?
‘লালু’ গল্পের প্রধান চরিত্র হল লালু নিজেই।
নন্দরানী কে?
নন্দরানী হলেন লালুর মা।
গুরুদেব কেন লালুদের বাড়িতে এসেছিলেন?
গুরুদেব কাশী থেকে ফেরার পথে নন্দরানীকে আশীর্বাদ করতে লালুদের বাড়িতে এসেছিলেন।
লালু গল্পের মূল বিষয় কী?
গুরুদেবকে কেন্দ্র করে লালুর দুষ্টুমি যেমন পাঠককে আনন্দ দেয়, তেমনি গল্পটি পারিবারিক সম্পর্ক, আন্তরিক আতিথেয়তা এবং শিশুমনের চঞ্চলতার বাস্তব চিত্রই লালু গল্পের মূল বিষয়।

3 Comments